খুলে দিলেও পাঠদান নিয়ে শঙ্কা রাজৈরের কিছু বিদ্যালয়ে

সারাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একযোগে খোলার ঘোষণার পর থেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অপেক্ষায় রয়েছে শ্রেণীকক্ষগুলো। তবে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রস্তুত করা হলেও কয়েকটি প্রাইমারি স্কুলে পাঠদান ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পানি ও কাদাবন্দী থাকা সত্ত্বেও কর্মকর্তারা বলছেন কোনো সমস্যা নেই।

রাজৈর উপজেলার শিক্ষা অফিসার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। সেগুলো আবার সেই আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এরই মধ্যে ঠিক করা হয়েছে শ্রেণিকক্ষ, আঙ্গিনা, খেলার মাঠ, পানির লাইন, বিদ্যুৎ সংযোগ। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী চলবে। রাখা হবে হ্যান্ড ওয়াস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক। শিক্ষকদের সাথে এরই মধ্যে দফায় দফায় মিটিং করেছে উপজেলা প্রশাসন। বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে সরকারি নির্দেশনা।

এদিকে সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার খালিয়া ইউনিয়নের ১৩১নং বাথানবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশের রাস্তার উপর দিয়ে পানির স্রোত। মাঠে বড় বড় ঘাস ও কাদা পানি। এমনকি স্কুলের টিউবওয়েলটিও অকেজো হয়ে রয়েছে। স্কুলটির চারিদিক ঘিরে পানি থই থই করছে। একটি খালের উপর দিয়ে স্কুলটির প্রবেশ পথ হওয়ায় দুইটি বাশের উপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হবে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের। স্কুলটি দেখলেই যে কোন মানুষের ভূতুড়ে গল্পের কথা মনে পড়ে যাবে।

অপরদিকে ১১৩নং চিকন্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, স্কুল মাঠে পাটশোলা শুকানো হচ্ছে। স্কুল ভবনের সামনের অংশ জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া ৪৩নং খালিয়া সেনদিয়া সরকারি প্রাঃ বিদ্যালয় এবং ৪২নং খালিয়া সরকারি প্রাঃ বিদ্যালয়ের ভবনের সামনের মাঠটিও জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

রাজৈর উপজেলায় ১৩৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৭ টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৩টি মাধ্যমিক ও ৪টি ডিগ্রি কলেজ রয়েছে। এছাড়াও একাধিক কারিগরিক ও মাদ্রাসা রয়েছেন।

রাজৈর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কেএইচ রওনক আরা বেগম বলেন, আল্লাহর রহমতে আমাদের সব কয়টি স্কুল প্রস্তুত রয়েছে। মাক্স কেনা হয়েছে। হ্যান্ড স্যানিটাইজার শ্রেণিকক্ষে রাখা হয়েছে। সেই সাথে আমাদের হ্যান্ড ওয়াশ কর্নারও আছে, যেন শিক্ষার্থীরা হাত ধুয়ে ক্লাসে যেতে পারেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রেণী কার্যক্রম চালানো হবে।

এসময় রাজৈরের পানি-কাদা বন্দী যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে সেগুলোতে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এরকম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তো দেখি নাই। দুই-একটার কথা আজই শুনলাম যে এরকম আছে। এ বিষয় নিয়ে আজই বসবো।

রাজৈর উপজেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহম্মদ ফজলুল হক মিয়া বলেন, আমাদের রাজৈর উপজেলার মাধ্যমিক স্তরের ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের সকল সরকারি বেসরকারি মাদ্রাসা গুলো সরকারি নির্দেশনা মতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। বিশেষ করে আমাদের ৮ম এবং পরীক্ষার্থীদের ক্লাস চলবে। বাকিটা সরকারের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী চলবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রেণী কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তবে আমাদের কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জলাবদ্ধতা নেই। পরবর্তীতে যদি হয়, তাহলে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

প্রসঙ্গত, প্রায় ১৮ মাস আগে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ার ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়। আর তারপর থেকেই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে রাখার জন্য সংসদ টিভিসহ ভার্চুয়াল মাধ্যমে ক্লাস করানো হয় এবং অ্যাসাইনমেন্ট ও ওয়ার্কশিট দিয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করে কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী উপস্থিত না হওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আসবাবপত্রসহ ময়লা আবর্জনার স্তুপে পরিণত হয়েছিল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার কথা শুনে ছাত্র-ছাত্রীরা যেমন অতি উৎসাহী, তেমনি শিক্ষকরাও আনন্দিত।

আকাশ আহমেদ সোহেল/বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর