দশমিনা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গছানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ খবিরুল বশার রিন্টু এবং ওই বিদ্যালয়ের সহকারী গ্রন্থাগারিক মোঃ মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে ভূয়া সনদপত্র দিয়ে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগে সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) দশমিনা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন স্থানীয় দেলোয়ার হোসেন খান এর ছেলে একেএম মোস্তাফিজুর রহমান।
ওই মামলায় বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ও বাশবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বর্তমান সভাপতি কাজী আনোয়ার হোসেনকে এসব ভূয়া জাল জালিয়াতি সার্টিফিকেটে চাকরি প্রদান ও এমপিও পেতে সহায়তার অভিযোগে তিন নম্বর আসামী করা হয়েছে। এ মামলায় গছানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক চার জন অবিভাবক সদস্যসহ নয় ব্যাক্তিকে স্বাক্ষী করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গছানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী গ্রন্থাগারিক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের বিএ পাস সনদপত্র তদন্ত করে জানতে পারেন ভূয়া এবং জাল জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা। চাকরিতে যোগদানের সময় মোঃ মোস্তফা কামালের দেওয়া সার্টিফিকেট যার রোল নম্বর ৪৪৯৯৬ রেজিঃ নম্বর ১৩৯১৪৮ শিক্ষাবর্ষ ১৯৯২-৯৩ সালের ওই সনদপত্রটি মোঃ ফরিদ আহম্মেদ এর নামে নথিভূক্ত রয়েছে। এছাড়াও মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের দারুল এহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরী এন্ড ইনফরমেশন সাইন্স সনদপত্রটি ভূয়া ও জাল জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা।
মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়েছে, গছানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মোঃ খবিরুল বশার রিন্টু দশমিনা উপজেলা সদরের বেগম আরেফাতুননেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০০৪ সালের জানুয়ারী থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ভূয়া ও জাল কম্পিউটার সনদপত্র দিয়ে কম্পিউটার শিক্ষক পদে চাকরি করে সরকারী টাকা আত্মসাত করেছেন এবং ২০১৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ভূয়া ও জাল জালিয়াতির মাধ্যমে বিএড সনদপত্র তৈরি করে গছানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে অদ্যবদি চাকরী করছেন।
ভূয়া সনদপত্র দিয়ে চাকরির নামে সরকারী বেতন ভাতা আত্মসাতের অভিযোগে সহায়তার অভিযোগে বাশবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বর্তমান সভাপতি ও ওই বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি কাজী আনোয়ার হোসেনকে মামলায় তিন নম্বর আসামী করা হয়েছে।
বাদী মামলার আবেদনে ভূয়া সনদপত্রের ফটোকপিসহ ১০ ধরনের সংযুক্তি উপস্থাপন করেছেন। মামলার কৌশলী এ্যাডভোকেট সেলিম মিয়া বলেন, দশমিনা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক মোঃ আশিকুর রহমান মামলাটি আদেশের জন্য কার্য তালিকায় নথিভূক্ত করেছেন।
এব্যাপারে গছানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ খবিরুল বশার রিন্টু বলেন, মামলার কথা শুনেছি এসব ব্যপারে আদালতের মাধ্যমে সবকিছুর জবাব দেওয়া হবে। সহকারী গ্রন্থাগারিক মোঃ মোস্তফা কামাল বলেন, আদালতেই সব কিছু উপস্থাপন করা হবে।
গছানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ও বাশবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের বর্তমান সভাপতি কাজী আনোয়ার হোসেন বলেন, অবৈধ সুবিধা না পেয়ে ১০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী গছানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ধ্বংশ করার জন্য ৫/৬ জনের একটি চক্র এসব মিথ্যা বানোয়াট মামলা মোকদ্দমা করে আমাদের ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি অর্থিক ও সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। তিনি আরো বলেন আইনানুগ ভাবে মামলা মোকাবেলা করা হবে।
বার্তা বাজার/এসবি