১৯, আগস্ট, ২০১৮, রোববার | | ৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯

গোয়েন্দা নজরে উসকানিদাতারা

আপডেট: আগস্ট ৮, ২০১৮

গোয়েন্দা নজরে উসকানিদাতারা

নিরাপদ সড়কের দাবিতে গত ২৯ জুলাই থেকে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সহিংস করে তুলতে যারা বিভিন্নভাবে উসকানি দিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে সরকার। সরকারের নীতিনির্ধারণী মহল থেকে পুলিশ ও গোয়েন্দাদের এ বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এমন উসকানিদাতাদের চিহ্নিত করে তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে তৎপর হয়ে উঠেছে পুলিশ ও গোয়েন্দারা। চলছে গ্রেপ্তার অভিযান। উসকানিদাতাদের প্রত্যেকেই এখন গোয়েন্দাদের নজরে।
এদিকে পুলিশের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের পৃথক দুই মামলায় বেসরকারি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ শিক্ষার্থীর
দুদিনের রিমান্ড গতকাল মঞ্জুর করেছেন ঢাকা মহানগর হাকিমের আদালত।
গোয়েন্দা অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে রাজধানীসহ দেশজুড়ে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং এর মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে তৎপর ছিল একাধিক পক্ষ। এমন হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে তারা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টায় লিপ্ত ছিল; কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছদ্মবেশে নিজেদের লোক ঢুকিয়ে ব্যাপক নাশকতামূলক কর্মকা-ের পরিকল্পনাও করেছিল। এমন স্বার্থান্বেষী পক্ষগুলোই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় নানা ধরনের অপপ্রচার চালিয়েছিল শিক্ষার্থীদের অহিংস আন্দোলনকে সহিংসতায় রূপ দিতে। বিশেষ করে, ফেসবুক ও টুইটারেই অধিকাংশ অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানো হয়। পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দাদের অনুসন্ধান ও তদন্তে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
গত ২৯ জুলাই বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থীর প্রাণহানির ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে ৯ দফা দাবি আদায়ে। তাদের এ আন্দোলনের মোড়কে একাধিক পক্ষ বিভিন্ন সময় নানা রকম অপপ্রচার চালাতে থাকে ফেসবুক-টুইটারসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
গত ৪ আগস্ট জিগাতলায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনা চলাকালে উত্তরার একটি শুটিং স্পট থেকে ওইদিন বিকাল ৪টার দিকে ফেসবুক লাইভে আসেন অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ। লাইভে তিনি বলেন, জিগাতলায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করে একজনের চোখ উঠিয়ে ফেলা হয়েছে। আর ৪ জনকে মেরে ফেলা হয়েছে। আপনারা যে যেখানে আছেন, কিছু একটা করেন। তার এই আহ্বান মুহুুর্তের মধ্যে অনলাইনে ভাইরাল হয়ে যায়। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীরা তার এ তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হন। সেদিন রাতেই নওশাবাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। র‌্যাবের কাছে তিনি স্বীকার করেন, রুদ্র নামে একটি ছেলের কাছ থেকে ফোনে এমন তথ্য পেয়ে তিনি উত্তরায় বসে ফেসবুক লাইভে আসেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলা হয়। শুধু কাজী নওশাবা নন, একই দিন ফেসবুক লাইভে একই ধরনের অপপ্রচার চালান আরও অনেকেই। পাশাপাশি বিভিন্ন উস্কানিমূলক অপপ্রচার চালিয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালান। ফেসবুক ও টুইটারের এমন ৩শ আইডি শনাক্ত করেছে পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থা। এসব আইডিধারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকার বিভিন্ন থানায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে ৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আর গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৬ জনকে। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিসি (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেছেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হওয়ার পর অর্থাৎ গত ২৯ জুলাই থেকে গতকাল ৭ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকায় মোট ৩৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ভাঙ্চুর, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের কর্তব্যকাজে বাধা প্রদানের অভিযোগে ২৯টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে ৩৩ জনকে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে ৬টি মামলায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপ চলমান রয়েছে, চলছে গ্রেপ্তার অভিযানও। সাধারণ মানুষকে কোনও ধরনের অপপ্রচারে কান না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে ইতোমধ্যে ঢাকায় যে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন কাজী নওশাবা আহমেদ, আলোকচিত্রী শহীদুল আলম। এ দুজন ছাড়াও রয়েছেন মাহবুবুর রহমান নামের একজন, যিনি সাইবার মাহবুব নামেও পরিচিত। নিজেকে সাইবার এনালিসিস্ট হিসেবে পরিচয় দিতেন তিনি। সাইবার সেবাদানের কথা বলে মাহবুবুর রহমান প্রথমে একটি গ্রুপ খোলেন। পরে ওই গ্রুপে অপপ্রচার ও গুজব রটান। তিনি ফেসবুক লাইভ ও পোস্টসহ নানা বিভ্রান্তিমূলক কনটেন্ট শেয়ার করে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সহিংস করার অপচেষ্টা চালান। এছাড়া ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগে মো. শাখাওয়াত হোসেন ওরফে রাতুল সরকার ওরফে রিংকু নামে এক যুবককে আটক করেছে র‌্যাব-১। বিএনপিনেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে ফোনালাপের জেরে একটি মামলায় নউমি নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঢাকার ৩৫ মামলায় ৩৩ জন ছাড়াও চট্টগ্রাম ও নড়াইলে ২ মামলায় ১০ জন, পটুয়াখালীর একটি মামলায় এক শিক্ষিকাসহ সারা দেশে অন্তত ৩৮টি মামলায় ৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গতকাল র‌্যাব ১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম জানান, শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমধ্যমে গুজব ছড়ানোর বিষয়টি র‌্যাবের পর্যবেক্ষণে রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর দায়ে গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকা থেকে শাখাওয়াতকে আটক করা হয়।
এদিকে রাজধানীর শাহবাগে গত সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা হয়েছে। ঘটনার দিনগত রাতে শাহবাগ থানার এসআই রমজান বাদী হয়ে এ মামলা করেন। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান জানান, মামলায় সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং পুলিশকে গুরুতর আহত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে অভিযোগে কারো নাম ও সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।
ভাটারা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাহফুজুর রহমান মিয়া জানান, সোমবারের ঘটনায় তার থানায় একটি মামলায় এজাহারনামীয় ১৪ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে এজাহারনামীয় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, চারজন পলাতক। সোমবারের হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় বাড্ডা থানার ওসি মো. আজিজুর রহমান জানান, ৩৮৭ জনকে আসামি করা হয়। ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে সোমবার ঢাকার শাহবাগ থানায় আটক ছয় শিক্ষার্থী এবং তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় আটক আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৭ শিক্ষার্থীকে যাচাই-বাছাই শেষে গতকাল ছেড়ে দেওয়া হয়। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়ার পর অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানো প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. জিয়া রহমান গতকাল আমাদের সময়কে বলেন, বিভিন্ন সময় নানা ইস্যুতে একটি মহল গুজব ছড়াচ্ছে। এতে মানুষ বিভ্রান্তিতে পড়ছে। অনেকে গুজবে কান দিয়ে ভুল পথে হাঁটছে। এ অবস্থায় সরকারের উচিত, প্রচলিত আইনের কঠোর প্রয়োগ করা যেন কেউ গুজব ছড়াতে ভয় পায়, অনুৎসাহিত হয়। তিনি আরো বলেন, ইন্টারনেট মনিটরিং করতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সাইবার ক্রাইম উইং কাজ করছে। এসব উইংয়ের উচিত, গুজব সৃষ্টিকারীদের বিষয়ে আরও মনিটরিং করা। এটি দেশ ও সরকার সকলের জন্যই মঙ্গল।
চট্টগ্রাম ও নড়াইলে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা
চট্টগ্রাম ব্যুরো ও নড়াইল প্রতিনিধির পাঠানো খবরে বলা হয়, নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা এবং অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির অভিযোগে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে চট্টগ্রামে চারজন এবং নড়াইলে ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
চট্টগ্রামে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে আটক নয়জনের মধ্যে চারজনের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার কোতোয়ালি থানায় এ মামলা করা হয়। আসামিরা হলেনÑ ছাত্র ফেডারেশন চট্টগ্রাম নগর কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মারুফ হোসেন, রাজনৈতিক শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আজিউর রহমান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লায়েড ফিজিক্স বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইমদাদুল হক আশিক এবং মেট্রোপলিটন সায়েন্স কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল্লাহ আল শাহেদ। কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, গত সোমবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে থেকে নয়জনকে পুলিশ আটক করেছিল। তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ফেসবুকে ইভেন্ট খুলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা করেছে।
এদিকে নড়াইলে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের নামে ফেসবুক ও মেসেঞ্জারে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে দেওয়াসহ নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে ছয় শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন তার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। ওই ছয় শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা করে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। গত সোমবার দুপুরে নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেনÑ যশোরের কোতোয়ালি থানার বসুন্দিয়া এলাকার মহিবুল্লাহ গালিব (২০), যশোরের চান্দুটিয়া এলাকার রাকিব হাসান (২২), নড়াইলের নড়াগাতি থানার টোনা গ্রামের মুন্সী সাবের আহম্মেদ (২১) ও মিলন মোল্যা (২০), নড়াগাতি থানার মাউলী গ্রামের রেজা শেখ মিলন (২১) ও কালিয়া উপজেলার চাঁদপুর এলাকার হাসান সরদার (১৯)। আটকরা নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজসহ বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী। তাদের কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
২২ শিক্ষার্থী দুই দিনের রিমান্ডে
পুলিশের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের পৃথক দুই মামলায় বেসরকারি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ শিক্ষার্থীর দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল ঢাকার মহানগর হাকিম আবদুল্লাহ আল মাসুদ এই আদেশ দেন। গ্রেপ্তার আসামিরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইস্ট ওয়েস্ট, নর্থ সাউথ, সাউথইস্ট ও ব্র্যাকের ছাত্র। এর মধ্যে বাড্ডা থানা ১৪ ছাত্রকে এবং ভাটারা থানা ৮ ছাত্রকে আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে। বেলা ৩টার দিকে এজলাসে তোলা হলে স্বজনদের দেখে গ্রেপ্তার ছাত্ররা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের আইনজীবীরা আদালতের কাছে দাবি করেন, ক্লাস শেষে বাসায় ফেরার পথে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং তাদের থানায় নিয়ে নির্যাতন করেছে।
তবে বাড্ডা থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জুলহাস মিয়া রিমান্ড আবেদনে বলেন সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা আফতাবনগর মেইনগেটের রাস্তায় যান চলাচলে বাধা দেন। লাঠিসোটা, ইটপাটকেল দিয়ে রাস্তার গাড়ি ভাঙচুর করেন। পুলিশ বাধা দিলে পুলিশের ওপর আক্রমণ করেন আসামিরা। এ ঘটনার ইন্ধনদাতা এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি। পুলিশ আদালতকে জানিয়েছে, আসামিরা বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) গাড়িও ভাঙচুর করেছে। তারা বাড্ডা পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন ধরাতে গেলে পুলিশ টিয়ারশেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অন্যদিকে ভাটারা থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হাসান মাসুদ রিমান্ড আবেদনে বলেন, আসামিরা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার অ্যাপোলো হাসপাতাল ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় লোহার রড, লোহার পাইপ ও ইট দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করেন। এ ছাড়া ঘটনাস্থলের আশপাশের দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসার দরজা-জানালা ভাঙচুর করেন। পলাতক আসামিরা জঙ্গিগোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে বলেন, পুলিশ নিরপরাধ ছাত্রছাত্রীদের ধরে নিয়ে ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়েছে। তৃতীয় পক্ষের যারা ষড়যন্ত্র করেছে, তাদের পুলিশ গ্রেপ্তার না করে নিরীহ ছাত্রদের ধরে এনেছে।
এ ছাড়া আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে জানান, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেপ্তার করা ছাত্রদের পরীক্ষা চলছে। ৯ আগস্ট তাদের পরীক্ষা আছে। জামিন না পেলে তাদের শিক্ষাজীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
গ্রেপ্তার ২২ শিক্ষার্থীকে গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করার সময় অনেককেই রশি দিয়ে বেঁধে আনতে দেখা যায়।

সূত্র: দৈনিক আমাদের সময়