বিরল রোগে আক্রান্ত ফারিয়া বাঁচতে চায়

শরীরে শুকিয়ে যায় রক্ত, কথাটি শুনে যদিও অবাক হওয়ার কথা তবুও গত ১০ বছর ধরে বাস্তবে এমন টাই ঘটছে শিশুকন্যা মুছাম্মাদ ফারিয়া খাতুনের সঙ্গে।

যশোরের চৌগাছা উপজেলার চানপাড়া গ্রামের পশ্চিম পাড়ার পিতা জিল্লুর রহমানের কন্যা মুছাম্মাদ ফারিয়া খাতুন(১০)। শিশুটির বাবা একজন দিনমুজুর। জন্মের পর থেকেই বিরল রোগে আক্রান্ত এই এই ১০ বছরের শিশুটি। শরীরে শুকিয়ে যায় রক্ত, যার ফলে প্রতি মাসে দরকার ৩ ব্যাগ রক্ত।

শিশুটির মাতা মুছাম্মাদ শারমি আক্তার শিউলি বার্তা বাজার কে বলেন, শিশুকন্যা ফারিয়া খাতুন জন্মের পর থেকে বিরল রোগে আক্রান্ত। তার জন্মের পর থেকে প্রতি মাসে রক্ত দিতে হয়। বছর কয়েক আগে তার ২ ব্যাগ করে রক্ত দিতে হতো। বর্তমানে প্রতি মাসে ২-৩ ব্যাগ রক্ত না দিলে নিস্তেজ হয়ে যায় শিশুটি।

স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত ডাক্তার রা তাকে চিকিৎসা ও পরীক্ষা মাধ্যমে বলেন, তার পেটের বাম পাশের লিভারের নাড়ি পেচিয়ে ডান পাশে চলে গিয়েছে। যার ফলে শিশুটির পেট অস্বাভাবিক ভাবে ফোলা। ডাক্তার রা বলেন চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে থ্যালেসেমিয়া রোগ বলে। শিশুটির চিকিৎসায় ব্যায় হয় প্রতি মাসে ৫-১০ হাজার টাকা। যা জোগাড় করতেই বর্তমানে হিমশিম খাচ্ছে পরিবারটি। এদিকে উন্নত চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে এই ফুটফুটে শিশুটি।

যশোর শিশু হাসপাতালের ডাক্তাররা জানান, শিশুটিকে অপারেশন করতে হলে ঢাকা থেকে ডাক্তার এনে অপারেশন করতে হবে, এক্ষেত্রে খরচ পড়বে অর্ধ লক্ষাধিক টাকা। এদিকে অপারেশন খরচ জোগাড় না করতে পারায় হতাশাগ্রস্ত পরিবারটি। দিন যত যাচ্ছে শিশু ফারিয়ার শারীরিক অবস্থাও ততটা খারাপের দিকে যাচ্ছে।

এদিকে শিশুটির প্রতিমাসে রক্তের জেগান দিচ্ছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চৌগাছা শাখা। বাচ্চাটির উন্নত চিকিৎসার জন্য সহৃদয়বান ব্যাক্তিদের এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে পরিবার ও এলাকাবাসীরা।

এ্যান্টনি দাস(অপু)/বার্তা বাজার/অমি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর