ঢাকার সাভারে দখল হয়ে যাওয়া নয়নজুলি খাল পরিদর্শন করেছে উপজেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাভার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম রাজীবসহ সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
এসময় উপজেলা প্রশাসন আশুলিয়ায় দখল হয়ে যাওয়া নয়নজুলি খাল পরিদর্শন করেন। বিভিন্ন কারখানার বর্জ্য ও পানি সরাসরি খালে ফেলায় খাল দূষণ ও দখল হয়ে যাওয়ায় ওইসব কারখানাকে এব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।
সরেজমিন ফ্যান্টাসি কিংডম এর ভিতরে সাভার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও অন্যরা বাক্সবন্দি (সিমেন্টের চৌবাচ্চায় ঘেরা খালের অংশ) নয়নজুলি খাল পরিদর্শন করেন। এখানে ফ্যান্টাসি কিংডম কর্তৃপক্ষ নয়নজুলি খালের অংশ অনেক আগে থেকে দখল করে রাখায় পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছে। উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রশাসন এসময় এই অবৈধ দখলদারী মুক্ত করার আশ্বাস প্রদান করেন।
এসময় উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজীব বলেন, আসলে বৃষ্টি আসলেই যে জলাবদ্ধতা তৈরী হয় তা নয়। এই এলাকার অধিকাংশ ফ্যাক্টরি তাদের অব্যবহৃত পানি সরাসরি ড্রেণে ছেড়ে দেয়। যেকারণে বৃষ্টি ছাড়াও এখানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এভাবে ২০/২৫টি ফ্যাক্টরির পানি যদি ড্রেণে যায়, ওই চাপ সামলাবার মতো করে তো ড্রেণ তৈরী হয়নি। সেই চাপ সামলাতে না পেরেই পানি ওভারফ্লো হয়ে রাস্তায় চলে এসে লক্ষ লক্ষ মানুষের দূর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
রাজীব বলেন, এর আগেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সমস্যা সমাধানে এই খাল পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে এই জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রধান অন্তরায় এই এলাকায় বয়ে যাওয়া নয়নজুলি খাল বেদখল হয়ে যাওয়ায়। এই ঐতিহ্যবাহী খাল দিয়েই এই এলাকার সব পানি তুরাগ নদীতে গিয়ে পড়তো। সেই খালটিকে কিছু মানুষ এবং কিছু ইন্ডাস্ট্রির মালিক ও এই এলাকার অনেকে খালটি ভরাট করে জায়গায় জায়গায় দখল করে রেখেছে। কেউ ঘর ভাড়া দিয়েছে, কেউ ফ্যাক্টরি দিয়েছে এভাবে দখলে মত্ত রয়েছে সবাই।
জনস্বার্থে তারা এই খাল দখল মুক্ত করবেন উল্লেখ করে মঞ্জুরুল আলম রাজীব জানান, এটা দখলমুক্ত করতে পারলেই এই এলাকার জলাবদ্ধতা দূর হয়ে পানির প্রবাহ গতীশীল হবে। আমরা যেকোনো মূল্যে এই বেদখল হওয়া খাল উদ্ধার করবোই।
এই বেদখল খাল দখলমুক্ত করতে গিয়ে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ সমস্যার সৃষ্টি করবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মঞ্জুরুল আলম রাজীব বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর কন্যা। তিনি একজন দেশপ্রেমিক মানুষ।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেক আমরা টিম ওয়ার্ক হিসেবে কাজ করি। তাই তিনি প্রধানমন্ত্রী হবার পরে আমরা কখনো কোনো অন্যায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের মুখোমুখি হইনি। আশাকরি ভবিষ্যতেও হবে না। আর এই খাল কোনো রাজনৈতিক ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা দখল করে নাই, অর্থনৈতিক ক্ষমতাধরেরা এই দখলের সাথে সম্পৃক্ত।
এব্যাপারে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মাজহারুল ইসলাম বলেন, এখানে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রয়েছেন, আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং সড়ক ও জনপথের ঢাকা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামিম আল মামুন রয়েছেন। কোনো প্রকার অবৈধ দখল উচ্ছেদে কোনো বাধা নেই। আমরা একটা টিম হিসেবে এক্ষেত্রে কাজ করছি। পরিকল্পনা মাফিক আমরা এগোচ্ছি, সময়ের ব্যাপার মাত্র। আর সরকারি খাল এবং সরকারি জমির ক্ষেত্রে রেকর্ডের বিষয়ে আমরা সিএস এবং এসএ ধরে কাজ করে থাকি। এভাবেই এই নয়নজুলি খাল অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে।
মোঃ আল মামুন খান/বার্তা বাজার/অমি