ঝিনাইদহে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনকারী সেই আলোচিত স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মিজানুর রহমানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। এখন থেকে সে আর কালীগঞ্জের আলাইপুর গ্রামের দাসপাড়ায় আসতে পারবে না।
একই সাথে গ্রামের মধ্যে কোনো দোকানে তাসের আড্ডা বা রাতে দোকান খোলা রাখা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
শনিবার (সেপ্টেম্বর) রাত ৯টায় গ্রামবাসীদের উপস্থিতিতে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার গ্রামের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ কঠোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পূজা পরিষদ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাসহ গণমাধ্যমের কর্মীরা।
উল্লেখ্য, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনকারী ১নং সুন্দরপুর-দুর্গাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও পার্শ্ববর্তী আলুকদিয়াপাড়ার মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রামবাসী কর্তৃক ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক বরাবর এক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। এ নিয়ে প্রতিবাদী হয়ে উঠে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
শনিবার রাতে ওই গ্রামের সব মানুষের উপস্থিতিতে সভাতে কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে নিরীহ মানুষের ওপর নির্যাতনকারী কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে ওই মিজানুরকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক লীগ কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার কমিটিকেও বিলুপ্ত করা হয়েছে।’
সভায় গ্রামবাসীর কথা শুনে তিনি সিদ্ধান্ত দেন, ‘এখন থেকে মিজানুর আর এ পাড়াতে আসতে পারবে না। তাকে গ্রামের বাইরে দিয়ে চলাচল করতে হবে। যদি সে পুনরায় এ গ্রামে ঢোকার চেষ্টা করে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনের কঠোরতম ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’
এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার আরও বলেন, ‘গ্রামের মানুষদের শান্তিতে বসবাসের জন্য রাতে এ গ্রামে কেউই দোকান খোলা রেখে আড্ডা বা তাস খেলা করতে পারবে না।’ এমপির এমন কঠোর সিদ্ধান্ত ঘোষণায় উপস্থিত গ্রামবাসী করতালির মাধ্যমে আনন্দ উল্লাস প্রকাশসহ তাকে অভিনন্দন জানান।
এ সালিশ বৈঠকে কালীগঞ্জ উপজেলা পূজা ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নেতা প্রশান্ত কুমার খাঁ, উজ্জ্বল অধিকারী, বাবু মন্টু গোপাল, আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদ উদ্দিন ও স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ গণমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বার্তা বাজার/এসবি