লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইদুল ইসলাম সরকার বাবু প্রতিবন্ধী না হঅয়েও নিজের নামে ভুয়া প্রতিবন্ধী কার্ড ইস্যু করেছেন। একবছর ধরে সরকারি এই ভাতাও তিনি ভোগ করছেন।
ছাত্রলীগের এই নেতা নিজের নামে কোনোও প্রতিবন্ধী কার্ড না থাকার কথা জানালেও উপজেলা সমাজসেব অফিস বলছে এক বছর ভাত ভোগের পর এখন টাকা উত্তোলন করছেন না মাইদুল।
জানা যায়, দামি বাইক হাঁকিয়ে চলাফেরা করা ছাত্রলীগের এই নেতার আর্থিক কোনো অস্বচ্ছলতাও নেই। সম্প্রতি সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়ার নিয়ম করলে তার ভাতা উত্তোলনের বিষয়টী জানাজানি হয়।
উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের বসিনটারী গ্রামের নজরুল ইসলাম সরকারের ছেলে মাইদুল ইসলাম সরকার বাবু ২০১৮ সালে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হন। মেয়াদোর্ত্তীর্ণ কমিটিএ দায়িত্বরত এই নেতা প্রতিবন্ধী কোটায় সরকারি চাকরি লাভের আশায় এমন অপকর্ম করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সূত্র জানায়, উপজেলা সমাজসেব কার্যালয় থেকে ৭৯৬ নাম্বার বই ইস্যু করে তিনি প্রতিবন্ধী ভাতা উত্তোলন করে আসছেন। সোনালী ব্যাংক আদিতমারী শাখায় তার সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর ৫২০১৯০১০১৯৬০৯। ওই ৭৯৬ নম্বর বইয়ের বিপরীতে মাইদুল ইসলাম সরকার দুই দফায় সর্বমোট ১১ হাজার ২৫০ টাকা উত্তোলন করেছেন।
আদিতমারী সমাজসেবা অফিসারের কার্যালয় ও সোনালী ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ৬ অক্টোবর সেখানে ৯ হাজার টাকা অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা হিসেবে জমা হয়। এই টাকা মাইদুল ওই বছর ২০ অক্টোবর উত্তোলন করেন। এরপর দ্বিতীয় দফায় গত ১৫ মার্চ একই খাত থেকে ভাতা হিসেবে আরও ২ হাজার ২৫০ টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসেবে জমা হয়। এই টাকা তিনি গত ২৩ মার্চ উত্তোলন করেন।
অভিযুক্ত মাইদুল ইসলাম সরকার বাবু বলেন, আমার নামে কোন প্রতিবন্ধী কার্ড নেই। এটি মিথ্যা অপপ্রচার। আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নষ্ট করতেই প্রতিপক্ষরা এমন অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ জরিপ সূত্রে জানা গেছে, মাইদুল ইসলাম দুর্ঘটনাজনিত শারীরিক মৃদু টাইপের প্রতিবন্ধী বলে ফরমে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ সংক্রান্ত চিকিৎসকের প্রত্যয়নে তিনি মাঝারি মাত্রার শারীরিক প্রতিবন্ধী বলে উল্লেখ করেছেন চিকিৎসক।
প্রত্যয়নটি প্রদান করেছেন আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) নূর আরেফিন প্রধান। ২০২০ সালের ২৩ জুন তারিখে প্রতিবন্ধিতা সংক্রান্ত সরকারি ফরমে স্বাক্ষর করেন আদিতমারী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রওশন আলী মণ্ডল।
আদিতমারী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রওশন আলী মণ্ডল বলেন, তার নামে প্রতিবন্ধী কার্ড হয়েছে, এক বছর তিনি ভাতাও নিয়েছেন। সম্প্রতি মাইদুল ভাতার টাকার উঠাচ্ছেন না। বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভাতার টাকা উত্তোলনের মাইদুল ইসলাম অনলাইনে নিবন্ধন করেননি।
বার্তা বাজার/এসজে