কক্সবাজারে ইউপি ও পৌর নির্বাচন: নৌকা ৮, স্বতন্ত্র ৮

কেন্দ্র দখল, সহিংসতা, হত্যা, আটক ও প্রশাসনকে অবরোদ্ধ করে রাখার মধ্য দিয়ে শেষ হলো কক্সবাজারে ২টি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ভোট গ্রহণ। নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত হয়েছে ২জন আহত ছাড়িয়েছে ৫০।

এবারে জেলায় ২টি পৌরসভায় মেয়র পদে নৌকার দুই প্রার্থী বিজয় হয়েছে। ১৪টি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী বিজয় হয়েছে ৬ জন এবং স্বতন্ত্র ও অন্যন্য দল সমর্থিত প্রার্থী বিজয় হয়েছে ৮ জন।

সোমবার সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন জায়গায় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে দেখা গেলো ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। ভোটাধিকার প্রয়োগে নারী-পুরুষের ব্যপক উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিলো। মূলত এবারে ভোটারদের আগ্রহ নির্বাচনকে উৎসবমূখর পরিবেশের সৃষ্টি করে।

জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য মতে, এবারে নির্বাচনে মেয়র, কাউন্সিলর, ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংরক্ষিত আসন পদের জন্য ১০ সেপ্টেম্বর থেকে মাঠে নেমেছেন ১ হাজার ১৭৫ জন প্রার্থী। এর মধ্যে মেয়র ও ইউপি চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ৩৩ জন।

মহেশখালী পৌরসভায় ৬ হাজার ৯৭৩ ভোট পেয়ে টানা তৃতীয় বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন মকছুদ মিয়া। তার নিকটতম প্রার্থী নারিকেল গাছ প্রতিকে সরওয়ার আজম পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৪৫ ভোট।

প্রথমবারের মতো ইভিএম পদ্ধতিতে চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনে ২১ হাজার ৪৯০ ভোট পেয়ে নৌকার প্রার্থী ও পৌরসভার বর্তমান মেয়র আলমগীর চৌধুরী দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াবুল হক নারিকেল গাছ প্রতীকে পেয়েছেন ৯ হাজার ৭৬২ ভোট।

টেকনাফ উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে নির্বাচনে হোয়াইক্যং ইউনিয়নে ভোট চলাকালিন ইনচিপ্রাং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও লম্বাবিল এমদাদিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহন স্থগিত করা হয়েছে। এসময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়িতে হামলাও করা হয়েছে। স্থগিত দুটি কেন্দ্রের ফলাফল ব্যতিত জেলা জামায়াতের আমির সাবেক চেয়ারম্যান নূর আহমদ আনোয়ারী পেয়েছেন ৯ হাজার ৮২১ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদন্দ্বী নৌকার প্রার্থী আজিজুল হক পেয়েছেন ৭হাজার ৪৩৮ ভোট। স্থগিত ২ কেন্দ্রে ভোট রয়েছে মোট ৪ হাজার ৪২৫ ভোট।

হ্নীলা ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী পেয়েছেন ১০হাজার ২৬৬ ভোট, তার নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী আলী হোসাইন পেয়েছেন ৭ হাজার ২৭৩ ভোট। টেকনাফ সদরে বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউর রহমান জিহাদ পেয়েছেন ৯ হাজার ৪৬৮ ভোট, তার নিকটতম নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান মিয়া পেয়েছেন ৭ হাজার ৯৫২ ভোট, নৌকার প্রার্থী আবু ছৈয়দ পেয়েছেন ১ হাজার ৮৬৭ ভোট। সাবরাং ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান নূর হোসেন পেয়েছেন ১৪ হাজার ৭৪৬ ভোট, নৌকার প্রার্থী সোনা আলী পেয়েছেন ৯ হাজার ৮৭১ ভোট।

মহেশখালীর উপজেলার ৩ ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্টিত হয়েছে। নির্বাচন চলাকালে বেলা ১১টার দিকে মহেশখালীর কুতু্জোম ইউনিয়নে ৫ নং ওয়ার্ড পশ্চিম পাড়ায় জামিউস সুন্নাহ দারুল উলুম দাখিল মাদরাসা কেন্দ্রে নৌকার প্রার্থী শেখ কামাল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোশারফ হোসেন খোকনের সমর্থকদের মধ্যে গোলাগুলিতে আবুল কালাম নামের একজন নিহত হয়েছে। এই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছ আন্তত আরো ৫জন।

এই ৩ ইউনিয়নের মধ্যে মাতারবাড়ী ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী আবু হায়দার পেয়েছেন ৬ হাজার ১৩১ ভোট, তার নিকটতম নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী এনামুলহক পেয়েছেন ৫ হাজার ৯১৩ ভোট। হোয়ানক ইউনিয়নে নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী ওয়াজেদ আলী মুরাদ পেয়েছেন ৫ হাজার ৯০১ ভোট, তার নিকটতম নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী মীর কাশেম পেয়েছেন ৫ হাজার ৮২৭ ভোট। কুতুবজুম ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী শেখ কামাল পেয়েছেন ৮হাজার ৩৪৭ ভোট, তার নিকটতম নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী মোশারফ হোসেন খোকন পেয়েছেন ২ হাজার ৩৯৩ ভোট।

কুতুবদিয়ায় বড়ঘোপ ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডেরর পিলটকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে কেন্দ্র দখলকে কেন্দ্র করে আইনশৃংখলা বাহিনীর গুলিতে একই ইউনিয়নের গোলদারপাড়া এলাকার মৃত মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে আবদুল হালিম নামে একজনের নিহত হয়েছে। এসময় বিভিন্ন কেন্দ্রে আহত হয়েছেন আরো ৫০ জন। তিনি নৌকার প্রার্থী আবুল কালামের নির্বাচনি এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উক্ত ইউনিয়নের ফলাফল স্থগিত রয়েছে।

অপর ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী জাহাঙ্গীর সিকদার পেয়েছেন ৪২৬৯ ভোট, ব্যবধান ৪৯ ভোট। কৈয়ারবিল ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী আলমগীর মাতবর পেয়েছেন ১ হাজার ৮৩৫ ভোট, ব্যবধান-৭০ ভোট। লেমশীখালী ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী আকতার হোসেন পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৪১ ভোট, ব্যবধান- ২২৯ ভোট। উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল হালিম পেয়েছেন ৬হাজার ৫১ ভোট, ব্যবধান- ৩ হাজার ৮২১ ভোট। দক্ষিন ধুরুং ইউনিয়নে স্বতন্ত্রপ্রার্থী আলাউদ্দীন আল আজাদ পেয়েছেন- ৩ হাজার ৯৪৮ ভোট, ব্যবধান- ৪৮০ ভোট।

তবে স্থগিত ইউনিয়নের ৮টি কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী আনম শহীদ উদ্দীন ছোটন পেয়েছেন ৫ হাজার ৪৪৯ ভোট তার নিকটতম প্রতিদন্ডী প্রার্থী পেয়েছেন ৪১১০ ভোট।

পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নে ৮২৭২ ভোট পেয়ে বেসরকারী ভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন নৌকার প্রার্থী জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী। তার নিকটতম প্রতিদন্দ্বী বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মোসলেম উদ্দীন পেয়েছেন ৩৯৭৫ ভোট।

বার্তা বাজার/অমি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর