ঢাকার কেরানীগঞ্জে দিশারী পরিবহন নামে একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার ২ আরোহী নিহত হয়েছে। এতে চালকসহ আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন রসুলপুর এলাকায় কালভার্টের উপরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো, বাস্তা ইউনিয়নের আব্দুর রশিদ এর স্ত্রী হামিদা বেগম (৫৫) ও একই গ্রামের সোহেল মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া (১৫)। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিহত হামিদা বেগম কদমতলী ইবনে সিনা হাসপাতালে চোখের ডাক্তার দেখিয়ে অটোরিকশা যোগে বাড়িতে ফিরছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী রাকিব হাসান জানান, আমি সিএনজিতে করে কদমতলি যাওয়ার সময় দুর্ঘটনা কবলিত অটোরিকশাটি দেখতে পাই। পরে কাছে গিয়ে বয়স্কা এক নারীকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পরে থাকতে দেখি। পাশেই ১৪-১৫ বছরের একটি মেয়ে মাথায় হাত দিয়ে বসে ছিলো। স্থানীয়দের সহায়তায় বয়স্কা সেই নারীকে আমি নিজেই সাজেদা হাসপাতালে নিয়ে যাই। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্যরা বাকিদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
মো. শহিদুল নামে আরও এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ইজিবাইকটি পাঁচজন যাত্রী নিয়ে কদমতলী থেকে কোণাখোলার উদ্দেশে যাচ্ছিল। রসুল্পুর এলাকায় কালভার্টের উপর উঠা মাত্রই রোহিতপুর থেকে ছেড়ে আসা গুলিস্তানগামী দিশারী পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ইজিবাইকটির পাঁচ যাত্রী গুরুতর আহত হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হামিদা বেগমকে উদ্ধার করে সাজেদা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ছাড়া আহত অন্য ব্যক্তিদের উদ্ধার করে কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সুমাইয়া আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি আহত তিন ব্যক্তিকে স্যার সলিমুল্লাহ মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দেওয়া হচ্ছে বলে জানা যায়।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ আবু ছালাম মিয়া জানান, এ ঘটনায় দিশারী পরিবহনের চালক মো. আলীকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া (ঢাকা মেট্রো ব ১৩-১৮৬২) বাসটি জব্দ করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং বাকিদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলার প্রস্ততি চলছে।
রানা আহমেদ/বার্তা বাজার/এসবি