১৭, আগস্ট, ২০১৮, শুক্রবার | | ৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯

ফুল কেন ফোটে?

আপডেট: আগস্ট ৮, ২০১৮

ফুল কেন ফোটে?

পৃথিবীতে প্রতিদিন কত ফুল ফোটে, ঝরে যায়, তার খবর কে রাখে?এতদিন পর্যন্ত কেউ রাখত না, এখন রাখছেন। তাও আবার যেন তেন পুষ্প প্রেমিক নয়, খোদ বিজ্ঞানীরা! অনেকে হয়তো বলবেন বিজ্ঞানীরা খোঁজ তো অনেক আগে থেকেই রাখছেন। নইলে ফুলের বৈজ্ঞিনিক নাম, শ্রেণিবিন্যাসগুলো হলো কী করে?

সে কথা মানছি, তবে এসবই তো জীববিজ্ঞানীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা। কিন্তু পদার্থ আর গণিতের চর্চা আছে কি ফুল বিজ্ঞানে?
মাথা চুলকানোর দরকার নেই। উদাহরণ রয়েছে আমাদের ঘরেই। লজ্জাবতীর পাতা চুপসে যাওয়া দেখে তাতে পদার্থবিদ্যার সূত্র খুঁজতে গিয়েছিলেন বিশ্বখ্যাত বাংলাদেশি বিজ্ঞানী স্যার জগদীশচন্দ্র বসু। তার সফলতা জীববিজ্ঞানে নতুন মাত্রা যোগ করে। বসুর দেখানো পথে হাঁটতে শুরু করেছেন আরেক ভারতীয় বিজ্ঞানী লক্ষিনারায়ণ মহাদেবন।

তবে এবার শুধু পদার্থবিজ্ঞানে আটকে থাকবে না উদ্ভিদবিজ্ঞান, চলছে গণিত তথা জ্যামিতির ফর্মুলা প্রয়োগের চেষ্টা। সেটা করেছেন ভারতীয় বিজ্ঞানী মহাদেবন।

মহাদেবনের কথায় পরে আসছি। তার আগে একটা প্রশ্ন করি, বলুন তো প্রতিটা জবা ফুলে কেন পাঁচটি করেই পাঁপড়ি থাকে? পাঁচটি পাঁপড়ির দিব্যি তাকে কে দিয়েছে? মাঝে সাঝে কম বেশি কি হতে পারে না? না, পারে না। কেন পারে না? তাহলে এতে কি কোনো গাণিতিক রহস্য লুকিয়ে আছে? অবশ্যই।

জবাফুল কোথায় পায় এই গাণিতিক হিসাব?কেন তার ডিএনএ থেকে। তার জিনে যা লেখা আছে তারই প্রয়োগ ঘটায় ফুলের পাঁপড়ি মেলাবার সময়।

সে না হয় বুঝলাম। ফুল ফোটার আগেও কি পাঁপড়িগুলো আলাদা ছিল? হ্যাঁ ছিল, ফুলের কুড়ি হাতে নিয়ে মেলে দেখলেই দেখা যাবে প্রতিটা পাঁপড়ি আলাদা আলাদা ভাবে পেচানো। সে না হয় বুঝলাম। কুড়িতে পরিণত হওয়ার আগেও কি পাঁপড়ি আলাদা ছিল?

আসলে আলাদা ছিল না। একটা পাঁপড়ি নিয়েই ফুলের যাত্রা শুরু হয়। তারপর একসময় সেটা প্রবল টানে ছিঁড়ে ভাগ হয়ে যায়। আচ্ছা, এই ভাগটাই বা সবসময় একরকম হবে কেন? পাঁচ খণ্ড না হয়ে মাঝে মাঝে চার কিংবা ছয় খণ্ড হলেই বা কী দোষ? এখানেই রয়েছে আসল রহস্য, মহাদেবন এর মধ্যেই খুঁজে পেয়েছেন গণিত।

মহাদেবনের গবেষণা শুধু ফুলের পাঁপড়ি নিয়েই নয়, পাতা নিয়েও। যেমন অনেক গাছের পাতার ধারগুলো ঢেউ খেলানো টাইপের। কেন এমন হয়?

মহাদেবনের গবেষণার মূল বিষয়বস্তু, ফুলের পাঁপড়ি কীভাবে ধীরে ধীরে বড় হয় সেটা খতিয়ে দেখা। কেমন করে ফুলকুঁড়ির বন্ধন থেকে পাঁপড়িগুলো বেরিয়ে আসে সে ব্যাপারটাও বোঝার চেষ্টা করা। একথা শুনে হয়তো পণ্ডিত সাহিত্যরসিকরা মুচি হাসবেন। মনে মনে বলবেন, এ আর নতুন কী? ১৭৯০ সালে বিখ্যাত জার্মান কবি ও দার্শনিক গ্যেটে ‘উদ্ভিদের রূপান্তর’ নামে একটা বই লিখেছিলেন। তাতে গ্যেটে বলেছিলেন, ফুলের পাঁপড়ি আর গাছের পাতার গঠন একই রকম। কেননা তারা একই মূল থেকে উঠে এসেছে। গ্যেটের দর্শনের সমাপ্তি ওখানেই। কোনো ব্যবহারিক প্রমাণ তিনি দিতে পারেন নি। এই জায়গাটাতেই মহাদেবন স্বপ্ন দেদখাচ্ছেন জীববিজ্ঞানীয় গণিতের।

ফুল ফোটার প্রক্রিয়া বোঝার আগে ফুলের পাঁপড়ি আর পাতার গঠন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখা প্রয়োজন। আমের পাতার কথায় ধরা যাক। কিশলয় থেকে আমপাতা যত বড় হয়, এর কিনারে ঢেউ খেলানো ভাবটাও ততো বেশি হয়। এমন কিছু ফুল আছে, যাদের বহির্কিনারে এমন ঢেউ খেলানো ভাব থাকে। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ জবা ফুল। চিত্র-২ এ আরেকবার চোখ বুলিয়ে আসতে পারেন।

মহাদেবন আর তার সহকর্মীরা প্রথমেই নজর দেন লম্বা পাতার উদ্ভিদের দিকে। বিশেষ করে কিছু জলজ উদ্ভিদ। এদের পাতা বেশ লম্বা হয়।

কেন লম্বা হয়?কারণ পাতা লম্বা হলে স্রোতের অনুকূলে সহজেই গা ভাসিয়ে দেয়া যায়। তা না হলে পানির ধ্বাক্কায় পাতা ছিঁড়ে-ফেঁড়ে যেতে পারে। তাই খরস্রোতা জলাশয়ে বেড়ে ওঠা উদ্ভিদের পাতা লম্বা এবং সাপের মতো ঢেউ খেলানো হয়।