১৮, ডিসেম্বর, ২০১৮, মঙ্গলবার | | ৯ রবিউস সানি ১৪৪০

জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নজোট নেতাদের

আপডেট: আগস্ট ৮, ২০১৮

জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নজোট নেতাদের

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী দেওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ২০-দলীয় জোট নেতারা। শিক্ষার্থীদের ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনসহ চলমান পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল রাতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ প্রশ্ন তোলা হয় বলে জানান উপস্থিত নেতারা। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠকটি হয়।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে এতে ২০-দলীয় জোটের সমন্বয়কারী নজরুল ইসলাম খান, স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ, জামায়াতে ইসলামীর আবদুল হালিম, ইসলামী ঐক্যজোটের এমএ রকীব, আবদুল করীম, খেলাফত মজলিশের মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, জাগপার তাসমিয়া প্রধান, খন্দকার লুৎফর রহমান, এনডিপির খন্দকার গোলাম মূর্তজা, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এমদাদুল হক চৌধুরী, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) আহসান হাবিব লিংকন, মুসলিম লীগের এএইচএম কামরুজ্জামান খান, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, পিপলস লীগের সৈয়দ মাহবুব হোসেন, ইসলামিক পার্টির আবুল কাশেম, ডিএলের সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহিউদ্দিন ইকরাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন দেওয়া, আন্দোলনকারীদের ওপর চলমান নিপীড়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের গাড়িবহরে হামলা এবং সিলেটে সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে জামায়াতের প্রার্থী দেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা হয়েছে। তবে জোট নেতাদের সবাই আন্দোলনের পাশে থাকার পক্ষে একমত পোষণ করেন। আর জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সিলেটে জামায়াতের মেয়ারপ্রার্থী দেওয়া শোভনীয় হয়নি বলেও একমত পোষণ করেন সবাই। তবে এ সময় জামায়াতের প্রতিনিধি চুপ ছিলেন। একই সঙ্গে বার্নিকাটের গাড়িবহরে হামলার তীব্র নিন্দা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তি দাবি করা হয়।
এদিকে মন্ত্রিপরিষদে পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইনের খসড়া প্রসঙ্গে বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ আইনের মধ্যে অনেকগুলো অসঙ্গতি আছে। এক নম্বর অসঙ্গতি হচ্ছে, ট্রান্সপোর্ট মালিকদের সম্পর্কে খসড়া আইনে কোনো কিছু বলা নেই। দ্বিতীয় যদি কারো দুর্ঘটনায় মৃত্যু ঘটে, সেখানে বলা হয়েছে যদি হত্যার উদ্দেশ্য, নিয়মনীতির বাইরে গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনায় কেউ মারা যায় তার সর্বোচ্চ শাস্তি পাঁচ বছর। অথচ ছাত্রছাত্রীদের দাবি ছিল মৃত্যুদণ্ড। সর্বোচ্চ শাস্তির যে দাবি ছিল, সেটা খসড়া আইনে নেই। এতদিন বলা হলো, আমরা আইন আনছি, আইন করছি] এখন দেখা গেল, সে অবস্থাও দাঁড়িয়েছে কোটার মতোই। আরেকটা প্রতারণা।’ বিএনপি মহাসচিব সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘মন্ত্রিসভায় আইনের খসড়া অনুমোদন হয়েছে। এটা এখনো পাস হয়নি। আমরা আশা করব, এটা আইন হওয়ার আগে বিষয়টি আবার বিবেচনায় নিয়ে দেখবেন।
বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরে জোটের সমন্বয়কারী নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিশু-কিশোরদের ওপর পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীদের হামলা, আলোকচিত্রীদের ওপর নির্মম নির্যাতন, প্রবীণ আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তারে ২০ দল নিন্দা জানাচ্ছে।
যোগাযোগমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মিডিয়ার ওপর নানা ধরনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা জনগণের মতপ্রকাশের ওপর হস্তক্ষেপ বিবেচনা করে এ থেকে সরকারকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’ বৈঠকে মির্জা ফখরুল, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের নিন্দা জানিয়ে তা প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়।