১৭, আগস্ট, ২০১৮, শুক্রবার | | ৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯

ধূমপান ছাড়ার ‘জাদুকরী’ উপায়

আপডেট: আগস্ট ৮, ২০১৮

ধূমপান ছাড়ার ‘জাদুকরী’ উপায়

ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর সেটা কে না জানে! একবার এর নেশায় জড়িয়ে পড়লে তা ছাড়া কঠিন হয়ে যায় বেশিরভাগ লোকের কাছেই। এজন্য প্রয়োজন হয় দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি।

ধূমপান ত্যাগ করা ধৈর্যের কঠিন পরীক্ষা, বিজ্ঞানীরাও জানেন। সেজন্য তারা সময় নিয়ে বড় ধরনের উপকারী কিছু পাওয়া যায় কি-না সেটা বের করতে চেষ্টা করেছেন, পেয়েছেনও।

তাদের পরামর্শ, সাইকোঅ্যাক্টিভ ড্রাগস ব্যবহার করে তামাকের নেশা থেকে দূরে সরে আসা যায়। সেক্ষেত্রে সাইকোঅ্যাক্টিভ ড্রাগসের প্রকার অনেক। তার মধ্যে কোনটি ব্যবহার করলে সঠিক ফল পাওয়া যাবে তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

তাদের মতে, সাইকোঅ্যাক্টিভ ড্রাগসের ম্যাজিক মাশরুম তামাকের নেশা দূর করতে অন্যতম। ধূমপানের নেশার উপসর্গগুলো ধ্বংস করে ব্রেন ফ্রেশ রাখতে ম্যাজিক মাশরুম ম্যাজিকের মতোই কাজ করে বলে তাদের পরামর্শ।

ম্যাজিক মাশরুমে পাওয়া যায় এমন একটি সক্রিয় মিশ্রণ যাকে বলা হয় ‘সিলোসাইবিন’। ওই মিশ্রণটি দিয়ে ১২ জন ধূমপায়ীর মধ্যে একটি গবেষণা চালিয়েছিল বিজ্ঞানীরা। ছয় বছরের এই গবেষণায় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ম্যাজিক মাশরুম নেশার মেকানিজম উন্মোচন করতে পারে কি-না। পরে বোঝা গেলো এ মাশরুম আসলেই নেশা তাড়াতে উপকারী। কেননা ১২ জনের মধ্যে বেশির ভাগই ধূমপান ছেড়ে দিয়েছিলেন ম্যাজিক মাশরুম খেয়ে। সেইসঙ্গে তাদের মনে স্বাভাবিক শান্তি ফিরে এসেছিল, যা একজন ধূমপায়ীর মধ্যে সচরাচর থাকে না।

শেষ পর্যন্ত তারা দেখলো, ধূমপানের নেশা এমনই জটিল যে, তা থেকে সরে যাওয়া মানে ‘মস্তিষ্কের পরিবর্তন’ আনতে হবে। যেটা ম্যাজিক মাশরুম দিয়ে পুরোপুরি না হলেও বেশিরভাগই সম্ভব। পাশাপাশি মাদক কিংবা অন্যান্য নেশা তাড়াতেও এ মাশরুম কার্যকরী সহযোগী হতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

ধূমপানের নেশার বিষয়ে জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথ এবং দারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তেহসিন নুরানি বলেন, সিগারেট ধূমপান এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য বিশাল একটি ব্যাধি। এর কোনো কার্যকর নির্ভরযোগ্য চিকিত্সা নেই।

তিনি আরও বলেন, ধূমপান ত্যাগ করতে হলে সতর্কতা অবলম্বন এবং সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ধূমপান জটিল সমস্যা। তবে ম্যাজিক মাশরুম মিশ্রণ সিলোসাইবিন খেয়ে ধূমপান ত্যাগ করা সম্ভব।

এদিকে, প্রকৃতিতে নানা প্রজাতির মাশরুম আছে। একদিকে যেমন খাদ্যপযোগী, সুস্বাদু, পুষ্টিকর মাশরুম আছে, তেমনি আরেকদিকে আছে ভয়াবহ বিষাক্ত মাশরুম। আবার আরও কিছু মাশরুম আছে যাকে ম্যাজিক মাশরুম বা জাদুকরি মাশরুম অথবা শ্রুমস (shrooms) বলা হয়।

এ মাশরুম মানব মস্তিষ্কের মধ্যে জাদুকরি প্রভাব রাখতে পারে, পারে সৃষ্টিশীলতাও এনে দিতে।