ধানখেতে পোকা দমনে ‘পার্চিং’ পদ্ধতি: সুফল পাচ্ছে চারঘাটের কৃষক!

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় দিনদিন সাড়া ফেলছে ধানখেতে ডাল পুঁতে পোকা দমন। এই পার্চিং পদ্ধতি অনুসরণ করায় কীটনাশক ব্যবহার কমছে। অপরদিকে লাভবান হচ্ছে এই উপজেলার কয়েকশো কৃষক।

খেতে পুঁতে রাখা গাছে ডাল কিংবা বাঁশের কঞ্চিতে পাখি বসে। কিছুক্ষণ পরপর উড়ে গিয়ে খেতের ক্ষতিকর পোকা ধরে খায় নানা জাতের পাখি। পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষার এই পদ্ধতিকেই ‘পার্চিং’ বলা হয়। উপজেলার সবখানে মাঠে মাঠে রোপা-আমনের খেতে কৃষকের পোঁতা ডালে পাখি বসে পোকা ধরার দৃশ্য চোখে পড়েছে।

উপজেলার চারঘাট ইউনিয়ন এলাকার চাঁদপুর কাঁকড়ামারী গ্রামের আদর্শ কৃষক আব্দুল লতিফ বলেন, ‘আমার জমির আশপাশের জমিগুলোতে কৃষকেরা প্রায়ই কীটনাশক প্রয়োগ করেন। কিন্তু আমি জমিতে কীটনাশক স্প্রে করি না। প্রায় ১০ বছর আগে এক কৃষি অফিসারের পরামর্শে প্রথম জমিতে ডালপালা পুঁতে দিই। তারপর দেখলাম জমিতে পাখি বসছে, আর ক্ষতিকর পোকা ধরে খাচ্ছে।’

তিনি বলেন,‘আমার দেখাদেখি এলাকার অনেক কৃষকে এখন জমিতে ধানের চারা রোপণের পরপরই ডাল পুঁতে দেন। এতে কীটনাশকের খরচ লাগছে না। বিষমুক্ত ফসল ফলছে।’

চারঘাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পোকার হাত থেকে রক্ষায় জমিতে ডাল পোঁতার বিকল্প নেই। একটি ধানখেতে নিয়ম অনুসারে ডাল পুঁতে দিলে ওই জমিতে আর কীটনাশক দিতে হয় না। বাইলাইনাশক ব্যবহারে কৃষকদের নিরুৎসাহিত ও জমিতে পার্চিং পদ্ধতি অবলম্বন করতে মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছেন।

এ বছর উপজেলায় রোপা-আমন চাষ হয়েছে ৫ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন কৃষকেরা। এ ছাড়া চলতি বছরে উপজেলায় ফসলের খেতে পোকামাকড়ের উপস্থিতি যাচাইয়ের জন্য কৃষকেরা হালকা জাল স্থাপন, আমন ধানের জমিতে অস্থায়ী আলোক ফাঁদ স্থাপন করেছেন। পার্চিং পদ্ধতি ফসলের পোকা দমনের জন্য ব্যয়হীন ও পরিবেশবান্ধব।

উপজেলার বামন দিঘী গ্রামের আব্দুল মান্নান বলেন, জমিতে পাখির আনাগোনা হলে ধানখেতে পোকা আক্রমণ ও রোগবালাই কম হয়। খাদক পাখি খেতের ডালপালায় বসে। পরে উড়ে গিয়ে ক্ষতিকারক পোকা ও পোকার ডিম খেয়ে ফেলে। ফলে কীটনাশক ছাড়াই পোকার আক্রমণ থেকে ধানগাছগুলো রক্ষা পাচ্ছে। এ পদ্ধতির প্রয়োগ সত্যিই ফলদায়ক ও লাভজনক।

চারঘাট উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সাইফুল্লাহ আহম্মদ বলেন, পার্চিং পদ্ধতি পরিবেশবান্ধব। কৃষকেরা জমিতে কীটনাশক স্প্রে করলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকে। তা ছাড়া আবাদে বাড়তি খরচ হয়। আর একটা কয়েকটা ডাল পুঁতে দিলে পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এখন কৃষকরাও সচেতন। অনেক কৃষক আমন ফসলের খেতে কীটনাশক পরিহার করে পোকা দমনে সহজ ও লাভজনক পার্চিং পদ্ধতি অনুসরণ করছেন।

নবী আলম/বার্তা বাজার/এসবি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর