২১, আগস্ট, ২০১৮, মঙ্গলবার | | ৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯

নড়াইলে রাস্তায় পুলিশের অভিযান

আপডেট: আগস্ট ৮, ২০১৮

নড়াইলে রাস্তায় পুলিশের অভিযান

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলে মেয়াদোত্তীণ ফিটনেস বিহীন যানবাহন বিরুদ্ধে রাস্তাঘাটে পুলিশের অভিযান শুরু পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ জসিম উদ্দিন (পিপিএম)

তিনি বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলনের মুখে বিশেষ ট্রাফিক সপ্তাহ ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: জাহিদুল ইসলাম, সহকারি পুলিশ সুপার (নড়াইল সদর সার্কেল) মো: মেহেদী হাসান সহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তার রাস্তায় অভিযান শুরু করেছে। প্রয়োজনে এ ব্যাপারে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাহায্য চাইব। এখন থেকে কেউ আর হয়রানির শিকার হবে না, আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায় জানান, বিআরটিএ সার্কেল সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল-যশোর জেলা নিয়ে বিআরটিএ সার্কেল। এ সার্কেল থেকে বাস, মিনিবাস, ট্রাক, পিকআপ, জিপ, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল মিলে এ পর্যন্ত প্রায় ৭৮ হাজার ৭৮৪টি যানবাহনের লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাস-ট্রাক রয়েছে ১৪ হাজার। এর মধ্যে পাঁচ হাজার গাড়ি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে এক যুগেরও বেশি আগে। বিআরটিএর হিসাবে, গত কয়েক বছর যানবাহনের ফিটনেস নবায়নের হার অস্বাভাবিকভাবে কমেছে। নতুন যানবাহনের মালিকরা গাড়ি বিক্রির সময় ভালো দাম (ভ্যালুয়েশন) পাওয়া নিশ্চিত করতে সব কাগজপত্র নবায়ন করলেও অধিকাংশ পুরনো যানবাহনের মধ্যে, বিশেষ করে বাস, মিনিবাস ও ট্রাক বছরের পর বছর ফিটনেস এবং রুট পারমিট ছাড়াই চলছে। তারা সিন্ডিকেটকে মাসোয়ারা দিয়ে টোকেন কিংবা স্টিকার নিয়ে রাস্তায় চলছে। বিআরটিএ মালিককে বারবার নোটিস দিয়েও অফিসে আনতে পারছে না।

বিআরটিএ নড়াইল যশোর সার্কেল রাস্তাঘাটে নির্বিঘ্নে চলছে ফিটনেসবিহীন পাঁচ হাজার যানবাহন। এর মধ্যে পাঁচ শতাধিক গাড়ির রুট পারমিট নবায়ন করা হয়নি দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে। সিন্ডিকেটকে মাসিক চাঁদা দিয়ে বিশেষ সংকেত বহনকারী স্টিকার লাগিয়ে সারা দেশেই দাপিয়ে বেড়ায় এসব গাড়ি। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) যশোর সার্কেলের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, একাধিকবার নোটিস দিয়েও পরিবহন মালিকদের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তাদের সহযোগিতা করছে না। এদিকে জনবল সংকটে নিয়মিত অভিযানেও নামতে পারেন না বিআরটিএ কর্মকর্তারা। একজন সহকারী পরিচালক, দুজন পরিদর্শক, একজন সহকারী পরিদর্শক, একজন রাজস্ব কর্মকর্তা, তিনজন অফিস সহকারী ও দুজন পিয়ন দিয়ে দুই জেলার সেবা দিচ্ছে বিআরটিএ নড়াইল যশোর জেলা নিয়ে বিআরটিএ সার্কেল। কর্মকর্তারা জানান, ফিটনেসবিহীন পাঁচ হাজার গাড়ির মালিকদের রাজি করাতে বিআরটিএ কর্মকর্তারা বাস-ট্রাক মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এমনকি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেও তাদের সাড়া পাননি। এসব যানবাহনের মধ্যে সর্বশেষ ২০১৬ সালের নভেম্বরে ৩৩১টির লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ট্রাক্টর ট্রলি। বর্তমানে যশোর জেলার এক হাজারের বেশি ইটভাটায় বিপুলসংখ্যক লক্কড়-ঝক্কড় ট্রাক্টর ট্রলি রয়েছে। মূলত জমি চাষের ট্রাক্টরের সঙ্গে স্থানীয়ভাবে তৈরি ট্রলি লাগিয়ে ইট, বালি ও মাটি বহন করছে ভাটার মালিকরা। এসব গাড়ির কোনো অনুমোদন না থাকলেও প্রশাসনের সামনেই নির্বিঘ্নে চলছে। তবে যানবাহন মালিক-শ্রমিকদের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দেশের প্রতিটি জেলায় শ্রমিক সংগঠনকে চাঁদা দিতে হয়। পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশ, থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে কাগজপত্র চেক করে। কাগজপত্র ঠিক থাকলেও নানা অজুহাতে টাকা দিতে হয়। এ কারণেই অধিকাংশ যানবাহনের মালিক কাগজপত্র ঠিক করতে অনীহা প্রকাশ করেন। ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিষয়টি স্বীকার করে যশোর বাস মালিক সমিতির সভাপতি আলী আকবর বলেন, আমরা গাড়ির মালিকদেরকে ফিটনেস নবায়নের জন্য তাগিদ দিচ্ছি। কোনো গাড়ির ফিটনেস না থাকলে তার দায় সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকের, সমিতির নয়। নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ জসিম উদ্দিন (পিপিএম) আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়কে জানান, নিরাপদ সড়কের দাবিতে দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলনের মুখে বিশেষ ট্রাফিক সপ্তাহ ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে নড়াইলের পুলিশ রাস্তায় অভিযান শুরু করেছে। বিআরটিএ নড়াইল-যশোর সার্কেলে নতুন যোগ দেয়া সহকারী পরিচালক কাজী মোহাম্মদ মোরছালিন। তিনি বলেন, প্রয়োজনে এ ব্যাপারে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাহায্য চাইব। এখন থেকে কেউ আর হয়রানির শিকার হবে না