পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার দক্ষিণ মিঠাখালী গ্রামে জমি বায়না করে প্রতারনার শিকার হয়ে সর্বশান্ত হয়েছে একটি পরিবার। এ ঘটনায় ওই গ্রামের মৃত আঃ জব্বার হাওলাদারের পুত্র ভুক্তভোগী মোঃ আউয়াল বাদী হয়ে মঠবাড়িয়া বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। এমপি কেস নং- ৬৪৫/২০ (মঠঃ) তাং- ০৩/১২/২০২০ খ্রি.।
অভিযুক্তরা হলেন- মোসাঃ আসিয়া খাতুন (৩৪) স্বামী- মোঃ নূরুল হুদা, মোসাঃ সুফিয়া (৫৮) স্বামী- মৃত. আলী উভয় সাং দক্ষিণ মিঠাখালী, থানা- মঠবাড়িয়া জেলা- পিরোজপুর, মোঃ নুরুল হুদা (৪২) পিতা মৃত. জলিল আহমেদ কাজী সাং যমুনা ডাকঃ মুন্সির হাট, থানা- দুলার হাট জেলা- ভোলা। বর্তমানে সর্ব সাং- বেগুনবাড়ি, পূর্ব পাড়া, পোঃ আমিন বাজার থানা- সাভার জেলা – ঢাকা।
আদালত মামলাটি সরজমিনে অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য প্রমান গ্রহন করে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দাখিল করার জন্য পিরোজপুর জেলা গোয়ান্দার শাখার অফিসার ইনচার্জকে আদেশ দেন। অগ্রগামীতার ভিত্তিতে গোয়ান্দা শাখার এসআই দেলোয়ার হোসাইন জসিম মামলাটি অনুসন্ধানপূর্বক ২১.১২.২০২০ খ্রি. তারিখে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন- অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দঃ বিঃ আইনের ৪০৬/৪২০/১১৪/৪৪৭/৩৭৯ ধারার অপরাধ সংঘটিত হওয়ার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গিয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৫.০২.২০১০ খ্রি. তারিখে অভিযুক্ত আসিয়া খাতুন গং উপজেলার দক্ষিণ মিঠাখালী মৌজার ২০৬,২০৭,২০৮ নং দাগের ২৬.৫ শতক জমি বিক্রি করার প্রস্তাব দিলে বাদী রাজি হয়। ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয়। বিবাদীগণ জমির মূল্য থেকে বায়না বাবদ ২ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা গ্রহন করে এবং বাদীকে জমির দখল বুঝিয়ে দেয়। বাদী ওই জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপন করে। বিবাদীরা যথাসময়ে জমি রেজিস্ট্রি না দিয়ে ১৫.১১.২০২০ খ্রি. তারিখে বাদীর রোপিত ১৭টি মেহগনি গাছ ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে এবং বায়না টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে।
এদিকে ধার দেনা করে জমি কিনতে গিয়ে পথে বসেছে ভুক্তভোগী আউয়াল। মঠবাড়িয়া মৎস্য বাজারে মাছ বিক্রি করেন তিনি। স্কুল পড়ুয়া এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে টানাটানির সংসারে এখন অনেকটা বিপাকে। ঘর বলতে নড়বড়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই। ভেঙে পড়তে পারে যেকোন সময়। বায়না টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য ঘুরছেন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে। দ্বারস্থ হচ্ছেন জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে থানা আদালতের কাছে। এখনও বিশ্বাস করেন বায়না টাকা ফেরত পাবেন তিনি।
পিরোজপুর জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই মোঃ দেলোয়ার হোসাইন জসিম জানান, একাধিকবার সরেজমিনে অনুসন্ধান করেছি। মঠবাড়িয়া থানার এসআই আসলাম তালুকদারও বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখেছেন। বিবাদীগণ বায়না টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছে। ০৪.০৪.২০২১ খ্রি. তারিখে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছি।
অভিযুক্ত আসিয়া খাতুন ২ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা বায়না নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আউয়ালের নিকট থেকে ১ লক্ষ টাকা বায়না নিয়েছি। মামলা উঠালে টাকা ফেরত দেব আর না উঠালে এক টাকাও ফেরত দেব না।আইন আদালতে যা হয় হবে।
শাহজাহান/বার্তা বাজার/অমি