১৮, অক্টোবর, ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ৭ সফর ১৪৪০

এই পাঁচটি অভ্যাস ত্যাগ করলে জীবনে টাকা পয়সার অভাব ঘটবে না

আপডেট: আগস্ট ৮, ২০১৮

এই পাঁচটি অভ্যাস ত্যাগ করলে জীবনে টাকা পয়সার অভাব ঘটবে না

জীবনের একটা পর্যায়ে এসে প্রায় প্রতিটি মানুষকেই যে বিষয়টিতে অনুতাপ করতে হয় সেটা হচ্ছে নিজের অর্থনৈতিক অবস্থা। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে আফসোসের মাত্রা হয় অনেকটাই বেশী। কখনো নিজের অতিরিক্ত শখ- আহ্লাদের খেসারত দিতে গিয়ে, কখনো অদক্ষতা আর অমনযোগীতার কারণে জীবনের মাঝপথে গিয়ে অনেকটাই অসহায় অবস্থায় পড়তে হয় তাদেরকে এ দিক দিয়ে।

সম্প্রতি ন্যশনাল ফাউন্ডেশন ফর ক্রেডিট কাউন্সিলিং বা এনএফসিসি প্রায় ২,২০০ মানুষের ওপর এ ব্যাপারে একটি জরিপ পরিচালনা করেন এবং খুঁজে পান যে ৫টি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তকেই নিজেদের অর্থনৈতিক পরিতাপের প্রধান কারণ বলে মনে করেন। আর সেগুলো হচ্ছে-

১. অভ্যাসবশঃত অতিরিক্ত খরচ

২. অপর্যাপ্ত সঞ্চয়

৩. বাড়ি না কেনা

৪. বাড়ি কেনা

৫. অবসরের জন্যে যথেষ্ট সঞ্চয় না করা

তবে এর সবগুলোই নির্ভর করে ব্যক্তির পরিস্থিতির ওপর। পরিস্থিতি ভেদে কারো কাছে বাড়ি কেনা যেখানে ভুল বলে মনে হচ্ছে, অন্যের বেলায় হয়তো বাড়ি না কেনাটাই দাড়িয়েছে জীবনের সবচাইতে বড় ভুল হিসেবে। কিন্তু কী করে রেহাই পাওয়া যাবে এই পাঁচটি প্রধান অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে? আসুন জেনে নিই অর্থনৈতিক ভাবে সুরক্ষিত থাকতে কোন অভ্যাসগুলো ত্যাগ করা জরুরী।

১. অভ্যাসবশঃত অতিরিক্ত খরচকখনো আবেগের বশে, বন্ধুদের সাথে ঘুরতে গিয়ে, নিজেকে বড়লোক প্রমাণ করতে গিয়ে, মন ভালো করতে, টাকা হাতে পাওয়ার আনন্দে কিংবা কমদামে কেনার সুযোগ পেয়ে প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও অনেক বেশি খরচ করে ফেলেন অনেকে। তবে এটাকে অভ্যাস না করে ফেলে থামিয়ে দেওয়ার বেশ কয়েকটি উপায় আছে। আর সেগুলো হল-

আবেগের বশে কিংবা মন ভালো করতে গিয়ে জিনিস কিনতে যাওয়ার আগে একবার ভাবুন ঠিক কী কারণে খরচ করছেন আপনি। নিজের সমস্যাটা বোঝার চেষ্টা করুন। কোন কারণটি আপনাকে ঠেলে দিচ্ছে অতিরিক্ত খরচের দিকে। মন খারাপ? সম্পর্কের টানাপোড়ন? সমস্যার সমাধান করুন। খরচ করে খানিক ভালোলাগা অর্জন থেকে বিরত থাকুন। বের করার চেষ্টা করুন কোন কাজ আপনাকে টাকা খরচের সমান আনন্দ দিচ্ছে।

হাতে ক্যাশ টাকা রাখুন। ক্রেডিট কার্ড সাথে না রাখার চেষ্টা করুন। হিসেব করে মাসের প্রথমেই পুরো মাসের টাকা নিয়ে ফেলুন ক্যাশে। তারপর সেখানে যত সমস্যাই হোক, ক্রেডিট কার্ডে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার সময়েও হিসেব করে ঠিক কতোটা টাকা লাগতে পারে ভাবুন আর সেটাই নিয়ে যান। এতে করে অতিরিক্ত খরচ করতে পারবেন না আপনি। আর যখনই কিছু কম দামে পেয়ে যাবেন এমন কারো সাথে পরামর্শ করে নিন যে অনেক বেশি স্থির মস্তিষ্কের। এতে করে আপনি বুঝতে পারবেন কোনটা আপনার কেনা উচিত আর কোনটা নয়।

২. অপর্যাপ্ত সঞ্চয়টাকা যে মানুষ জমায় না তা নয়। তবে অল্প দরকারেই সেটা খরচ হয়ে যায়। এই যেমন সপ্তাহের পার্টি কিংবা বন্ধুদের আড্ডা, অথবা নতুন কোনো পোশাক। আর এর থেকে দূরে থাকতেই সঞ্চয় করুন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায়। নিজের মনকে বোঝান যে এটা খুব বেশি দরকারের সময় কাজে লাগবে। একটা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে নিন। তার ভেতরে যত সমস্যাই হোক সঞ্চয়ের দিকে তাকানো থেকে বিরত থাকুন। কত জমা হল সেটা গুনুন। কিন্তু সেটা সঞ্চয় করার বাঁধা সময় পার হওয়ার পরেই।

৩. বাড়ি না কেনাবাড়ি কেনা কিংবা না কেনা নির্ভর করে একজন মানুষের পরিস্থিতির ওপর। কারো হয়তো পরিবার নেই, টাকা নেই কিংবা পছন্দের জায়গা নেই। আর তাই বাড়িটাও কেনা হচ্ছে না। কিন্তু পরবর্তীতে এ নিয়ে অনুতাপ করার চাইতে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজুন। যদি উত্তর হয় হ্যাঁ, তাহলে কিনেই ফেলুন বাড়ি।

ক. বাড়ির ডাউন পেমেন্ট করা ছাড়াও অবসর জীবন আর জরুরী সময়ের জন্যে যথেষ্ট সঞ্চয় আপনার আছে তো?

খ. বাড়িটিতে কমপক্ষে পাঁচ বছর থাকছেন তো আপনি?

গ. যেখানটায় বাড়ি করছেন সেখানকার বাড়ি ভাড়া করা বাড়ি কেনার চাইতে লাভজনক কি?

৪. বাড়ি কেনাঅনেকেই ঝোঁকের বশে বাড়ি কিনে ফেলে পরবর্তীতে নানারকম ঝামেলায় পড়েন। টাকা ঠিকমতন পরিশোধ না করতে পারায় কিংবা আরো ভালো আর মনের মতন বাড়ির দেখা পাওয়ায় পরবর্তী জীবনে অনুতাপ করেন তারা। সেক্ষেত্রেও উপরের তিনটি প্রশ্নের জবাব আর সেই সাথে নিজের পছন্দকে ঠিকভাবে বুঝতে পারা- এ দুটোর মিল করে ফেলুন।

৫. অবসরের জন্যে যথেষ্ট সঞ্চয় না করাএকজন মানুষের অবসরের জন্যে তার বেতনের মোট ২০ শতাংশ সঞ্চয় করা উচিত। আর সেটা না করলে অনেক সময়েই মাঝপথে গিয়ে হতাশ হয়ে পড়েন অনেকে। টনক নড়ে তাদের। আর তাই উপার্জনের শুরু থেকেই ঠিকঠাক অংশটা সঞ্চয়ের তালিকায় রাখুন। ব্যাংকে নানারকম অবসরের জন্যে সঞ্চয় করবার পদ্ধতি আছে। সেগুলোও অনুসরণ করতে পারেন।

তথ্যসূত্র-How to Avoid the 5 Most Common Financial Regrets