দুই পক্ষের ঘুষ নিয়ে ধরা খেলেন পুলিশ কর্মকর্তা
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মামলা নেওয়ার নামে দুই পক্ষের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ করায় সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) পদের এক কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার (ক্লোজ) করা হয়েছে। শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে কামরুল হাসানকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
বিষয়টি বার্তা বাজারকে নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি আবদুল কাদের মিয়া।
জানা যায়, উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের আলাদিয়ার আলগী গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে মিজান মিয়া বিজয় (১৪) এর সঙ্গে প্রতিবেশী তরুণী (১৮) এর বিয়ে দেওয়া হয় জাল জন্ম নিবন্ধন বানিয়ে। গত ১৩ আগস্ট বিয়ে নিবন্ধিত করেন স্থানীয় কাজি মাহবুবুর রহমান।
কাবিননামায় কিশোর বিজয়ের জন্ম সাল দেখানো হয় ১৯৯৯ এবং মেয়ের জন্ম সাল দেখানো হয় ২০০৩। তরুণীর জন্মতারিখ সঠিক থাকলেও কিশোরের জন্ম সনদ যাচাই করে পাওয়া যায় ভিন্ন তথ্য। যে জন্ম নিবন্ধন দিয়ে বিয়ে পড়ানো হয়েছে, কিশোরের সেই জন্ম নিবন্ধন নম্বরটি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে যাচাই করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম।
তিনি জানান, বিজয়ের নামে তার পরিষদ থেকে কোনো জন্ম নিবন্ধন নেওয়া হয়নি। যে জন্ম নিবন্ধন দিয়ে বিয়ে পড়ানো হয়েছে, সেই সনদ নম্বরটি ঠিক আছে, তবে নিবন্ধন নম্বরের বিপরীতে অন্য এক যুবকের নাম ও পরিচয় রয়েছে।
ওই অবস্থায় কিশোরের কোনো সন্ধান না পেয়ে বাবা তারা মিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। কিশোরকে উদ্ধার করে দিতে ও থানায় মামলা নেওয়া নামে ২৪ হাজার ঘুষ নেন এএসআই কামরুল। নিখোঁজের নাটক সাজান কিশোরের নানা কলিম উদ্দিন।
অপরদিকে এএসআই কামরুল চাপ সৃষ্টি করেন তরুণীর বাবা নুরুল ইসলামের ওপর। ছেলেমেয়েকে থানায় নিয়ে না গেলে তরুণীর বাবার বিরুদ্ধে মামলা হবে বলে ভয় দেখানো হয়। মেয়েকে ছেলের পরিবার গ্রহণ না করায় থানায় মামলা করতে গেলে ২৭ হাজার টাকা ঘুষ নেন এএসআই কামরুল জানান নুরুল ইসলাম।
আরিফুল হক/বার্তা বাজার/এসজে