চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বারোঘরিয়া ইউনিয়নের মহানন্দা নদীতে ড্রেজিং করে দিনে-দুপুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। প্রশাসনের নাকের ডগায় এ অবৈধ কার্যক্রম চললেও অজ্ঞাত কারণে প্রশাসন নীরব থাকে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) বারোঘরিয়া ইউনিয়নের চামাগ্রাম বিচ্ছুপাড়ার সামনে মহানন্দা নদীতে ড্রেজিং করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন হচ্ছে দেখে এক গণমাধ্যমকর্মী চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মহসিন আলী মৃধাকে মুঠোফোনে বিষয়টি অবগত করেন।
তিনি তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন মর্মে গণমাধ্যমকর্মীর নিকট হতে সেই স্থানের ঠিকানা সংগ্রহও করেন। পরবর্তীতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানে কর্মকর্তা গেলেও ড্রেজিং করে বালু উত্তোলনকারীরা নিরাপদে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্র জানায়,বারোঘরিয়ার বালু ব্যবসায়ী আব্দুস সালামের লোকজনই সেখানে ড্রেজিং মেশিন নিয়ে বালু তুলছিলো। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, কয়েকদিন থেকেই এই এলাকায় বড় ধরনের ড্রেজিং মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের চেষ্টা করে যাচ্ছিল একটি মহল।
কে বা কারা এসব বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত, সে ব্যাপারে স্থানীয়রা জানাতে না পারলেও বুধবার সকালে একটি বালু বহনকারী কার্গো নৌকা (বোল গেট) এবং বড় একটি ড্রেজিং মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করে।
ড্রেজিং এর প্রচন্ড শব্দে এলাকার মানুষ ছুটে আসে নদীর ধারে। নদীর ধারে এসে দূর থেকে দেখতে পায় প্রায় ১০/১২ জন লোক ড্রেজিং মেশিন ও বোল গেট নিয়ে এসে বালু ভর্তির কাজ শুরু করেছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, এভাবে অবৈধভাবে মহানন্দা নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে দীর্ঘদিন থেকেই স্থানীয় একটি চক্রের সাথে বিভিন্ন এলাকার বালু ব্যবসায়ীরা। এক স্থান থেকে বালু উত্তোলন করার কারণে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয় এবং নদীতে গোসল করতে গিয়ে এসব গভীর গর্তে আচমকা পড়ে গিয়ে স্থানীয় ও পার্শবর্তী গ্রামের কয়েকজন ডুবে মারাও গেছে।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, এসব বালু ব্যবসায়ীদের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তি জড়িত থাকায় প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ তাদের ধরতে চেষ্টা করলেও পারেন না। অভিযানে রওয়ানা হলেই ওইসব অসাধু ব্যক্তিরা আগেই তাদের জানিয়ে দেয় এবং তারা দ্রুতই সরে পড়ে।
ফলে এসব অবৈধ বালু উত্তোলণ কারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায়। আবারও চেষ্টা করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার। এসব বালু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট অফিসের ওসব অসাধু ব্যক্তিরা সুবিধাভোগ করে থাকে বলেই বারবারই মহানন্দায় অবৈধভাবে ড্রেজিং মেশিন বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিচ্ছুপাড়ার একজন জানান, বুধবার সকালে বিচ্ছুপাড়ার সামনে মহানন্দায় ড্রেজিং মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করার সময় এলাকার কয়েকজন যুবক মেশিনের পাশে নৌকা নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে দেখি বারোঘরিয়ার বালু ব্যবনায়ী সালামের লোকজন ড্রেজিং মেশিন দিয়ে বালু তুলে বোল গেটে ভর্তি করছে।
স্থানীয় যুবকরা তাদেরকে বালু তুলতে বাঁধা দেয় এবং তারা চলে যেতে বাধ্য হয়। পরে প্রশাসনের লোকজনও সেখানে আসে বলেও জানান সুত্রটি। সুত্রটি আরও জানায়, বালু সালামের লোক মেশিনের ফোরম্যান সেলিম ও অন্যজন জুয়েলসহ ১০/১২জন লোক বালু উত্তোলন করছিলো।
এব্যাপারে বারোঘরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবুল খায়ের জানান, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে মহানন্দায় ড্রেজিং করে বালু উত্তোলন করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে। এভাবে বালু উত্তোলন অবশ্যই বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। তবে বুধবার কারা বিচ্ছুপাড়া এলাকায় বালু উত্তোলন করছিলো সে ব্যাপারে তিনি তাদের পরিচয় বলতে পারেন নি।
অবৈধভাবে মহানন্দা থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে তিনি প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করেন। এব্যাপারে বালু উত্তোলনের কথা স্বীকার করে বালু ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, রাবার ড্যাম প্রকল্পের জন্য বালু উত্তোলন করা হবে মর্মে আমার মেশিনগুলো ঠিক আছে কিনা, তা যাচাই করার জন্য মেশিন চালু করে বিচ্ছুপাড়া এলাকায় পরীক্ষা করছিলাম। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে মেশিন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ মহসিন আলী মৃধা বুধবার বিকেলে জানান, তাৎক্ষনিক আমরা সেই জায়গায় গিয়েছিলাম। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীরা পালিয়ে যায়। ফলে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি।
আব্দুস সোবহান তারেক/বার্তা বাজার/টি