ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে টিকেট সংকটে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। এখানে টিকেট অনুযায়ী কয়েকগুন যাত্রী বেশি হওয়ায় পরিমাণ টিকেট পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন না সাধারণ যাত্রীরা। বর্তমানে এ জংশনটি জেলার একমাত্র রেলওয়ে জংশন হিসেবে গুরুত্ব বহন করছে।
প্রতিদিন এখান থেকে বিভিন্ন লোকাল ও আন্তঃনগর ট্রেনযোগে প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার যাত্রী দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করেন। ট্রেন ভ্রমণের পূর্বে টিকিট ক্রয় করতে হয়। এ সময় দেখা দেয় বিড়ম্বনা। এখানে টিকেট পাওয়া যেন সোনার হরিণ।
করোনা মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে দীর্ঘদিন ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হলেও স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য স্ট্যান্ডিং টিকিট (দাঁড়ানো টিকিট) বন্ধ করে দেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
দেখা যাচ্ছে কেউ আবার টিকেট ছাড়া ট্রেন ভ্রমণ করতে গেলে ৩ গুন বেশি ভাড়া ( জরিমানা) গুনতে হয়। এতে চরম দূর্ভোগে পরেন সাধারণ যাত্রীরা। অনেকে আবার এই ৩ গুন ভাড়া বেশি দিয়েই রেল ভ্রমণের মধ্যে দিয়ে গন্তব্যস্থলের দিকে ছুটছেন।
অনেকে মনে করছেন রেলওয়ে অন্যান্য যানবাহন থেকে নিরপাদ ও সময় কম লাগে। সেই জন্য সাধারণ মানুষের চাহিদা ট্রেন ভ্রমনের দিকেই বেশি।
এই স্টেশনটি আখাউড়া থেকে টঙ্গী ও আখাউড়া থেকে সিলেটের ও চট্রগ্রাম পর্যন্ত রেললাইন তৈরি হলে ১৮৯৬ সালে আখাউড়া জংশন স্টেশনে পরিণত হয়। আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন থেকে ৩টি বিভাগের ঢাকা-চট্রগ্রাম-সিলেটের প্রায় ১১ টি জেলার মধ্যে যাতায়াত করা যায়।
এ বিষয়ে ঢাকা গামী এক যাত্রীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি হঠাৎ করে জরুরি একটি কাজে ঢাকা যাব, কিন্তু স্টেশনে এসে কোনো টিকেট পাইনি, স্ট্যান্ডিং টিকেটও নাই। টিকেট ছাড়া আবার ট্রেনে উঠলে জরিমানা দিতে হয়। এখন আমাকে যেতেই হবে ঢাকা যেকোনো উপায়ে।
আরেকজন যাত্রীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমাদের এখানে প্রচুর যাত্রী হয়। অতিদ্রুত এখানে টিকেট সংখ্যা বাড়াতে হবে। আমাদের সংসদ সদস্য আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের কাছে আমাদের দাবী আমাদের এই স্টেশনে যেন আসন সংখ্যা বাড়ানোর ব্যবস্থা করে দেয়। এতে সাধারণ মানুষ রেল ভোগান্তি থেকে রেহাই পাবে।
এই বিষয়ে আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন দায়িত্ব থাকা সুপারিন্টেন্ডেন্ট কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, আমাদের এই রেলওয়ে জংশন স্টেশনটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। এখান থেকে দিনে কয়েক হাজার মানুষ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে থাকেন। কিন্তু যাত্রী অনুযায়ী আমাদের এই স্টেশনে টিকেট সংখ্যা অনেক কম। এতে দেখা যাচ্ছে আমাদের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এই বিষয় আমাদের রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা হয়েছে । আশা করছি অতি আমাদের এই সমস্যা গুলো সমাধান হবে।
হাসান মাহমুদ পারভেজ/বার্তা বাজার/এসজে