ছাত্রলীগ সভাপতি পদের দৌড়ে বিবাহিত এবং মামলার আসামীরা

আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা দেয়া দেওয়া হবে। এরই মধ্যে ঢাকা জেলা কমিটি আহ্বানে প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত দিতে হিড়িক পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, যারা জীবনবৃত্তান্ত জমা দিচ্ছেন, তাদের মধ্যে বিবাহিত ও হত্যা মামলার আসামিরাও আছেন। গত ১২ সেপ্টেম্বর নতুন কমিটি ঘোষণার জন্য পদ প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত দেওয়ার আহ্বান জানান ঢাকা জেলা কমিটি।

ইতোমধ্যে ডজন খানেক সভাপতি প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। এর মধ্যে আসামি নাদিম, বিবাহিত শাহারিয়ার আল মামুন জিতু, অপ্রাপ্তবয়স্ক পাপ্পু, আরিফ, জিহাদ, মোবারক, মাসুদ, তানভীর, রবিন, লখিল ও রনি। তবে তানভীর ও রবিনের ছাত্রলীগে ক্লিন ইমেজ রয়েছে বলে জানা গেছে।

জানাগেছে, প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় চার্জশিটভুক্ত প্রধান আসামি নাদিম এবং পড়াশোনা বাদ দেওয়া বিবাহিত শাহারিয়ার আল মামুন জিতু এবার আশুলিয়া থানা ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী। দুই একদিনের মধ্যেই তারা জীবনবৃত্তান্ত জমা দেবেন বলে জনা যায়।

জানা যায়, ২০১৫ সালে থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান আশুলিয়ার সুবন্দি এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে নাদিম। এরপরের বছরই ২০১৬ সালের ২৫ আগস্ট শাহিন নামে এক যুবককে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে পরের দিন মামলা (নম্বর-১২৬) দায়ের করেন। েএ মামলায় নাদিম কয়েকমাস জেলও খাটেন। সম্প্রতি জামিনে বের হলেও বাদ দিয়ে দেন নিজের পড়ালেখা। কয়েক বছর ধরে নেই ছাত্রত্ব। নতুন কমিটি হওয়ার খবর পেয়েই চার্জশিটভুক্ত প্রধান আসামি থানা ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী।

অপরদিকে, জিতু ছিলেন শিমুলিয়া ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি বিবিএতে ভর্তি হলেও বিবিএতে ভর্তি হলেও বন্ধ করে দিয়েছেন। আশুলিয়ার নলাম এলাকায় এক বছর আগে গোপনে বিয়েও করেছেন তিনি। থানা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি করার খবর পাওয়ার পর থেকে তিনিও ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী।

ছাত্রলীগের একাধিক সাবেক নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, ‘বিবাহিত, ছাত্রত্ব নেই, কখনো ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত না ও চার্জশিটভুক্ত আসামিরা যদি ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসে তাহলে কমিটি বিতর্কের মধ্যে পড়ে যাবে। এছাড়াও গঠনতন্ত্রে স্পষ্ট করেই বলা আছে, বিবাহিত বা ছাত্রত্ব নেই এমন কেউ পদে তো দূরের কথা সদস্য হতে পারবে না। আর চার্জশিটভুক্ত হত্যা মামলার প্রধান আসামির সভাপতি পদে আসা সম্ভব নয়। ছাত্রলীগে ত্যাগী ও যোগ্য লোকদের নিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।’

এ ব্যাপারে চার্জশিটভুক্ত হত্যা মামলার প্রধান আসামি পদ প্রার্থী নাদিম জানান, ছয় মাস হল তিনি জামিন পেয়েছেন। সাবেক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। থানা ছাত্রলীগের সভাপতি পদের জন্য এখনও জীবনবৃত্তান্ত জমা দেননি। তবে জমা দেবেন।

হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক কারণেই সেই ঘটনা ঘটেছে। তবে নতুন করে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার কথাও জানান তিনি।

তবে শাহারিয়ার আল মামুন জিতুর নিজের প্রার্থীতার কথা স্বীকার করে বলেন, দু-একদিনের মধ্যেই জীবনবৃত্তান্ত জমা দেবেন। তবে পড়ালেখা বন্ধ থাকলেও নতুন করে ভর্তি হবেন বলেও জানান ওই নেতা।

ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্রলীগের কমিটিতে যোগ্য লোকদের নিয়ে আসা হবে। বিবাহিত বা ছাত্রত্ব নেই এমন কেউ এই কমিটিতে জায়গা পাবে না। আর কোনো হত্যা মামলার আসামির পদ বা সদস্য হওয়ার সুযোগও নেই বলে জানান তিনি।

বার্তা বাজার/এসবি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর