লক্ষ্মীপুর জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা উপলক্ষে কেন্দ্রীয় নেতাদের জন্য অপেক্ষার সময় ১০৯ নেতাকর্মীকে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম সালাহউদ্দিন ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর ) দুপুরে পৌরসদরের জেলেপল্লি ও গণকবর এলাকার সড়কে এই মারধরের ঘটনা ঘটে। তবে মারধরের ঘটনার সাথে নিজেদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন সালাহউদ্দিন। পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তাহেরের ছেলে এই সালাহউদ্দিন।
সূত্র জানায়, দুপুরে শহরের একটি রেস্তোরাঁয় জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভায় যোগ দিতে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ঢাকা থেকে রামগঞ্জ হয়ে লক্ষ্মীপুরে আসার কথা ছিল। তাদের বরোণ করে নেওইয়ার জন্য যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অন্তত ১০ জন নেতা সড়কের পাশে অপেক্ষা করছিল। এ সময়ই সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়।
এসময় আহত হন, জেলা যুবলীগের সম্ভাব্য সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নুরুল আজিমসহ ১০ জন নেতাকর্মী।
সৈয়দ নুরুল আজিম বলেন, পরিকল্পিতভাবে তাঁদের ওপর হামলা হয়েছে। সালাহ উদ্দিনের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ জন মোটরসাইকেলে এসে এ হামলা চালান।
তবে সালাহ উদ্দিন বলেন, নুরুল আজিমের সঙ্গে তাঁর বাদানুবাদ হয়েছে। কাউকে মারধর করা হয়নি। নুরুল আজিম মিথ্যাচার করছেন।
হামলায় আহত অন্য ব্যক্তিরা হলেন: সদর (পূর্ব) থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রূপম হাওলাদার, কর্মী আবদুল মতিন, মো. তারেক, মো. জামাল উদ্দিন, আবদুল হাশেম, খুরশিদ আলম, আবুল কাশেম, মো. সবুজ ও মনির হোসেন। আহত ব্যক্তিরা সদর হাসপাতাল ও স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
জানা যায়, নুরুল আজিম আগে তাহের পরিবারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও আইনজীবী নুরুল ইসলাম হত্যা মামলার আসামি ছিলেন নুরুল। ওই মামলায় মেয়র তাহেরের বড় ছেলে এ এইচ এম বিপ্লবও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন। পরে তাঁদের সাজা মওকুফ করা হয়। নুরুল নিজেকে জেলা যুবলীগের সম্ভাব্য সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ঘোষণা করলে তাঁদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শিপন বড়ুয়া বলেন, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শহরজুড়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। মারধরের ঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বার্তা বাজার/এসজে