নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাশেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের সেজান জুসের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আরও একজনের দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
বৃহস্পতিবার (০৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্থ ওই ভবনের চারতলায় সিআইডির নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় থানা পুলিশের সহায়তায় এই অভিযান চালানো হয়। এর আগে মঙ্গলবারও (৭ সেপ্টেম্বর) অভিযান চালিয়ে ওই ভবনের চারতলা থেকে দু’টি দেহাবশেষ উদ্ধার করেছিল সিআইডি।
এ বিষয়ে সিআইডির নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের সহাকারী পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ জানান, সেজান জুস কারখানার শ্রমিক মহিউদ্দিন, সাজ্জাদ ও লাবনির পরিবারের অভিভাবকদের অভিযোগ কারখানায় কর্মরত ওই তিন শ্রমিক আগুন লাগার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। ভবনে যাদের মরদেহ পাওয়া গিয়েছিল, তাদের মধ্যে এই তিনজনের মরদেহ শনাক্ত হয়নি। তাদের এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিআইডি ফায়ার সার্ভিসকে চিঠি দেয়।
গত মঙ্গলবার সকাল থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম এবং রূপগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় ভবনটিতে অভিযান চালিয়ে তল্লাশি করা হয়। সেদিন ভবনের চতুর্থ তলা থেকে তিনটি হাড়ের অংশ উদ্ধার করা হয়।
সহকারী পুলিশ সুপার আরও জানান, বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় ওই ভবনের চারতলায় তল্লাশি চালিয়ে মাথার খুলিসহ পুরো শরীরের কঙ্কাল ও হাঁটুর নিচের অংশের হাড় উদ্ধার করা হয়েছে। যে স্থান থেকে এসব উদ্ধার করা হয়েছে, ধারণা করা হচ্ছে নিহতরা ওই রুমে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে বের হতে পারেননি। রুমটি মূলত নারীদের পোশাক বদলানোর রুম।
তিনি বলেন, এগুলো এক ব্যক্তির কিনা কিংবা একাধিক ব্যক্তির, এমনকি নারী না, পুরুষের কিছুই বলা যাচ্ছে না। উদ্ধারকৃত দেহাবশেষ ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ডিএনএ রিপোর্টের পরই বিস্তারিত বলা যাবে।
উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই রূপগঞ্জের কর্ণগোপ এলাকায় হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের সেজান জুসের কারখানায় ৬ তলা ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক মারা যান ৩ জন। ২৯ ঘন্টা পর ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। অগ্নিকাণ্ডে মোট ৫৩ জন নিহত হন।
বার্তা বাজার/এসজে