ক্লিনিক ব্যবসায়ীকে ইনজেকশন পুশ করে হত্যা

বগুড়াতে সিরিঞ্জের মাধ্যমে চেতনানাশক পুশ করে জিমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সেলিম হোসেনকে (২৫) হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার ব্যবসায়িক পার্টনার সাদ্দাম হোসেন (২৬) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তিনি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্চিতা ইসলামের কাছে এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তাদের ক্লিনিক ব্যবসায় মালিকানা নিয়ে বিরোধ এবং পাওনা বঞ্চিত হওয়ার ক্ষোভে তিনি তাকে পরিকল্পিতভাবে শরীরে চেতনানাশক প্রয়োগে হত্যার কথা বলেছেন। এর পরে সাদ্দাম হোসেনকে বগুড়া জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এ তথ্য দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার এসআই শামীম।

আদালত ও এজাহার সূত্র জানা যায়,‘ বগুড়া সদরের পীরগাছা বাজারে সালমা ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিকের মালিকানা নিয়ে অংশীদার কাম-নার্স সাদ্দাম হোসেনের সাথে পার্টনার শাহিন আলম ও তার ভাই সেলিম হোসেনের (ম্যানেজার) বিরোধ সৃষ্টি হয়।’

শাহিন আলমকে চেতনানাশক পুশ করে হত্যার অভিযোগ উঠে প্রায় দুই মাস আগে। কোনো প্রমাণ না থাকায় হত্যার ঘটনাটি চাপা পড়ে যায়। গাবতলী উপজেলার রামেশ্বরপুর গ্রামের জিন্নাহ মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেন। একই উপজেলার আটবাড়িয়া গ্রামের আবদুস সাত্তারের ছেলে নিহত সেলিম ।

গেল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ক্লিনিকে থাকা অবস্থায় সেলিম অসুস্থতা বোধ করেন। তখন অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেন জানান, তার (সেলিম) উচ্চ রক্তচাপ আছে; হাসপাতালে নেওয়া দরকার। সেলিমকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের চতুর্থতলায় মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়। রাত ১২টা ৫ মিনিটে সাদ্দাম হোসেন হাসপাতালে সেলিমকে দেখতে যান।

সবাই ব্যস্ত এ সময় সাদ্দাম হোসেন তার পকেট থেকে ইঞ্জেকশন বের করে সেলিমের হাতে লাগানোর ক্যানুলা দিয়ে পুশ করেন। কিসের ইঞ্জেকশন দেওয়া হলো জানতে চাইলে সাদ্দাম জানান, গ্যাসের ইঞ্জেকশন পুশ করা হয়েছে। সে অ্যাম্পুলের লেবেল ছিঁড়ে ফেলে ও হাসপাতাল থেকে পালানোর চেষ্টা করে।

এর মাত্র ১০ মিসিটের মাথায় সেলিম মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তখন কর্তব্যরত নার্স ও অন্যরা সাদ্দাম হোসেনকে চেতনানাশক ইঞ্জেকশনের অ্যাম্পুলসহ আটক করে পুলিশে দেন।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই আবদুস সামাদ বগুড়া সদর থানায় সাদ্দামের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

এদিকে, তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শামীম সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাদ্দাম হোসেন হত্যার দায় স্বীকার করেন। ক্লিনিকের পাওনা ঠিকমতো না দেওয়ার ক্ষোভ থেকে তিনি পরিকল্পিতভাবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সেলিম হোসেনের শরীরে চেতনানাশক পুশ করে হত্যা করেন।’

বার্তা বাজার/এসবি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর