১০, ডিসেম্বর, ২০১৮, সোমবার | | ১ রবিউস সানি ১৪৪০

হামলাকারীরা নয়, শিক্ষার্থীরা আসামি

আপডেট: আগস্ট ৮, ২০১৮

হামলাকারীরা নয়, শিক্ষার্থীরা আসামি

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন ঘিরে গত কয়েক দিনে যতগুলো মামলা হয়েছে তার সবগুলোতেই শিক্ষার্থীদেরকেই আসামি করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের সময় সাংবাদিকদের ওপর ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের হামলা চালানোর অভিযোগ থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করেনি পুলিশ।

আন্দোলনে হামলা ও সহিংসতা নিয়ে গতকাল পর্যন্ত রাজধানীর ১৬টি থানায় ২৯টি মামলা হয়েছে। মামলাগুলোর অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা অজ্ঞাত পরিচয় শিক্ষার্থী। তাদের অনেকের গায়েই স্কুল ও কলেজের ইউনিফর্ম ছিল। মামলার নথিতে আসামিদের সম্পর্কে আরও বলা হয়েছে, কিছু অজ্ঞাত পরিচয় যুবক ২৯ জুলাই বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলনে ঢুকে পড়ে সহিংস পরিস্থিতি তৈরি করে।

এদিকে আওয়ামী লীগ বা এর অঙ্গ সংগঠনের কোনো নেতাকর্মীকে আসামি না করার বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত ক্ষমতাসীন দলের কারো বিরুদ্ধে মামলা করার মতো সাহস আছে কোনো অফিসারের?’

গত ২৯ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন প্রথম কয়েকদিন শান্তিপূর্ণ থাকলেও ২ আগস্ট থেকে রাস্তায় আক্রমণের শিকার হয়েছে শিক্ষার্থীরা। গত শনিবার ধানমন্ডির জিগাতলা এলাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘাত হয়। শুধুমাত্র সেখানেই সেদিন শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়। হামলা থেকে রেহাই পায়নি পথচারীরাও। শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে হেলমেট পরা ব্যক্তিরা গুলিও চালায় সেদিন। এর পর দিন সায়েন্স ল্যাব এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভকারী ও সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের সঙ্গে লাঠি, রামদা ও লোহার রড নিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এছাড়াও আন্দোলন চলাকালে মিরপুর, উত্তরা, রামপুরা ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হয়। প্রায় সব ক্ষেত্রেই হামলাকারীদের মাথায় ছিল হেলমেট। হামলাকারীরা পথচারী থেকে শুরু করে যারাই তাদের ছবি বা ভিডিও করার চেষ্টা করেছে তাদেরকেই নির্বিচারে পিটিয়েছে, মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়েছে, ক্যামেরা ভেঙেছে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে প্রথম হামলা হয় গত ২ আগস্ট। সেদিন মিরপুরে পুলিশের সঙ্গে লাঠি নিয়ে একদল যুবক ছাত্রদের পেটায়। সেখানেও হামলাকারীদের অনেকেই ছিলেন হেলমেট পরা।

২৯টি মামলায় অন্তত ৪১ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ২২ জন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। মামলাগুলোর মধ্যে পাঁচটি হয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে। এসব মামলায় ছয় জন গ্রেপ্তার হওয়ার কথা গতকাল জানিয়েছেন ডিএমপির উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মাসুদুর রহমান।

সূত্র: বাংলা