১৮, ডিসেম্বর, ২০১৮, মঙ্গলবার | | ৯ রবিউস সানি ১৪৪০

গুন্ডাতন্ত্র কাকে বলে, ড. কামালকে কাদের

আপডেট: আগস্ট ৮, ২০১৮

গুন্ডাতন্ত্র কাকে বলে, ড. কামালকে কাদের

দেশে এখন গুন্ডাতন্ত্র চলছে বলে গণফোরাম নেতা ড. কামাল হোসেনের এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় গুন্ডাতন্ত্র কাকে বলে তা জানতে চেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

গত মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) বিকালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রশ্ন রাখেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা।

কাদের বলেন, ‘গুন্ডাতন্ত্র কাকে বলে তা সবিনয়ে কামাল হোসেনকে জিজ্ঞেস করতে চাই। চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে আমাদের স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী আরাফাত বাপ্পীর। সেই আহত কর্মীকে হাইজ্যাক করলেন ঘৃণ্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে।’

কামাল হোসেনের প্রতি ইঙ্গিত করে কাদের বলেন, ‘দেশে যখন শান্তিময় পরিবেশ বিরাজ করেছিল ঠিক সে সময়ে ১/১১ কুশীলবরা আবার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের অশুভ খেলায় মেতে উঠেছে।’

‘দেশে বিধ্বংসী রাজনীতি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আজকে অনেকেই অনাবশ্যক কটূ ভাষণ দিচ্ছে। কটূ ভাষণ দিয়ে তারা রাজনীতির দূষণ হয়ে আছে। রাজনীতিতে মতান্তর থাকবেই, কিন্তু সেই মতান্তরকে ছদ্মবেশী রাজনৈতিকরা বিধ্বংসী মনান্তরের সীমা অতিক্রমে নিয়ে যাচ্ছে। যা দেশের জাতি, গণতন্ত্র ও ভবিষ্যতের জন্য দুঃসংবাদ।’

‘কোথায় কী হচ্ছে সেটা আমরা জানি’ মন্তব্য করে কাদের বলেন, ‘দেশে হচ্ছে, বিদেশে হচ্ছে। প্রথম প্রহরে, মধ্য প্রহরে, শেষ প্রহরেও হচ্ছে রাতের অন্ধকারে। সরকার কিছু জানে না, সেটা ভাবলে বোকার স্বর্গে বাস করছেন। সবকিছুই আমরা জানি।’

‘সবকিছুই আমাদের নলেজে আছে। কত ষড়যন্ত্র হয়েছে, শত বৈঠক হয়েছে ব্যবস্থা নিলে কারও জেলের বাহিরে থাকার কথা ছিল না। কিন্তু আমরা ধৈর্য ধরছি।’

শিক্ষার্থীরা ঘরে ফিরে গেলেও দেশকে অশান্ত করার জন্য সারাদেশ থেকে তাদের ক্যাডারদেরকে এনে ঢাকা অচলের চেষ্টার অভিযোগ করেন কাদের। বলেন, ‘ঢাকা অচল করে বাংলাদেশ অচল করার পরিকল্পনা তাদের ছিলো এবং আছে।’

ছাত্র আন্দোলনের শেষ দিকে এসে হঠাৎ হেলমেট বাহিনীর আবির্ভাব ও এর পেছনে ছাত্রলীগের নাম আসা নিয়েও কথা বলেন আওয়ামী লীগ নেতা। দাবি করেন, ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের চেষ্টা চলছে।

কাদের বলেন, ‘ছাত্রলীগের নতুন কমিটি হয়েছে। এখনও তাঁরা ভালো করে গুছিয়ে উঠতে পারেনি। এ এলাকায় ছাত্রলীগের (ধানমন্ডি) কোন কমিটি ছিলো না।’

‘যারা আহত হয়েছে তাদের বেশিরভাগই সাবেক ছাত্রনেতা, বিভিন্ন উপ-কমিটির সদস্যরা। তাদের মধ্যে ৪৬ জন আহত হয়েছে। আক্রান্ত হলাম আমরা কিন্তু এখন দেশে-বিদেশে সুপরিকল্পিতভাবে অপবাদ ছড়ানো হচ্ছে। আমাদেরকে আক্রমণকারী চিহিৃত করে দলের এবং ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে।’

কাদের বলেন, ‘কানাডার আদালতে প্রমাণিত সন্ত্রাসী দল বিএনপি তাদের চিহিৃত সন্ত্রাসীদের জন্য যে কলঙ্ক অর্জন করেছিল তা আজকে চাপিয়ে দিতে চেয়েছে আওয়ামী লীগের উপর, আমাদের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উপর। আমরা এ ঘৃণ্য অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানাই।’

‘গতকাল আমি সাংবাদিকদের বলেছি, ছাত্রলীগের উপর অপবাদ আসছে,। আপনারা আমাকে তালিকা দিন। কারা কারা এতে জড়িত আছে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।’

‘শেখ হাসিনার সরকারে আমলে অন্যায় ও অপকর্ম করে কেউ রেহাই পায় না। ছাত্রলীগের কেউ যদি সাংবাদিক নির্যাতনে জড়িত থাকে তাহলে আমরা কোন অবস্থায় ছাড় দেব না। এটা আমাদের নীতি এবং সিদ্ধান্ত।’

সাংবাদিকেদেরকে তবে কারা মেরেছেন-জানতে চাইলে কাদের বলেন, ‘এ সময়ে যারা ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করতে চান, তারা টার্গেট করেন সাংবাদিকদের। কারণ, সাংবাদিকদের টার্গেট করে ফায়দা তোলার চেষ্টা এ দেশে অনেকবার হয়েছে। পৃথিবীর অনেক দেশেই এটা হয়। আমাদের দেশেও আমরা তা বারবার লক্ষ্য করেছি।’

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে চলমান আন্দোলন নিয়ে গুজব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে, তা কবে হবে এ প্রশ্নের জবাবে বলেন, আটঘাট বেঁধে তদন্ত হচ্ছে। যাতে ধরা পড়লে কেউ জাল ছিঁড়ে বের না হতে পারেন।