করোনায় কেউ হারিয়েছে প্রিয়জন আত্মীয়স্বজন, আবার কেউ হারিয়েছে জীবিকার প্রধান ব্যক্তি।
অচল হয়ে পড়েছে অনেক বিত্তশালী ও মধ্যেবিত্ত পরিবার। ঘুরে দাড়ানোরও জন্য নেই তেমন কোম আয় উপার্জনের রাস্তা।
২০২০ সালের শুরুর দিকে দেশে আঘাত হানে ভয়ংকর মহামারী নোভেল করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯। এমন সময় সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউন ও হোম কোয়ারান্টাইনও বাস্তবায়ন হয় কঠোরভাবে। তবে এমন সময় বেকার হয়ে পড়ে অনেক পরিবার। খাদ্য কষ্ট সহ চলছিলো না অনেক সংসার।
এরিমধ্যে গত বছরের(২০২০) সালের ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ হয়ে যায় সকল স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সে সময় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্তীদেরও পড়াশোনার খরচ কমে যায় বললেই চলে। এদিকে বেকার হয়ে পড়ে অনেক শিক্ষার্থীদের পরিবার।
সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রনালয় কতৃক ঘোষণা দেওয়া হয় আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে খুলবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এমন সিদ্ধান্তের কথা শুনে যেমন খুশি শিক্ষার্থীরা ও তাদের অভিভাবকেরা তেমনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা খরচ চালানো নিয়ে তাদের অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা সংশয়। সন্তানদের পড়াশোনা খরচ কিভাবে চালাবে তা নিয়ে হতাশায় ভুগছেন অনেক পরিবার।
শিক্ষার্থী ছামছুন্নাহার এর পিতা আকবর আলী বার্তা বাজারকে বলেন, আমার কন্যা একটা বেসরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেনীর ছাত্রী। তার পড়াশোনা শহরে থাকা খাওয়া দিয়ে প্রতিমাসে ব্যায় হয় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। এদিকে আমার মাসিক আয় ১০ হাজার টাকা।
লকডাউনে আমার প্রতিষ্ঠান ব্যাবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে এবছর বেতন দিচ্ছে টেনেটুনে ৭০০০ টাকা। তাহলে আমি এই বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর কিভাবে আমার মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালাবো আর কিভাবে আমি সংসার চালাবো এই ভেবে আমি কুল কিনারা পাচ্ছি না।
এক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী শেখ রায়হান এর পিতা বলেন, করোনার আগে টেনেটুনে চলছিলো। করেনার কারনে নিজের ব্যাবসায় লোকসান তার উপরে শুনলাম আমার ছেলের কলেজ থেকে বকেয়া বেতন পরিশোধের জন্য নোটিশ দিচ্ছে। এই মুহুর্তে তো আমার কোন উপায় নেই। সেক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ছেলের পড়াশোনা এক বছরের জন্য বন্ধও রাখতে হতে পারে। তা না হলে তো এছাড়া কোন উপায় নাই।
সমাজের একজন গন্যমান্য ব্যাক্তি, আবদুল আজিজ বলেন, শিক্ষা মন্ত্রনালয় বার বার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে নানা রকম নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর পেছনের বছরগুলোর বকেয়া বেতন পরিশোধ সংক্রান্ত বিষয় বিবেচনা করে নির্দেশনা দেওয়া। তা না হলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো মগের মুল্লুক পেয়ে বসবে।
এভাবে চলতে থাকলে দেখা যাবে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর অর্থের অভাবে লেখাপড়া থেকে সরে যাবে। এখনই অনেক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা অনিশ্চিত। তবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুলো যদি বেতন পরিশোধের ব্যাপারে ছাড় প্রদান করে তাহলে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের এই সংশয় কেটে যাবে।
এদিকে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বকেয়া বেতন আদায় সংক্রান্ত কোন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে যশোর সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ সিরাজুল ইসলাম বার্তা বাজারকে বলেন, এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোন নির্দেশনা আমাদেড কাছে আসেনি। যদি আসে তবে তা বাস্তবায়ন করা হবে।
এ্যান্টনি দাস(অপু)/বার্তা বাজার/টি