গত শুক্রবার রাজধানীর তুরাগ এলাকা থেকে নাজমুল নামে এক তরুণের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে পুলিশ জানায়, মেট্রোরেলের প্রকল্প থেকে মালামাল চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তিনি মারা যান। পরে সেখানে তার মরদেহ রেখে সেখানেই পালিয়ে যান সঙ্গীরা।
মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে র্যাব-৪ এর অধিনায়ক মোজাম্মেল হক এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ঢাকাসহ আশপাশের জেলাগুলোতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ চলছে। এসব প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপকরণ সাধারণত খোলা জায়গায় স্তূপ করে রাখা হয়। একটি সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি দল কৌশলে সেই মালামাল চুরি করে। নিহত নাজমুলও এই সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সদস্য। চক্রটির আরও দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৪।
তিনি আরও বলেন, গতকাল সোমবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৪–এর একটি দল রাজধানীর পল্লবী এলাকায় অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। তাঁরা হলেন মো. আশিক (১৯) ও মো. হারুন (৪০)। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে চোরাই মালামালসহ একটি পিকআপ ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার হওয়া দু’জন র্যাবকে জানান, নিহত নাজমুল ছাড়াও রাসেল এবং শামীম নামের আরও দুজন তাঁদের সঙ্গে এ ধরনের কাজ (চুরি) করতেন। তাঁরা আরও জানান, তুরাগে বিদ্যুতের তার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই নাজমুলের মৃত্যু হয়। পরে তাঁরা নাজমুলকে সেখানেই রেখে পালিয়ে যান।
র্যাব থেকে জানানো হয়, নিহত নাজমুলের পরিবারের একটি সাধারণ ডায়েরি থেকে তারা জানতে পারে যে ১৬ সেপ্টেম্বর নাজমুল মিরপুরের বাসা থেকে কাজের সন্ধানে যাওয়ার পর নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তাঁর পরিবার পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে। পরদিন ১৭ সেপ্টেম্বর তুরাগ থানা এলাকা থেকে নাজমুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় তুরাগ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছে পুলিশ। নাজমুলের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে র্যাবের একটি দল ছায়াতদন্ত শুরু করে।
এই চক্রটি বেশ কিছুদিন ধরে মেট্রোরেলের মালামালসহ বেশকিছু জিনিসপত্র চুরি করে আসছিল। গ্রেফতারের পর বিষয়টি তারা স্বীকারও করেছে।
বার্তা বাজার/এসজে