তিন উপায়ে ইভ্যালি থেকে টাকা ফেরত পেতে পারেন গ্রাহকরা

গ্রাহকের প্রতারণা ও টাকা আত্মসাতের মামলায় এখন কারাগারে রয়েছেন আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেল এবং চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন।

রাসেল ও নাসরিনের গ্রেফতারের পর শঙ্কায় রয়েছেন ইভ্যালিতে বিনিয়োগ করা শত শত গ্রাহক। ইভ্যালি থেকে টাকা কিভাবে ফেরত পাবেন সে প্রশ্ন সবার মনে। ইভ্যালিতে বিনিয়োগ করে আজ অনেকেই সর্বশান্ত।

তবে ইভ্যালির এমডি ও চেয়ারম্যান্ডের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন গ্রাহকরা। যেকোনো মূল্যে তারা তাদের টাকা ফেরত চান। অন্যথায় গণ-আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন তারা।

এদিকে ইভ্যালি থেকে টাকা ফেরত পাওয়ার তিনটি উপায় আছে বলে মত দিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। উপায়গুলো হলো- ক্ষতিপূরণ চেয়ে দেওয়ানি আদালতে মামলা দায়ের, দাবি আদায়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরে অভিযোগ ও প্রতারণার জন্য বাংলাদেশ প্রতিযোগী কমিশনে অভিযোগ। একইসঙ্গে তিনটি পথ অনুসরণ করতে হবে গ্রাহকদের।

বিশেষজ্ঞরা জানান, ই-কমার্স সংক্রান্ত আলাদা কোনো আইন না থাকায় বিদ্যমান আইনে তাদের সাজা এবং এই তিন উপায়ে টাকা ফেরত পাওয়ার জোর সম্ভাবনা আছে।

সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, টাকা ফেরত চেয়ে আদালতে আবেদন করতে হবে গ্রাহকদের। বিষয়টি আদালতের নজরে আনলে হয়তো আদালত বিবেচনায় নেবেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন বলেন, কেউ প্রতারিত হলে সে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা করতে পারে। তবে এর আগে প্রয়োজন একটি আইন করা। কারণ দেশে ই-কমার্স নিয়ন্ত্রণে আলাদা কোনো আইন নেই।

বাংলাদেশ প্রতিযোগী কমিশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম বলেন, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলেই বাজারে অস্বাভাবিক কম মূল্যে পণ্য বিক্রি করতে পারে না। প্রতিযোগী আইনে এ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ থাকায় তারা ইভ্যালির বিরুদ্ধে প্রাথমিক ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো গ্রাহকের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে নতুন করে আইনের আওতায় আনা যাবে বলে জানান তিনি।

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ইভ্যালির মোট দায় ৪০৭ কোটি টাকা। তারা গ্রাহকের কাছ থেকে ২১৪ কোটি টাকা ও মার্চেন্টদের কাছ থেকে বাকিতে ১৯০ কোটি টাকার পণ্য নিয়েছে। তাদের সম্পত্তির পরিমাণ ৪০৪ কোটি থাকার কথা থাকলেও তাদের সম্পদ আছে ৬৫ কোটি টাকার।

বার্তা বাজার/নব

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর