দীর্ঘ ২৭ বছর যাবত অকার্যকর হয়ে আছে ঢাকা কলেজের ছাত্র সংসদ। তবুও প্রতিবছর পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ছাত্র সংসদের ফি আদায় করছে ঢাকা কলেজ প্রশাসন।
শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্য বলছে, প্রতিবছর নিজ নিজ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের সব ধরনের ফি জমা দিতে নির্দেশ দেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ৷ এসব ফি জমা দিয়ে ফরম পূরণ করেই শিক্ষার্থীরা চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেন৷ চলতি বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা কলেজ অধ্যক্ষ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদের বেতনাদির চার্টে ছাত্র সংসদ ফি বাবদ ২৫ টাকার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
ঢাকা কলেজে বর্তমানে প্রায় ২০ হাজারের মত শিক্ষার্থী রয়েছে । শিক্ষার্থী প্রতি ২৫ টাকা হিসেবে প্রতি বছর এই খাতে ঢাকা কলেজের আয় হচ্ছে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা। দীর্ঘ ২৬ বছরে এ খাত থেকে কোটি টাকারও বেশি অর্থ আদায় করা হয়েছে।
অভিভাবকরা বলেছেন, বর্তমানে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন ছাত্র সংসদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ড থেকে। এতে দেশে নেতৃত্বশূন্যতা তৈরি হতে পারে বলেও ধারণা তাদের।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ দুই যুগের বেশি সময় ধরে ছাত্র সংসদের কার্যক্রম না থাকায় বিভিন্ন ভাবে বঞ্চিত হয়েছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অনেকেই জানেনা যে, ছাত্র সংসদ কি এবং এর কাজ কি।
তারা বলছেন, ভর্তি ও অন্যান্য পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় ছাত্রদের কাছ থেকে নিয়মিত নেওয়া হয় ছাত্র সংসদ ফি। সেটা খাতে ব্যয় করা হয় তা একমাত্র কলেজ কর্তৃপক্ষই ভালো জানেন।
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী নাজমুস সাকিব বার্তা বাজারকে বলেন দীর্ঘ ২৬ বছর যাবৎ ঢাকা কলেজে ছাত্র সংসদের কোনো ধরনের কার্যক্রম নেই। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি যে প্রতিটি ইয়ারেরর সেশন ফি তে ছাত্র সংসদ ফি নামে একটা খাত থাকে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এই টাকাটা নিয়ে তাহলে ব্যায় হচ্ছে কোথায়?
ঢাকা কলেজের ইংরেজী বিভাগের শিক্ষার্থী আমানুল্লাহ ফারাবী বার্তা বাজারকে বলেন, ঢাকা কলেজ এক সময় ছাত্র রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ছিল। জাতীয় রাজনীতিতে অনেক ছাত্রনেতা উপহার দেয়ার একটি ব্র্যান্ড ছিল “ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদ”। ১৮৪১ সালের ২০ নভেম্বর বাংলাদেশ তথা ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা কলেজের ছাত্র সংসদের রয়েছে একটি অনন্য ইতিহাস ঐতিহ্য। দীর্ঘ ২৬ বছর ছাত্রসংসদের কার্যক্রম নেই, এতে আমরা শিক্ষার্থীরা পাইনা ছাত্রবান্ধব কোন ছাত্রনেতা।
ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদের সর্বশেষ (১৯৯৩-৯৪) ভিপি হারুন-আর-রশীদ বার্তা বাজারকে বলেন, আমাদের সময় ছাত্র সংসদ বাবদ আদায়কৃত ফি ছাত্রদের কল্যাণে ব্যয় করা হতো। যেমন– ছাত্র সংসদের পক্ষ থেকে নবীন বরণ ,বার্ষিক খেলাধুলার আয়োজন করা হতো। এছাড়াও অসহায় গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের “ছাত্র সংসদ তহবিল” থেকে বৃত্তি প্রদান করা হতো। শিক্ষার্থীদের মেধাবিকাশের লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন খ্যাতে সেই অর্থ ব্যয় করতাম। তবে বর্তমানে সেই অর্থ কলেজ প্রশাসন কোন খাতে ব্যয় করছে তা আমার জানা নেই।
ছাত্র সংসদ ফি আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার বার্তা বাজারকে বলেন, ছাত্র সংসদের ফি তহবিলেই জমা আছে৷ সেখান থেকে একটি টাকাও কলেজের অন্য কোনো খাতে খরচ করা হয় নি।
উল্লেখ্য, ঢাকা কলেজ আর্কাইভ থেকে জানা যায়, ১৯৯০-৯১ ছাত্র সংসদের বার্ষিকী বিষয় সম্পাদক সুমন জাহিদ এর তথ্যমতে, ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদ সম্পর্কে সবচেয়ে পুরানো যে তথ্য পাওয়া যায় তা হলো, ‘৫০ এর দশকে আটটি, ‘৬০ এর দশকে সাতটি, ‘৭০ এর দশকে তিনটি, ‘৮০ এর দশকে মাত্র একটি এবং সর্বশেষ ‘৯০ এর দশকে তিনটি ছাত্র সংসদ গঠিত হয়। সর্বশেষ ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয় ১৯৯৩-৯৪ সালে যেখানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল থেকে হারুন-জাবেদ প্যানেল জয়ী হয়।
ওমর ফারুক/বার্তাবাজার/অমি