করোনা ভাইরাসের কারণে প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার পর দেশের স্কুল ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে অনুযায়ী মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে স্কুল ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করেছে কর্তৃপক্ষ। উপজেলা শিক্ষা অফিস স্কুল কর্তৃপক্ষকে স্কুল খোলার সকল প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে বলেছে।
উপজেলার রাজদিয়া আব্দুল জব্বার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের ভবন এবং আশপাশের জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। তাছাড়া মাঠের ঘাসগুলো ছাঁটাই করা হচ্ছে। যাতে করে স্কুলে ছাত্রীরা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ভাবে দেখতে পারে। আর যাতে করে কেউ করোনা আক্রান্ত না হয়। সে ক্ষেত্রে হাত ধোয়ার সব ধরনের ব্যবস্থা এবং দূরত্ব বজায় বসার জন্য বেঞ্চগুলো রাখা হয়েছে। এছাড়া উপজেলার সব স্কুল,কলেজ,মাদরাসা খোলার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করেছে কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, গেল বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। পরে দফায় দফায় বাড়ানো হয় এই ছুটি। শেষবার আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা আসে। পরে এক সভায় ১২ সেপ্টেম্বর থেকে স্কুল-কলেজ খোলার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এরপর উপজেলার সব স্কুল, কলেজ, মাদ্রসা খোলার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করেছে কর্তৃপক্ষ। এ উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১২৮ টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২৮টি, কলেজ ৪টি, মাদ্রসা ১২টি রয়েছে।
ছাতিয়ানতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোনালী দাস বলেন, ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল খোলার নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। সে অনুযায়ী আমরা স্কুলের সব ধরনের কাজকর্ম সম্পূর্ণ করেছি। সে ক্ষেত্রে যাতে করে বাচ্চারা ক্লাস রুমে বসতে পারে সেই হিসেবে আমরা কাজ করছি।
রাজদিয়া আব্দুল জব্বার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম মাসউদুর রহমান বলেন, বিদ্যালয় অনেকদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ছাত্রীদের মনবল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সরকার যেহেতু ঘোষণা দিয়েছে স্কুল খোলার জন্য সে ক্ষেত্রে আমরা স্কুলের পুরো এলাকা জুড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেছি। আর শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়ার জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং দূরত্ব বজায় বসার জন্য বেঞ্চ রেডি করেছি। যাতে করে শিক্ষাথর্ীদের ভালোভাবে বসতে পারে এবং করোনা থেকে দূরে রাখতে পারি। সেক্ষেত্রে আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করেছি।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, সরকারি ঘোষণার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করতে বলা হয়েছে। তাই সবাই সে কাজ করছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কাজী আব্দুল ওয়াহিদ মো. সালেহ বলেন, আগামী ১২ সেপ্টেম্বরের আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষা উপযোগী করে প্রস্তুত রাখতে সকল ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে স্কুল প্রধানদের। তবে তারা ঠিক মতো সরকারি আইন মানছে কি না তা নজরদারিতেও রাখা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম বলেন, উপজেলার সব স্কুল, কলেজ, মাদরাসা খোলার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করার কাজ করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। সরকারি নির্দেশনামত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত কিনা ও সে নির্দেশনা মত পরিচালিত হবে কিনা সেদিকে আমাদের উপজেলা প্রশাসন কঠোর নজরদারি করছে।
মোঃ মিজানুর রহমান/বার্তা বাজার/অমি