শিক্ষকের অবহেলায় সাংবাদিকের জীবিত স্ত্রীকে ভোটার তালিকায় মৃতু ঘোষনা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক মোঃ দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী রিনা বেগমকে মৃত্যু বলে চালিয়ে দিয়েছেন শাহবাজপুর দক্ষিণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বিল্লাল হোসেন। এর খেশারতে ওই গৃহবধূ করোনা ভ্যাক্সিনের নিবন্ধন করাতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার ঝড় উঠে।

জানা যায়, ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে নির্বাচন কমিশন অফিস থেকে দায়িত্ব পাওয়া এক শিক্ষক বাড়ি বাড়ি না গিয়ে নিজ বাসায় বসে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার কাজটি চালিয়ে গেছেন।

ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূর স্বামী দেলোয়ার জানান, শিক্ষকের দেয়া ভুল তথ্যের কারনে তার স্ত্রী জীবিত থাকা স্বত্বেও মৃত্যু দেখানো হয়েছে।

দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী রিনা বেগমের অভিযোগ, করোনাকালীন সময়ের পুর্বে স্মার্ট কার্ড বিতরণ করার সময় আমি উপস্থিত হলে স্মার্ট কার্ড বিতরণ কারীরা জানান ভুল বশত আপনার কার্ডটি আসেনি পরবর্তীতে কার্ড এলে আপনাকে জানানো হবে কিন্তুু পুরাতন এন আইডি কার্ড দিয়ে করোনা টিকার নিবন্ধন করতে গেলে কার্ডটি অকেজো দেখাচ্ছে। বিষয়টি তার স্বামীকে জানালে, তিনি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আজগর আলীকে অবগত করেন। নির্বাচন কর্মকর্তা জানান, বিল্লাল হোসেনের দেয়া ভুল তথ্যের কারনে ওই গৃহবধূকে মৃত্যু দেখানো হচ্ছে।

এছাড়াও একই গ্রামের মৃত আবদুল মোতালিবের স্ত্রী মনোয়ারার অভিযোগ, তার সাথে সাক্ষাৎ না করে বিল্লাল হোসেন মৃত্যু দেখিয়ে তথ্য দেয়ায় তার বয়স্ক ভাতা বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুল খোকন বলেন, বিল্লাল মাস্টার লোকজনকে তার বাড়িতে এসে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে বলতো যাহারা তার বাড়িতে যায়নি তাদের অনেকেরই এমন ভুল ত্রুটিগুলো হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক বিল্লাল হোসেনের সাথে একাদিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তা আজগর আলী জানান, শিক্ষক বিল্লাল হোসেন এর ভুল তথ্য প্রদানের কারণে এমনটি হয়েছে আমি বিষয়টি দেখছি।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোকারম হোসেন বলেন, বিষয়টি অতন্ত্য দুঃখজনক, আমি এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার সাথে কথা বলবো বিষয়টির সমাধানের জন্য।

এ বিষয়ে রিনা বেগমের মুঠোফোনে ফোন করা হলে তার স্বামী মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি অভিযুক্ত শিক্ষক বিল্লাল হোসেনকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য প্রয়োজনে আদালতে মামলা করবো।

এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা একরামুল সিদ্দিক বলেন, আমি বিষয়টি দেখছি।

এ বিষয়ে শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমির হোসেন বাবুল বলেন, বিষয়টি অতন্ত্য দুঃখজনক আমি এর সুষ্ঠ সমাধানের জন্য আমার পক্ষ থেকে যথাসাধ্য সহযোগিতা করবো।

আক্তারুজ্জামান/বার্তা বাজার/এসবি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর