চুয়াডাঙ্গায় কুয়েত প্রবাসীর স্ত্রী জেসমিন খাতুন আয়নাকে (৩৮) গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গেল রাতে সদর উপজেলার নতুন যাদবপুর গ্রামে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।
বুধবার (৮ সেপেটম্বর) সকালে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন জনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত জেসমিন খাতুন আয়না একই গ্রামের কুয়েত প্রবাসী হাবিবুর রহমান হাবিলের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত ২০ বছর আগে ঝিনাইদহ হরিনাকুন্ডু উপজেলার কেসমত গোড়াগাছা আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে আয়না খাতুনের সাথে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মৃত হাতেম মন্ডলের ছেলে হাবিবুর রহমান হাবিলের বিয়ে হয়।
বিয়ের পর তাদের একটি ছেলে ও একটি মেয়েও হয়। তাদের মেয়ে তাসমিন খাতুন সদ্য বিবাহিত। ছেলে আজমির হোসেনের বয়স আট বছর। সে বাড়ির পাশের ফুফার বাড়িতে থাকে।
প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার রাতেও নিজ বসত ঘরে ঘুমাতে যায় জেসমিন খাতুন। রাত ২টার দিকে একটি চিৎকার শুনতে পায় প্রতিবেশীরা। সে সময় বাড়ির প্রধান ফটক ও ঘরের মূল ফটক বন্ধ ছিল। তার চিৎকারে বাড়ির আশপাশের সবাই ছুটে আসেন। কিন্তু তার আগেই মারা যান আয়না খাতুন। পরে খবর দেয়া হয় পুলিশে। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের পাশ থেকে একটি ছুরি উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনায় তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন- একই গ্রামের মৃত সোহরাব হোসেনের ছেলে হাসান আলী (২৮), মৃত বাহার লস্করের ছেলে আব্দুর রহমান (৫২) ও সমান মন্ডলের ছেলে মামুন মন্ডল (২৭)।
সরোজগঞ্জ ক্যাম্পের ইনচার্জ (আইসি) পরিদর্শক নিখিল অধিকারী জানান, কারও একার পক্ষে এ ঘটনা ঘটানো সম্ভব নয়। ধারণা করা হচ্ছে, কয়েকজন মিলে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। সকাল ৯টার দিকে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলম জানান, পরকীয়ার জেরে তাকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হতে পারে- স্থানীয়দের দেয়া এমন তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত কাজ করছে পুলিশ। ময়নাতদন্ত রিপোর্টের পর বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া যাবে।
অন্তর কুমার ঘোষ/বার্তা বাজার/টি