২৩, অক্টোবর, ২০১৮, মঙ্গলবার | | ১২ সফর ১৪৪০

এশিয়ার সেরা একাদশে তিন বাংলাদেশি

আপডেট: আগস্ট ৮, ২০১৮

এশিয়ার সেরা একাদশে তিন বাংলাদেশি

ক্রিকেট দুনিয়ায় ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি এশিয়ার দল গুলোও এখন রাজত্ব করছে। বরং এশিয়ানরা এখন কুলিনদের চেয়ে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। একটা সময় ভারত-পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কার অধিপত্য থাকলেও এশিয়ার এখন অন্যতম পরাশক্তি বাংলাদেশ। উঠতি দল আফগানিস্তানও বেশ ভালো করছে।

বাংলাদেশের উন্নতির গ্রাফটা বেশ স্বাস্থ্যবান। ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল এবং ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনাল খেলা তারই প্রমাণ।

এশিয়ার ক্রিকেট খেলা দেশের সংখ্যা ৫টি। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর যদি এশিয়ার সেরা পারফর্মারদের নিয়ে একটি একাদশ সাজানো হয়েছে। একাদশে জায়গা পেয়েছেন তিনজন বাংলাদেশী ক্রিকেটার, চার ভারতীয়, দুই পাকিস্তানি ও দুই আফগানি তরুণ। তবে জায়গা হয়নি সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কার কোন ক্রিকেটারের।

এক নজরে দেখে নেয়া যাক একাদশটিঃ

১ । তামিম ইকবালঃ বর্তমান সময়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা ওপেনার। ২০১৫ সালের পর ওপেনারদের মধ্যে সর্বোচ্চ গড় তার। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে ২৯ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান ৫ সেঞ্চুরিতে করেছেন মোট ১,৮৯৩ রান। যার গড় ৫৮.৩৬ এবং স্ট্রাইকরেট ৮০।

২। রোহিত শর্মাঃ ২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে ৪৫ ওডিয়াই ম্যাচ খেলে ভারতীয় এই ওপেনার ৯৭ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ২,৩৭৪ রান। গড় ৫৮। ১০ টি সেঞ্চুরি ও ৯ টি হাফ সেঞ্চুরিতে এ রান করেছেন ভারতীয় এই ওপেনার। দুর্দান্ত পারফর্মেন্সে এই ওপেনার নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে।

৩। ভিরাট কোহলিঃ বর্তমান সময়ে বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যান। শুধু এশিয়া একাদশে নয় বিশ্বসেরা একাদশেও নিঃসন্দেহে তিনি থাকবেন। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে ক্যারিয়ারের সেরা সময় পার করছেন। মাত্র ৫০ টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ৮০ গড়ে করেছেন ৩ হাজার ৫১ রান। স্ট্রাইকরেট প্রায় ৯৮। যার মধ্যে তিনি ১৩ টি সেঞ্চুরি এবং সমান সংখ্যক হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে তার।

৪। বাবর আজমঃ ২০১৫ বিশ্বকাপের কয়েক মাস পরই ক্রিকেট দুনিয়ায় তার আর্বিভাব। ২৩ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান ইতিমধ্যে থিতু হয়েছেন পাকিস্তান দলে। বিশ্বকাপের পর থেকে এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের সর্বাধিক রানের মালিক তিনি। ৪১ ওয়ানডে খেলে ৫১ গড়ে করেছেন ১ হাজার৭৮৯ রান। যার মধ্যে রয়েছে ৭ টি সেঞ্চুরি এবং ৭ টি হাফসেঞ্চুরি।

৫। সাকিব আল হাসানঃ বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার তিনি। ২০০৬ সালে অভিষেক হওয়া এই ক্রিকেটার ব্যাটে ,বলে সমান পাল্লা দিয়ে পার করেছেন একযুগ। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশের হয়ে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে করেন হাজার রান। ৩৮ ম্যাচ খেলে এই তারকা অলরাউন্ডার ৩৬ গড়ে করেন ১,০৭০ রান। পাশাপাশি বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বাধিক উইকেট শিকারি হিসাবে ছয়ের কম ইকনমিতে নিয়েছেন ৩৪ উইকেট।

৬। মহেন্দ্র সিং ধনীঃ একাদশে ধনী ও মুশফিকুর রহিমের মধ্যে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল । তবে বেশি ম্যাচ খেলায় মুশফিকের থেকে রানের দিকে ধোনি এগিয়ে আছেন। তিনি ২০১৫ বিশ্বকাপের পর ৫৬ টি ম্যাচ খেলেছেন এবং ৪৬ গড়ে গড়েছেন ১,৪৬৮ রান। তার রান সংখ্যা ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে চতুর্থ সর্বোচ্চ। এই সময়ের মধ্যে এমএস এক শতক ও নয়টি অর্ধ-শতক হাঁকান।

৭। রাশিদ খানঃ বর্তমান সময়ে বিশ্বের সেরা লেগ স্পিনার তিনি। আফগানিস্তানের তরুণ এই লেগি নিয়মিত ব্যাটসম্যানদের আতংকের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছেন। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর এই বিস্ময়ের ঘূর্ণিতে কুপকাত হন ১০০ জন ব্যাটসম্যান। তার ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং ফিগার ১৮ রানে ৭ উইকেট।

৮। হাসান আলিঃ ক্যারিয়ারের শুরু থেকে ধারাবাহিক এই বোলার । যার উপহার হিসাবে ২০১৭ সালে উঠে আসেন র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে হাসান আলি ৩০ ম্যাচ খেলে ছয়ের নিচে ইকনমিতে ৬২ টি উইকেট লাভ করেন।

৯।মুজিবুর রাহমানঃ ১৭ বচর বয়সী এই তরুণ আফগান স্পিনার ২০১৮ সালে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে খেলে নজর কাড়েন সবার। আফগানিস্তানের হয়ে মাত্র ১৫ ম্যাচ খেলে দখল করেছেন ৩৫ টি উইকেট। একবার নিজের ঝুলিতে পুড়েছেন ৫ উইকেটও। এই দুর্দান্ত পারফরমেন্সেই এই একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

১০। মুস্তাফিজুর রহমানঃ ধুমকেতুর মতো তার আবির্ভাব বাংলাদেশের ক্রিকেটে। ক্যারিয়ারের শুরুতেই দুর্দান্ত সব কাটার স্লোয়ারে বিশ্ববাসীর নজর কাড়েন এই তরুণ। এরই মধ্যে খেলে ফেলেছেন আইপিএল ও কাউন্টি। নিয়মিত পারফর্মেন্সে হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা পেসার। বাংলাদেশকে এই পেসার লম্বা সময় সার্ভিস দিবে এমনটাই বিশ্বাস অনেকের।

১১। জসপ্রিত বুমরাহঃ মুস্তাফিজের মতোই কাটার ও স্লোয়ার বড় অস্ত্র বুমরাহর। তবে তার বিশেষত্ব হলো নতুন বল ও পুরনো বলে সমান কার্যকর এই পেসার। তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটেই ভারতের বোলিংয়ের বড় অস্ত্র। ২০১৬ সালের পর মাত্র ৩৭ ম্যাচে এই পেসার দখল করেছেন ৬৪ উইকেট।