টেকনাফ থানার বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশই সেনাবাহির অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহার গলায় পা চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করেন বলে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন আলোচিত মামলার পঞ্চম সাক্ষী ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও মসজিদের ইমাম হাফেজ মো. আমিন।
আলোচিত সিনহা হত্যা মামলায় দ্বিতীয় দফায় মঙ্গলবার (০৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সাক্ষ্য প্রদানকালে এই কথা জনান তিনি। এসময় প্রদীপ ও লিয়াকতসহ মামলার ১৫ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
হাফেজ মো. আমিন আদালতকে জানান, ঘটনার সময় তিনি পাশের একটি মসজিদ সংলগ্ন মাদ্রাসার ছাদেই ছিলেন। তিনি ছিলেন সেই মসজিদের ইমাম। তল্লাশি চৌকি থেকে তার দুরত্ব ৩০-৪০ কদম ছিল। সেদিন রাতে তল্লাশিচৌকির পাশে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে সিনহা মাটিতে (সড়কে) পড়ে ছটফট করছিলেন। প্রাণ বাঁচানোর জন্য পানির জন্য আকুতি জানাচ্ছিলেন। লিয়াকত আলী সিনহার দিকে গিয়ে বুকে লাথি মারেন কয়েকবার। পা দিয়ে মাথাও চেপে ধরেন।
তিনি জানান, এর কিছুক্ষণ পর টেকনাফের দিক থেকে সাদা মাইক্রোবাস নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান প্রদীপ কুমার দাশ (টেকনাফ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা)। তখনো সিনহা জীবিত ছিলেন এবং ‘পানি পানি’ করছিলেন। ওসি প্রদীপ তখন লাথি মারেন এবং পা দিয়ে গলা চেপে ধরে সিনহার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় প্রিজন ভ্যানে করে মামলার ১৫ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।
এ বিষয়ে আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম বলেন, হাফেজ মো. আমিনের সাক্ষ্যের গুরুত্ব অত্যাধিক। কারণ হাফেজ মো. আমিন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারার জবানবন্দি দিয়েছিলেন। তাই সিনহার সফরসঙ্গী সিফাতের মতো হাফেজ আমিনের জবানবন্দি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রসঙ্গত, গতবছরের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় একই বছরের ১৩ ডিসেম্বর প্রদীপ কুমার দাশসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন র্যাব-১৫-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. খায়রুল ইসলাম।
বার্তা বাজার/এসজে