১৮, অক্টোবর, ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ৭ সফর ১৪৪০

রিমান্ডে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ শিক্ষার্থী

আপডেট: আগস্ট ৮, ২০১৮

রিমান্ডে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ শিক্ষার্থী

বসুন্ধরা ও বাড্ডার আফতাবনগর এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা দুই মামলায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ ছাত্রের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তারা বেসরকারি ইস্ট ওয়েস্ট, নর্থ সাউথ ও ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। পুলিশ ধরে নিয়ে তাদেরকে নির্যাতন করেছে বলে তাদের আইনজীবীরা আদালতে অভিযোগ করেছেন। রিদওয়ান নামে এক শিক্ষার্থীর আইনজীবী অভিযোগ করেন পুলিশ তার হাতের একটি আঙুল ভেঙে দিয়েছে।
এদিকে, সংঘর্ষের পরদিন গতকাল বসুন্ধরার প্রত্যেকটি গেটে সতর্ক প্রহরা বসায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সন্দেহভাজনদের দেহ তল্লাশি করা হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের প্রতি নজরদারি ছিল বেশি।
ওই এলাকায় যাতায়াতকারী গাড়িগুলো তল্লাশি করা হয়। আবারও সংঘর্ষের আশঙ্কায় এলাকাটির মধ্যে অনেকেই আতঙ্কে দোকানপাট খুলেননি। আর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। সোমবারের পুলিশ, ছাত্রলীগের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ঘটনায় ভাটারা থানায় সরকারি কাজে বাধা ও ভাঙচুরের অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে। মামলা নম্বর-১০। ওই মামলায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ঘটনার দিনই বসন্ধুরা এলাকা থেকে তাদের আটক করেছিল পুলিশ। পরে তাদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গতকাল সকালেও বসুন্ধরার মূল গেটের পাশে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী গীতা রানি জানান, ক্লাস ও পরীক্ষার আশায় বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলাম। ইউনিভার্সিটিতে অনেক শিক্ষার্থী আতঙ্কে আসেননি। একটি মাত্র ক্লাস হয়েছে। তবে কোনো পরীক্ষা হয়নি। ভাটারা থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. মাহাফুজুর রহমান গতকাল বিকালে জানান, ঘটনায় পুলিশ একটি মামলা করেছে। মামলায় কয়েক জনের নামসহ অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়েছে। এদিকে, সোমবার রাজধানীর বাড্ডার আফতাবনগরে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি এলাকায় হামলা-সংঘর্ষের পর গতকাল সারাদিন ছিল নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা। প্রায় শতাধিক পুলিশ সদস্য সেখানে দিনভর সতর্ক অবস্থানে ছিল। বাড্ডা থানা সূত্রে জানা গেছে হামলায় শিকার হওয়া ১৪ জনকে আটকের পর তাদের বিরুদ্ধে ভাঙচুর ও মারামারির মামলা দেয়া হয়।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ৯ দিনের আন্দোলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার বিভিন্ন থানায় মামলা হয়েছে ৩৬টি। নামে-বেনামে আসামি করা হয়েছে অনেককে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩৯ জনকে। এসব মামলায় গ্রেপ্তার করা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, মডেল ও অভিনেত্রী কাজী নওশাবা, মাহবুবুর রহমান আরমান, মো. আলমগীর হোসেইন ও মো. সাইদুল ইসলাম প্রমুখ। ওদিকে, আফতাবনগর ও বসুন্ধরা এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের মামলায় বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ ছাত্রকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।
এদিকে তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ আইনের ৫৭ ধারায় দায়েরকৃত মামলায় কাজী নওশাবা বর্তমানে রিমান্ডে রয়েছেন। সূত্রমতে, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র করেননি। লাইভটি খারাপ কোনো উদ্দেশ্যে করেননি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে তার সমর্থন ছিল। আন্দোলন শুরুর পর তিনি নিজেও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছিলেন। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরে আবেগপ্রবণ হয়ে ফেসবুক লাইভে যান। শিক্ষার্থীদের রক্ষা করার জন্য পুলিশ ও অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তবে তার প্রচার করা তথ্যগুলো যে ভুয়া তখন তিনি বুঝতে পারেননি। নওশাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। রিমান্ডের দ্বিতীয় দিন ছিল গতকাল।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযোগ করেছে, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটানোর জন্য ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে স্ট্যাটাস ও মিথ্যা তথ্য-সংবলিত লাইভ ভিডিও প্রচার করে। তিনি নিজে ছাত্রী বা অভিভাবক না হলেও এই আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে ৩রা আগস্ট হোটেল রূপসী বাংলার সামনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পানি বিতরণ করেন। ৪ঠা আগস্ট কাজী নওশাবাকে গ্রেপ্তারের পর তাকে আসামি করে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন র‌্যাব-১ এর ওয়ারেন্ট অফিসার আমিরুল ইসলাম। দায়েরকৃত মামলাটি তদন্ত করছে সিটিটিসি’র সাইবার ক্রাইম ইউনিট।

একই ধারায় ৬ই আগস্ট রমনা থানায় আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে আসামি করে মামলা করে পুলিশ। তার আগে সাদা পোশাকে ৫ই আগস্ট তার ধানমন্ডির বাসা থেকে শহিদুল আলমকে আটক করা হয়। প্রথমে শহিদুলের সন্ধান না পেলেও পরদিন সকালে তার সন্ধান পান পরিবারের সদস্যরা। ওই দিনই মামলা করে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

২রা আগস্ট রমনা থানায় দায়েরকৃত একটি মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা বর্তমানে পাঁচ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আন্দোলন নিয়ে গুজব ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে দেয়া ও উস্কানির অভিযোগ করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন, ঢাকা দোহারের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার আলমগীর হোসেন, বাসাবোর গ্রাফিক্স ডিজাইনার মাহবুবুর রহমান আরমান ও সাইদুল ইসলাম। তাদের কাছ থেকে মোবাইলসেট, ল্যাপটপ, মেমোরি কার্ডসহ ফেসবুক আইডির পাসওয়ার্ড ও ফেসবুক গ্রুপগুলোর এডমিন আইডি জব্দ করা হয়েছে। এই মামলায় ১৭টি ফেসবুক আইডির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

১লা আগস্ট রমনা থানায় দায়েরকৃত আরেকটি মামলায় এ রকম ২৯টি লিঙ্কের কথা উল্লেখ আছে। এসব আইডি ব্যবহারকারীদের এখনও সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সিটিটিসি’র সাইবার ক্রাইম ইউনিটের উপ-কমিশনার (ডিসি) আলীমুজ্জামান বলেন, কয়েক জনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অন্যান্য আসামিদের সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি। এছাড়াও ২৯শে জুলাই থেকে গত ৬ই আগস্ট পর্যন্ত স্থাপনায় আক্রমণ, সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগের অভিযোগে মামলা হয়েছে।