‘চারপাশে পানি, কীভাবে স্কুলে যাব আমরা’

করোনা মহামারির ফলে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। ১২ সেপ্টেম্বর থেকে বিদ্যালয় চালুর খবরে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় চলছে নানা প্রস্তুতি। তবে বেরিবাঁধের পাশে মেঘনার জোয়ারের কারণে পাঠদানে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে উপজেলার অন্তত ৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার মেঘনা নদী সংলগ্ন উত্তর চরবংশি ও চরআবাবিল ইউপির ৫টি বিদ্যালয়ের মাঠে ও যাতায়াতপথে মেঘনার জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাওয়া ও জলাবদ্ধতায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হওয়ার শঙ্কায় আছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

পানিবন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে চর ইন্দ্রুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর চরইন্দ্রুরিয়া, চরপাঙ্গাসিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পশ্চিম চর ঘাসিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্তত ৫টি বিদ্যালয়। এ অবস্থায় দীর্ঘ দেড় বছর পর বিদ্যালয় চালু হলে এসব বিদ্যালয়ে পাঠদান নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক।

উপজেলার চর ইন্দ্রুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জান্নাতি বেগম বলেন, ৪ জন শিক্ষক ও ১২৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। চারপাশ দিয়ে মেঘনার জোয়ারের পানিতে বিদ্যালয়টি পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছি আমরা।

একই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী মাসুমা ও ৪র্থ শ্রেণীর মুন্নি জানায়, স্কুলের চারপাশে পানি, কীভাবে স্কুলে যাব আমরা ? এতে আমাদের শিক্ষা নিয়ে শঙ্কিত। এ ব্যাপারে স্যারেরা শিক্ষা কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন।

রায়পুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাক আহাম্মদ বলেন, আমরা কয়েক দিন আগে অনেকগুলো স্কুল পরিদর্শন করেছি। কয়েকটি বিদ্যালয়ের যাতায়াতের রাস্তা মেঘনার জোয়ারে ও জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে। তবে আপাতত পাঠদানে কোনো সমস্যা হবে না। এ ছাড়া করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্যবান্ধব পরিবেশ গঠনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও কঠিন পরিস্থিতি হলে স্কুল চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।

ওসমান গনি/বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর