১৭, অক্টোবর, ২০১৮, বুধবার | | ৬ সফর ১৪৪০

মন্ত্রীরাই এখন ‘গুজবের’ আশ্রয় নিয়েছে

আপডেট: আগস্ট ৮, ২০১৮

মন্ত্রীরাই এখন ‘গুজবের’ আশ্রয় নিয়েছে

শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে পারছেন না বলেই সরকারের মন্ত্রীরা এখন প্রলাপ বকতে শুরু করেছেন, গুজবের আশ্রয় নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাসীন নেতারা তাদের নিজস্ব মিডিয়া দিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে নোংরা অপপ্রচারে মেতে উঠেছেন। ছাত্র আন্দোলনের সহিংসতায় বিএনপিকে জড়াতে তারা কুৎসিত অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে।’

বুধবার (৮ আগস্ট) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

‘৬ আগষ্ট দৈনিক জনকণ্ঠে একটি ছবি ছাপা হয়েছে, যে ছবিটি ৬ বছরের পুরোনো ২০১২ সালের ২৫ জানুয়ারী দৈনিক ভোরের কাগজে প্রকাশিত একটি ছবি’ দাবি করে রিজভী বলেন, ‘ছবিতে দেখানো হয়েছে ছাত্রদলের এক নেতার নাম, আসলে সে ছাত্রদলের নেতা নন এটা ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের ছবি। ছবিতে যারা ছিল তারা সবাই ছাত্রলীগ। জনগণকে বিভ্রান্ত করতে বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কুৎসা রটনার জন্য সরকারি প্রোপাগান্ডা মেশিন দিনরাত কাজ করছে।’

‘যেটার নজির গত ৬ আগষ্ট জনকণ্ঠে দেখানো হলো। সরকারের প্ররোচনায় পত্রিকাটি গুজব রটিয়ে চলছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দেশে শান্তিময় অবস্থা বিরাজ করছে- ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘কি ধরনের শান্তি? হত্যা, গুপ্ত হত্যা, ক্রসফায়ার, গুম আর অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার ভয়ে আতঙ্কিত মানুষকে দেখে তিনি শান্তিময় বলতেই পারেন। কিন্তু সেটা যে কবরের শান্তি, গোরস্থানের নীরবতা, তা তিনি ক্ষমতার উষ্ণতায় টের পান না। কিন্তু নীরব মানুষের ক্ষোভ যে ছাই চাপা আগুনের মতো ধিকি ধিকি জ্বলছে এবং সেটা যে কোন সময় কুন্ডলী পাকিয়ে বিরাট আকার ধারণ করতে পারে সেটির আঁচ করতে পেরেই বেসামাল কথা বলছেন।’

রিজভী বলেন, ‘গতকাল সিইসি বলেছেন নির্বাচনে অনিয়ম হবে না, সে নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। কেন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না, কারণ ওবায়দুল কাদের সাহেবরা সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশও ধ্বংস করে দিয়েছে। কাদের সাহেব আপনারা যতই ধাপ্পাবাজি করুণ না কেন, জনগণের কাছে জবাব দেওয়ার সময় হয়ে গেছে।’

‘একইসঙ্গে জবাব দিতে হবে পাথর লুটের, কয়লা লুটের, ব্যাংক লুটের, শেয়ারবাজার লুটসহ সমস্ত আর্থিক খাত ধ্বংসের, জবাব দিতে হবে অসংখ্য গুম খুন বিচারবহির্ভূত হত্যার। জবাব দিতে হবে গণতন্ত্র হত্যার, রাজনীতি ধ্বংস করার, মানুষের ভোটাধিকার হরণের। জবাব দিতে হবে বাকস্বাধীনতা হরণের। জবাব দিতে হবে তরুণ সমাজের সাথে প্রতারণার।’

‘চলমান ছাত্র আন্দোলন সমাধানহীন সরকারি সহিংসতার ছোবলে রক্তাক্ত’ মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে না নিয়ে এখন অবলম্বন করা হয়েছে নির্যাতনের পথ। দেখানো হচ্ছে নানা ধরনের নাটক ও প্রহসন। আন্দোলন শুরু হওয়ার দুদিন পর ওবায়দুল কাদের সাহেব বললেন এবার মাঠে নামবে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগ মাঠে নেমেছে, সেটা কি কারণে তার নমুনা সারা দেশবাসী দেখেছে।’

‘রক্তাক্ত শরীরে ভয়ার্ত আর্তনাদে ছুটাছুটি করতে দেখা গেছে কোমলমতি শিক্ষার্থী আর সাংবাদিকদের। আন্দোলন দমাতে এখন সরকারি সহিংসতার পাশাপশি তারা নির্বিচারে মিথ্যা মামলা দিয়ে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী বিএনপি নেতাদের বাড়িতে বাড়িতে হামলা চালাচ্ছে।’

‘স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের আন্দোলনে বিএনপিকে জড়াতে হীন কৌশল তারা প্রথম থেকেই এঁটে আসছে। এখন সেটা জোরেশোরে শুরু করেছে ঢাকার বিভিন্ন থানায় মিথ্যা মামলা দিয়ে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অরাজনৈতি আন্দোলনকে রাজনৈতিক ফ্লেভার দেয়ার জন্যই এ মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে’ বলেও অভিযোগ করেন রিজভী।