করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাব স্বাভাবিক হবার কারনে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত দিয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এমন সিদ্ধান্তের পর থেকে গতকাল (৮ সেপ্টেম্বর) থেকে ফুটপাতের খাটের দোকানগুলোতে হিড়িক পড়েছে কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের।
সরজমিনে যশোর শহরের রেল রোডের বেশ কয়েকটি ফুটপাত মার্কেট ও কাঠের আসবাবপত্র তৈরির কারখানায় এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। এদিকে খাট তৈরিতে ব্যাস্ত কারিগররা, অন্যদিকে খাট ক্রয় করা থেকে বহন করে মেস পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া নিয়ে ব্যাস্ত শিক্ষার্থীরা।
খাট কিনতে আসা, এক দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী নজরুল কবীর বার্তা বাজার’কে বলেন, গত ১৭ মাস আগে আমি গ্রামের বাড়িতে কুষ্টিয়াতে চলে গিয়েচিলাম। এরপর আর যশোর আসেনি। এখন মেসে এসে পরিস্কার পরিছন্ন করছি। এবং পুরোনো আসবাবপত্র অনেককিছু ভেঙে চটে গেছে। এজন্য নতুন আসবাবপত্র কিনতে এখানে এসেছি।
শিক্ষার্থী আব্দুর রহিম বলেন, গত কয়েকমাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিলো। মেস ছেড়েই দিয়েছিলাম। এখন আবার মেসে ওঠা লাগছে তাই নতুন খাট কিনতে হচ্ছে। আমরা যেমন কলেজ খোলা নিয়ে আনন্দে আছি আমাদের পরিবার তেমন এই কঠিন সময়ে আয় উপার্জন সীমিত হওয়ায় আমাদের পড়াশোনা কিভাবে চালাবে তা নিয়ে সংশয়ে আছে। এদিকে মেসের ভাড়া,পড়াশোনার খরচ সব মিলিয়ে আমাদের মাসে শহরের পরে পড়ার সুবাদে ৫-৬ হাজার টাকা লাগে। আর এই করোনার কারনে পরিবারের আয় ইনকামও নাই। তারপরে আবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো ১৭ মাসের বেতন পরিশোধের জন্য চাপ দিচ্ছে। সব মিলিয়ে আমরা নানা সংশয়ে আছি।
একজন খাট বিক্রেতা নাজমুল বার্তা বাজার’কে বলেন, করোনা লকডাউন আসলে আমাদের বেচাকেনা একেবারেই ছিলো না। শতকরা যদি বলি ২% ছিলো। তবে এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলবে শুনে শিক্ষার্থীরা খাট টেবিল কেনা নিয়ে ব্যাস্ত। তাতে আমরা আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারবো বলে মনে করছি।
শুধু খাট কেনার ক্ষেত্রে ভিড় নয়। যশোরের পার্শবর্তী জেলা উপজেলা থেকে ক্রমশ শিক্ষার্থীরা শহরে প্রবেশ করছে। বিভিন্ন যানবহনে সাধারন যাত্রীর অর্ধেক শিক্ষার্থীদের ব্যাগ বোচকা নিয়ে যাত্রা করতে দেখা যাচ্ছে।
এ্যান্টনি দাস(অপু)/বার্তা বাজার/অমি