চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে সেনাবাহিনীর “মেস ওয়েটার” পদে চাকুরী দেয়ার নাম করে একটি দালাল চক্র হাতিয়ে নিয়েছে সাড়ে ৫ লাখ টাকা। আর অভিনব কায়দায় এই টাকা নিয়েছিলেন ভেরেন্ডী গ্রামের আজাদ আলীর ছেলে হোমিও চিকিৎসক রেজাউল করিম (৫০)।
রেজাউল করিম টাকা নেয়ার সত্যতা স্বীকার করলেও টাকা ফেরৎ দিচ্ছেনা ভূক্তভোগীদের। টাকা হারিয়ে দিশেহারা উপজেলার কালইর গ্রামের বাসিন্দা চিত্তরঞ্জন ও তার ছেলে উদয় শংকর।
নাচোল উপজেলার কালইর গ্রামের চিত্তরঞ্জন এর ছেলে উদয় শংকর (১৮) অভিযোগ করে জানান, গত ৪ মাস পূর্বে তাকে সেনাবাহিনীর “মেস ওয়েটার” রাজস্ব পদে চাকুরী দেওয়ার নাম করে রেজাউল করিম ব্যাংকের মাধ্যমে ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা গ্রহণ করেন।
এছাড়া চাকুরীর নিয়োগ পত্র দেখিয়ে বিকাশ এবং নগদ এর মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে হাতিয়ে নিয়েছে আরো ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা। সর্বমোট সাড়ে ৫ লাখ টাকা দিয়েও চাকুরী না পেয়ে দিশেহারা উদয় শংকর।
দালাল চক্রটি অভিনব কায়দায় উদয় শংকরকে করোনাকালে নাচোল হাজিডাঙ্গা গ্রামের জনৈক সৈবুর রহমানকে সাথে নিয়ে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এর পাশে একটি বাসায় হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখে। সেখানে মেডিকেল করিয়ে ১টি নিয়োগপত্র প্রদান করেন। নিয়োগপত্র দেখিয়ে ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয় সাড়ে ৫ লাখ টাকা।
দালাল চক্রটির দেয়া নিয়োগ পত্রটির স্মারক নং ২৩.০১.৯০১.০৪৫.০১.১২০.১২৮.৮১৭.২১, পদের নাম ষ্টেশন হেড কোয়াটার সিভিল “মেস ওয়াটার” রাজস্ব। গত ১২-৪-২০২১ তারিখে উক্ত স্মারকের নিয়োগ পত্র দেওয়ার পর উদয় শংকর যোগদান করতে চাইলে দালাল চক্রটি দিনের পর দিন কালক্ষেপণ করতে থাকে।
এক পর্যায়ে দালাল চক্রটি তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেয়। ফলে তাদের সাথে আর যোগাযোগ করতে না পেরে উদয় শংকরের সন্দেহ হয় এবং নিয়োগ পত্রটি সেনাবাহিনীর এক আত্মীয়ের মাধ্যমে যাচাই করতে দেয়। পরে জানতে পারে নিয়োগপত্রটি ভুয়া।
উদয় শংকর রেজাউল করিম এর সাথে যোগাযোগ করলে সে বিভিন্ন ধরনের টালবাহানা শুরু করে। এক পর্যায়ে সে কিছুদিন আত্মগোপন করে থাকে।
এ ব্যাপারে রেজাউল করিম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উদয় শংকরকে চাকুরীর দেওয়ার জন্য সৈবুরকে সাথে নিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে কি ঘটেছে তা আমার জানা নেই।
সেনাবাহিনীতে চাকুরী দেয়ার বিষয়ে রেজাউল করিম বলেন যে, তার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে উদয় শংকরের চাকুরীর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে কি কারণে তার চাকুরী হয়নি সে বিষয়ে কিছু জানেন না।
এদিকে, উদয় শংকরের পিতা চিত্তরঞ্জন ছেলের চাকুরীর জন্য বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট থেকে ধার দেনা করে সাড়ে ৫ লাখ টাকা জমা দিয়ে এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। প্রতিদিন পাওনাদারেরা টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে। সেনাবাহিনীতে চাকুরী দেওয়ার নাম করে প্রতারণার অভিযোগে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি নিচ্ছেন উদয় শংকরের পিতা চিত্তরঞ্জন দাস।
এ প্রতারণার ঘটনায় নাচোল থানার ওসি মোঃ সেলিম রেজা জানান, প্রতারণার ঘটনায় ভুক্তভোগী কেউই এখন পর্যন্ত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই অভিযুক্ত প্রতারকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আব্দুস সোবহান তারেক/বার্তা বাজার/এসজে