পটুয়াখালীর বাউফলে জেলার সর্বাধিক সংখ্যক ৭০টি মন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আগামী ১১ অক্টোবর থেকে পাঁচদিন ব্যাপী শুরু হবে এই উৎসব।
পূজার প্রস্তুতি চলছে জোরে শোরে। প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পাড় করেছ শিল্পীরা। তবে এবছরেও করোনার প্রভাব থাকায় উৎসবে কিছুটা ভাটা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মোট ৭০টি পূজা মন্ডপ অনুষ্ঠিত হবে। যা এ জেলার মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যক মন্ডপে পূজা। তবে উপজেলার নাজিরপুর ও চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের কোন পূজা অনুষ্ঠিত হবে না। উৎসবকে কেন্দ্র করে মন্ডপে মন্ডপে শিল্পীরা প্রতিমা তৈরীতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। ইতোমধ্যেই সিংহভাগ মন্ডপে প্রতিমা তৈরীর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দু’এক দিনের মধ্যেই রংয়ের কাজ শুরু হয়ে যাবে। এখন পূজা মন্ডপগুলোতে চলছে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বাউফল উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক সাংবাদিক অতুল চন্দ্র পাল জানান, সর্বজনীন শারদীয় উৎসব উদযাপন করার জন্য সকল ধরনের প্রস্তুতি চলছে। করোনার প্রভাব থাকায় সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজা উদযাপণ করার জন্য প্রতিটি মন্ডপের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক কোন শোভাযাত্রা করা যাবে না বলেও সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
বাউফল কালী বাড়ি পূজা মন্ডপের সভাপতি জীবন কৃষ্ণ সাহা এবং কালাইয়া বন্দর মদন মোহন জিউর আখড়া বাড়ি মন্দিরের সাধারন সম্পাদক উত্তম কুমার কর্মকার অভিন্ন সুরে বলেন, করোনার কারণে এবছরের পূজা অনারম্বরভাবে উদযাপণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বাউফল হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারন সম্পাদক অধীর রঞ্জন দাস জানান, রাজনৈতিক পরিবেশ সুন্দর ও সুষ্ঠু রয়েছে। করোনার কারণে এবছরের পূজাও সম্পূর্ণ অনারম্বরভাবে উদযাপিত হবে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপণ পরিষদ বাউফর উপজেলা শাখার সভাপতি সনজিৎ কুমার সাহা জানান, কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা মেনেই আমরা পূজা উদযাপণের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আল মামুন জানান, এরই মধ্যে আমাদের পুলিশ বাহিনী উপজেলার সকল পূজা মন্ডপে নজরদারি শুরু করে দিয়েছেন। আসা করছি কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দুর্গা পূজা উৎসব সম্পন্ন করতে পারবো।
এম.এ হান্নান/বার্তা বাজার/অমি