মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে করোনা ভাইরাসের কারণে প্রায় দেড় বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে খুলে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়াযর দ্বিতীয় দিনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে। সকাল থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলো খুলে দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের আনন্দঘন মুহূত দেখা গেছে। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কচিকাঁচা শিক্ষার্থীরা উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে স্কুলে আসছে। তাঁদের আনন্দের সীমা নেই। দীর্ঘ দিন পর সহপাঠীদের সাথে দেখা হওয়ায় তাঁরা খুব আনন্দিত। উপজেলার ১২৮ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একি চিত্র দেখা যায়।
উল্লেখ্য যে, গেল বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। পরে দফায় দফায় বাড়ানো হয় এই ছুটি। শেষবার আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা আসে। পরে এক সভায় ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এরপর উপজেলার সব স্কুল, কলেজ, মাদ্রসা খোলার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করেছে কর্তৃপক্ষ। এ উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১২৮ টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২৮টি, কলেজ ৪টি, মাদ্রাসা ১২টি রয়েছে।
শিক্ষার্থী ফাইজা আক্তার বলেন, অনেকদিন পরে স্কুলে এসেছি আজ অনেক ভালো লাগছে। আর পড়ালেখার দিকে নজর দিতে হবে। পড়ালেখা ঠিকমতন হয়না বাসাবাড়িতে। তাই এখন ক্লাস নিয়মিত হলে পড়ালেখা গুলো আগের জায়গায় নিয়ে যেতে পারবো এবং ভালো রেজাল্ট করতে পারবো।
ছাতিয়ানতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর মো. মাহাফুজ নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, অনেক দিন বাসায় থাকতে থাকতে এখন আর ভালো লাগে না। যেহেতু (রবিবার) স্কুল খুলেছে এখন ভালো লাগছে। আর সহপাঠীদের সাথে পড়ালেখা ও খেলা ধুলা করা যাবে।
বয়রাগাদী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.সেন্টু মিয়া বলেন, প্রায় দেড় বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। আশা করছি এখন থেকে তা পূরণ করার চেষ্টা করবো। আর আজকে যেহেতু প্রথম দিন সে ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরাও একটু কম এসেছে। তবে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে পেরে খুবই আনন্দিত।
ছাতিয়ানতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোনালী দাস বলেন, সকাল থেকেই কোমলমতি শিশুরা স্কুলে এসেছে। আমরা অনেকদিন পর তাদেরকে দেখতে পেয়ে অনেক আনন্দিত। তারাও আমাদের দেখতে পেরে অনেক আনন্দিত এবং একে অপরকে দেখতে পেরেও তার অনেক আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েছে।
রাজদিয়া আব্দুল জব্বার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম মাসউদুর রহমান বলেন, বিদ্যালয় অনেকদিন ধরে বন্ধ ছিল তাই ছাত্রীদের মনবল নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। সরকারি ঘোষণার পর স্কুল খোলা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা আজ অনেক আনন্দিত । আমরা স্কুলের পুরো এলাকা জুড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেছি। আর শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়ার জন্য ব্যবস্থা এবং দূরত্ব বজায় বসার জন্য বেঞ্চ রেডি করেছি। যাতে করে শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে বসতে পারে এবং করোনা থেকে দূরে থাকতে পারে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ১০টি বিষয় বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। চেকলিস্টের মাধ্যমে দৈনিক তদারকি করা হবে প্রতিষ্ঠান, এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাঠাতে হবে ঢাকায়। শিক্ষার্থীদের দৈনিক সচেতন করা হবে। বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক ব্যবহার ও হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। দৈনিক প্রত্যেকের শরীরের তাপমাত্রা যাচাই- এজন্য গেইটে ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ। প্রয়োজনে পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা, লক্ষণ থাকলে শিক্ষার্থীকে অনুপস্থিত হিসেবে বিবেচনা না করা। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে শ্রেণিকক্ষে বসানো। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো সমাবেশ না করা। তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে যার যার আসনে রেখে হালকা শারীরিক কসরত করতে হবে। পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা, বিশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কাজী আব্দুল ওয়াহিদ মো. সালেহ বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ১০টি বিষয় বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ১০ বিষয় যদি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাধ্যতামূলক মানতে হবে । যদি না মানে তবে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম বলেন, উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হয়েছে। সে জন্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের অবশ্যই স্বাস্থবিধির প্রতি খেয়াল রাখার আহ্বান।
মোঃ মিজানুর রহমান/বার্তা বাজার/অমি