সাদা কাশফুলের পসরায় সেজেছে কেরানীগঞ্জ

ঝকঝকে নীল আকাশে ভেসে বেড়ানো সাদা মেঘের ভেলা আর কাশফুলের শুভ্র আভাই জানিয়ে দিচ্ছে প্রকৃতিতে এসেছে শরত। কেরানীগঞ্জের সারিঘটে দিগন্ত বৃস্রত মাঠজুড়ে এখন সাদা মেঘের ভেলা। শরতের এমন মোহনীয় সুন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন ভিড় করছেন অসংখ্য প্রকৃতি প্রেমি মানুষ।

শুভ্র কাশফুলকে সঙ্গীকরে কেউ বসে গল্প করছেন। কেউবা ফুলের সঙ্গে ছবি তুলছেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই আসছেন এই কাশবনে। দুপুরের খরতাপ খানিকটা ম্লান হয়ে বেলা গড়ালে। তখন লোকসমাগমে জমজমাট হয়ে ওঠে কেরানীগঞ্জের সারিঘাট এলাকা।

শুধু সারিঘাটই নয়, বুড়িগঙ্গা দ্বিতীয় সেতু পেড়িয়ে মাওয়া সড়কে যাওয়ার পথে দুই পাশে পড়বে কাশবন। এটি রাজউকের ঝিলমিল আবাসিক এলাকা। এখানকার বালু ভরাট করা খালি প্লটগুলো ছেয়ে আছে কাশফুলে। কেরাণীগঞ্জের হযরতপুরে কালিগঙ্গা নদীর বাঁকে বাঁকে কাশবন। বছিলা সেতু পার হয়ে আটিবাজার ছেড়ে কিছু দূর গেলে হযরতপুর। সেখান থেকে খেয়া নৌকা পার হলে কাশবন। ঢাকা থেকে মাওয়া সড়কে যেতে কুচিয়ামোরা এলাকায় ধলেশ্বরী নদী। সেখান থেকে নৌকা ভাড়া করে যেতে হবে একটু ভেতরে।

সেখানে নদীর দুই পাশে পাবেন কাশবন। মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ থেকে বছিলা সড়ক ধরে ওয়াশপুর। সেখানে বছিলা সেতুর পাশ দিয়ে হাতের বাঁয়ে চলে যাওয়া সড়কে গেলে দেখবেন কাশফুলের রাজ্য এবং পোস্তগোলা বুড়িগঙ্গা সেতু অতিক্রম করে ঢাকা-মাওয়া হাইওয়ে ধরে যেতে থাকলে দেখা পাওয়া যাবে কাশবন। এখানে কাশবনের পরিমান এতই বেশি যে পুরো এলাকা কাশফুলে সাদা হয়ে থাকে। এছাড়াও কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে দেখা মিলবে কাশফুলের। আর শরতের সৌন্দর্যে বিমোহিত হতে পারবেন এখানে।

ছবি: বার্তা বাজার।

রাজউকের ঝিলমিল আবাসিক এলাকায় দিগন্ত বৃস্রত মাঠজুড়ে কাশফুলের সৌন্দর্যের ছবি তুলছিলেন শিক্ষার্থী ইশা রহমান। তিনি জানান, শুভ্র কাশফুল গুলো বাতাসে দোল খাচ্ছে। এদিকে সাদা কাশফুল আর সাদা আকাশ মিশে একাকার হয়ে আছে। শরতের এই কাশফুলের সৌন্দর্যের দৃশ্য ফ্লাইওভাবের উপর থেকে অনেক সুন্দর লাগছে তাই ছবি তোলে রেখে দিচ্ছি।

শরতের কাশফুল দেখতে সারিঘাট এলাকায় পরিবার নিয়ে ঘুড়তে আসেন ব্যবসায়ী সুমন আহমেদে। তিনি জানান, স্ত্রী-সন্তান বায়না করলেও নানা ব্যস্ততার কারণে কোথাও ঘুড়তে যেতে পারি না। তাই পরিবার নিয়ে শরতের এই কাশফুল দেখতে চলে এলাম। এখানে এসে অনেক ভালো লাগছে। সাদা মেঘের ভেলায় কাশফুল যখন বাতাসের সঙ্গে দোল খায় কাশফুলগুলোর সৌন্দর্য তখন আরো বেড়ে যায়। যেদিকে চোখ পড়ে সেদিকেই সাদা। বাচ্চারাও খুব মজা করছে কাশফুলের সঙ্গে।

ছবি: বার্তা বাজার।

জানা যায়, প্রাচীনকাল থেকেই এ দেশের মাঠে-ঘাটে কাশফুল ফুটতে দেখা যায়। তবে পতিত এলাকায় কাশফুল বেশি ফোটে। শরতকালের নাগরিক কোলাহল আর যান্ত্রিক জীবনের নানা ব্যস্ততার মধ্যে শরতের কাশফুল দেখতে ছুটে আসে অনেক মানুষ। মাতোয়ারা করে নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলায়। কাশফুল যখন বাতাসের সঙ্গে দোল খায় কাশফুলগুলোর সৌন্দর্য তখন আরো বেড়ে যায়। মন হারিয়ে যায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কাছে। প্রকৃতির দেওয়া এই কাশফুল প্রতিবছর শরতকালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যায়। আর কাশফুলের এই সৌন্দর্যকে উপভোগ করতে মানুষ বিভিন্ন জায়গা থেকে ছুটে যায়। বিশেষ করে শিশুরা কাশফুলের মধ্যে ছুটে বেড়ায়, খেলা করে। বাংলাদেশের প্রায় সব অ লেই নদীর ধার, জলাভূমি, চরা ল, শুকনো এলাকা, পাহাড় কিংবা গ্রামের কোনো উঁচু জায়গায় কাশের ঝাড় বেড়ে ওঠে।

এছাড়া কাশফুলের বেশ কিছু ঔষধি গুণ রয়েছে। যেমন- পিত্তথলিতে পাথর হলে নিয়মিত গাছের মূলসহ অন্যান্য উপাদান দিয়ে ওষুধ তৈরি করে পান করলে পাথর দূর হয়। কাশমূল বেটে চন্দনের মতো নিয়মিত গায়ে মাখলে গায়ের দুর্গন্ধ দূর হয়। এছাড়াও শরীরে ব্যথানাশক ফোঁড়ার চিকিৎসায় কাশের মূল ব্যবহৃত হয়।

কাশফুল আগাছা হিসেবে বিবেচিত হলেও শুকনো কাশবন এর বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। চারা কাশবন একটু বড় হলেই এর কিছু অংশ কেটে গরু-মহিষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। কাশ দিয়ে গ্রামের বধূরা ঝাঁটা, ডালি, মাদুর ইত্যাদি তৈরি করে থাকে। ঘরের চাল, বাড়ির সীমানার বেড়া ও কৃষকের মাথার মাথাল তৈরিতেও কাশগাছ ব্যবহার করা হয়। গ্রামবাংলায় বিশ্বাস করা হয়, কাশফুল মনের কালিমা দূর করে। তাই শুভ কাজে কাশফুলের পাতা বা ফুল ব্যবহার করা হয়।

রানা আহমেদ/বার্তা বাজার/অমি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর