জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোরের স্মৃতি

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের মগটুলা ইউনিয়নের ধীতপুর এলাকায় জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় ১৩৪৫ সালের দিকে বসতি গড়েন। নির্মাণ করেন বেশ কিছু ভবন ও মন্দির। স্থাপিত মন্দিরের চূড়া থেকে স্থাপনের সময় জানা গেছে ২১ শে বৈশাখ ১৩৪৫ সন। তবে তারও বেশ কিছু বছর পূর্ব থেকে জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় জমিদারি স্থাপনের পরিকল্পনা শুরু করেন এ এলাকায়। মন্দির, বাস ভবন, নাচ মহল, খাজনা আদায়ের ঘর নির্মাণ সহ কাটেন বিশাল পুকুর।

জানা গেছে, গৌরীপুরের রামগোপালপুরের জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোর রায়ের একটি পরগনা ছিলো ঈশ্বরগঞ্জের ধীতপুর। যাতায়াত ও খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য ১৩৪৫ সালে ধীতপুর এলাকায় বসতি স্থাপন করেন ব্রজেন্দ্র কিশোর। মন্দির, বাসভবন, খাজনা আদায়ের ঘর, পুকুর সহ নানা আয়োজন করেন এখানে।

স্থানীয় ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ব্রজেন্দ্র কিশোর প্রায় ১৫ একর জমি নিয়ে স্থাপন করেন তার সাম্রাজ্য। তিনি নিয়মিত খাজনা আদায়সহ যাবতীয় কাজ চালাতেন এখানে। পরবর্তীতে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ায় জমিদারের কর্মচারিরা বসবাস করতেন জমিদারের সাম্রাজ্যে। জমিদারের খাজনা আদায়ের ঘর নিয়েই সেখানে নির্মিত হয় ধীতপুর উচ্চ বিদ্যালয় নামে একটি বিদ্যালয়। বর্তমানে পুরনো খাজনা আদায়ের টিনের ঘরটিতে চলছে বিদ্যালয়ের নানা কার্যক্রম। পেছনে নানা কারুকার্জ ময় মন্দির। এখানও নিয়ম করে এখানে চলে পূজা অর্চনা। তার পাশেই জমিদারের নাচ মহল, রাত্রি যাপনের কুঠির। তবে জরাজীর্ণ মন্দিরে পূর্জা আর্চনা করা হলেও বাকি ভবন গুলোর একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। তবে এর কারুকাজ গুলো যে কাউকে মুগ্ধ করবে।

ব্রজেন্দ্র কিশোর রায়ের মন্দিরের পেছনের কিছু অংশ সংস্কার করে তাতে বসবাস করেন জমিদারের কর্মচারি বংশের ছেলে দেবতোষ জন্দ্র সরকার। তিনি ধীতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে শিকতা করেন।

দেবতোষ চন্দ্র সরকার বলেন, আমার পূর্ব পুরুষ জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোর রায়ের কর্মচারী ছিল। সেই সূত্রে আমি এখনো এখানে রয়েছি। জমিদারি না থাকলেও জমিদারের নিদর্শন গুলো সংস্কারের অভাবে নষ্ট হচ্ছে। আরো হিন্দু পরিবার মিলে তারা এখানে পূজা আর্চনা করেন। এগুলো সংস্কার ও সংরনের দাবি জানান বসবাসরতরা। এছাড়া জমিদারের একটি বিশাল পুকুর স্থানীয় এক প্রবাশালী দখলে নেওয়ায় তা দখল মুক্ত করার দাবিও জানান স্থানীয়রা।

আরিফুল হক/বার্তা বাজার/অমি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর