শিক্ষকদের গ্রুপিং, পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনে বিব্রত শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার কে এম লতীফ ইনস্টিটিউশনের শিক্ষকদের দুই গ্রুপের দীর্ঘদিনের বিরোধ প্রকাশ্যে রুপ নিয়েছে। বিদ্যালয়ে আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে একে অপরের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন ও পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন বিবদমান দুটি গ্রুপ।
এক গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছে প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান এবং আরেক গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান।
রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪ টায় প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান সংবাদ সম্মেলন করেন। অন্যদিকে একই দিন সন্ধ্যায় পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন সহকারী প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমার অনুপস্থিতিতে সহকারী প্রধান শিক্ষক আমার স্বাক্ষর জাল করে বেতন (সরকারী অংশ) উত্তোলন করেছেন। প্রধান শিক্ষক দায়িত্বে থাকাকালীন গায়ের জোরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সেজে বিভিন্ন অনিয়ম ও বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুন্ন করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে সব বেরিয়ে আসবে।
এদিকে খলিলুর রহমান পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রধান শিক্ষক ৮ মাস ধরে বিদ্যালয়ে না আসায় ২৮.০১.২০২১ খ্রি. তারিখ থেকে আমি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। বিদ্যালয়ে বর্তমানে সুষ্ঠু পরিবেশ বিরাজমান। প্রধান শিক্ষক সংবাদ সম্মেলনের নামে মিথ্যা ও বানোয়াট বক্তব্য দিয়ে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।
বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক জানান, ২০২০ সালের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়। এরপর অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ নিয়ে আন্দোলন কর্মসূচিতে বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। দিনদিন ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যাপিঠটির সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অঃ দাঃ) বশির উদ্দিন আহমেদ জানান, কে এম লতীফ ইনস্টিটিউশনের শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলন ব্যক্তিগত বিষয়। এ নিয়ে প্রশাসনের কোন বক্তব্য নেই। তবে প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তাধীন আছে। তদন্ত শেষে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা নিবেন।
শাহজাহান/বার্তা বাজার/এসজে