বরগুনার পাথরঘাটায় বিদ্যালয় ভবনের ৩টি শ্রেনিকক্ষ ও ছাত্রীদের ওয়াশরুম দখল করে সেখানে নিয়মিত থাকছেন প্রধান শিক্ষক মো. ফেরদৌস। উপজেলার জালিয়াঘাটা এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ওই প্রধান শিক্ষক অবশ্য গর্ব করেই বলেছেন, তিনি সেখানে ৬ বছর ধরে থাকছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির ৩ তলা ভবনের দ্বিতীয় তলার পশ্চিম পাশে ৩টি ক্লাসরুম ও ছাত্রীদের জন্য বরাদ্দ ওয়াশরুম দখল করে সপরিবারে বেশ আয়েশ করেই বাস করছেন প্রধান শিক্ষক মো. ফেরদৌস। কিছু বেঞ্চ একত্রিত করে খাট বানিয়ে সেখানে বিছানা পেতেছেন। আবার কিছু বেঞ্চে রেখেছেন ঘরের মালামাল। বারান্দার একপাশে রান্নার জন্য তিনি চুলাও বসিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানান, অনেকদিন ধরেই ক্লাসরুমে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে স্যার থাকছেন। নির্ধারিত কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী ছাড়া কেউই তাদের রুমে যেতে পারে না। ওয়াশরুমের সামনেই খাট পেতে স্যার থাকেন বলে অনেক ছাত্রী প্রাকৃতিক কাজে সাড়া দিতেও সেখানে যেতে লজ্জা পায়। আমরা কিছু বললে আমাদের মারধর ও টিসি দিয়ে দিবে বলে হুমকি দেন। তাই ভয়েও কিছু বলতে পারি না।
বিদ্যালয়টির একাধিক শিক্ষক পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানান, দীর্ঘ দিন ধরেই তিনি শ্রেণিকক্ষগুলো দখল করে বসবাস করছেন। তিনি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারে ম্যানেজ করেই এগুলো করেছেন। কেউ কিছু বললেও হয়রানির শিকার হতে হয়।
তবে ক্লাসরুম দখলের বিষয়টি স্বীকার করে সংবাদকর্মীদের হুমকি দিয়ে প্রধান শিক্ষক মো. ফেরদৌস বলেন, আমি সব কিছু ম্যানেজ করেই ছয় বছর ধরে থাকছি। আপনারা নিউজ করে যা করার করেন, দেখি আমার কী হয়।
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শাহাদাৎ হোসেন বলেন, আমি জানি উনি বাসা নিয়ে থাকেন। উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে বলেছি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখতে।
পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মাদ আল মুজাহিদ জানান, বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের শ্রেণিকক্ষ দখল করে পরিবার নিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম না। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ডেকে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।
বার্তা বাজার/এসজে