সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে দ্বিতীয় বিয়ের লিখিত অনুমতি না দেওয়ায় বর্তমান স্ত্রীকে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করার অভিযোগ উঠেছে রাশেদুল ইসলাম নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। মারধরের শিকার গৃহবধূ পারুল আক্তার এখন কামারখন্দ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
এ ঘটনায় বুধবার (০৮ সেপ্টেম্বর) সকালে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন পারুলের বাবা ফজলু প্রামাণিক। পারুলের স্বামী পুলিশ সদস্য রাশেদুল ইসলাম বর্তমানে রাঙামাটি নতুন পুলিশ লাইনে কর্মরত আছেন।
পারুল ও স্থানীয়রা জানান, বছর বছর আগে কামারখন্দের নান্দিনা মধু গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে রাশেদুলের সাথে একই উপজেলার জামতোইল গ্রামের ফজলু প্রামাণিকের মেয়ে পারুলের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে নানা বিষয়েই নির্যাতনের শিকার হতেন পারুল। বিয়ের সময় পুলিশের চাকরি নেওয়ার জন্য ১০ লাখ টাকা যৌতুকও দাবি করে রাশেদুল।
দাবি পূরণ করেও বিয়ের পরে আরও টাকার জন্য মারধরের শিকার হতে থাকেন পারুল। রাশেদুল ও তার পরিবারের লোকজন তাকে ক্রমাগত নির্যাতন করতেই থাকে। এরই মধ্যে রোববার রাতে নিজের বাড়িতে থাকা রাশেদুল তার স্ত্রীর কাছে দ্বিতীয় বিয়ের লিখিত অনুমতি চেয়ে চাপ প্রয়োগ করেন।
রাজি না হওয়ায় তখন পারুলকে মারধর করে রাশেদুল ও তার পরিবারের লোকজন। পরে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তিনি চার দিন ধরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কামারখন্দ হাসপাতালের আরএমও এমএম সুমনুল হক জানান, আহত অবস্থায় ওই গৃহবধূকে হাসপাতালে আনা হয়। এ সময় তার মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। এছাড়া তার তলপেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে জানান আরএমও।
এদিকে ওই গৃহবধূর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বক্তব্য নিতে গেলে তাদের বাড়িতে পাওয়া যায়নি। এমনকি তাদের মোবাইলও বন্ধ পাওয়া যায়।
কামারখন্দ থানার ওসি রাকিবুল হুদা জানান, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
বার্তা বাজার/এসজে