চট্টগ্রামের রফিকুল হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করলো পিবিআই

চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত মোঃ রফিকুল ইসলাম জুয়েল হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

মঙ্গলবার (০৭ সেপ্টেম্বর) রফিকুল ইসলাম জুয়েল হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনের ব্যাপারটি নিশ্চিত করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোঃ মেজবাহ উদ্দিন।

মেজবাহ উদ্দিন খান জানান, নগরীর ডবলমুরিং থানার স্টেশন কলোনির মোঃ রফিক ও মোঃ রাসেল প্রকাশ রাশেদ একই এলাকায় বসবাস করতেন। তারা দু’জনই একত্রে বিভিন্ন ধরণের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। গত ২০১২ সালের ২৪ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে রফিকুল ও রাসেলের মধ্যে জুয়া খেলায় মোবাইল ও নগদ টাকা হারানোর নিয়ে দুই জনের মধ্যে তর্কাতর্কি ও এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়। এতে রফিক ছুরি বের করলে রাসেল তা কেড়ে নিয়ে নেয় এবং রফিককে ছুরিকাঘাত করেন। ঘটনার কোন প্রত্যক্ষদর্শী ছিল না।

ছুরিকাঘাতে আহত রফিককে এলাকার বাসিন্দারা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে রফিকুলের ভাই রুবায়েত হোসেন বাদি হয়ে ডবলমুরিং থানায় ২০১২ সালের ২৫ মার্চ মামলা (মামলা নং-৩৮) করেন।

মামলা দায়েরের পর ডবলমুরিং থানা পুলিশ গত ২০১২ সালের ২৫ মার্চ থেকে ২০১৩ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত প্রায় এক বছর মামলাটি তদন্ত করেন। রাসেলের বিরুদ্ধে ঘটনার সত্যতা পেলেও সঠিক ঠিকানা না পাওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয় না। পরে তদন্ত শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন পুলিশ। আদালত চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ না করে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা শাখাকে অধিকতর তদন্তের আদেশ দেন।

মহানগর গোয়েন্দা শাখা ২০১৪ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ বছর আট মাস মামলাটি অধিকতর তদন্ত করলে ঘটনার সত্যতা পান। কিন্তু তারাও আসামির প্রকৃত ঠিকানা না জানায় তাকে গ্রেফতার করতে পারে নি। তারাও তদন্ত শেষে পুনরায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন আদালতে। মামলার বাদি রুবায়েত হোসেন চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন দাখিল করেন। বাদির আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোকে মামলাটির তদন্তের নির্দেশ দেন।

গত ২০২০ সালের ২০ নভেম্বর মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ পরিদর্শক মোঃ মেজবাহ উদ্দিন খান। তদন্তকারি কর্মকর্তা সোর্স ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় পলাতক রাসেল সম্পর্কে ব্যাপক তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে। রাসেলকে গ্রেফতার করার জন্য পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর একটি বিশেষ টিম, পিবিআই হেডকোয়ার্টার্সের একটি বিশেষ টিম এবং পিবিআই কিশোরগঞ্জ জেলা ইউনিটের একটি বিশেষ টিম আসামির অবস্থান শনাক্ত করে। আসামিকে গ্রেফতার করতে কিশোরগঞ্জে এবং ঢাকায় বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়। পিবিআই রাসেলের খালাত ভাইসহ একাধিক আত্মীয় স্বজনকে তার অবস্থান সর্ম্পকে জানার জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করে।

বিভিন্ন টিমের অভিযানের ফলে নিরুপায় হয়ে দীর্ঘ ৯ বছরের অধিককাল আত্মগোপনে থাকা রাসেল গত ২৪ আগস্ট চট্টগ্রাম চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পন করলে আদালত রাসেলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে পিবিআই তদন্তকারী কর্মকর্তা গত ২৫ আগস্ট রাসেলকে ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে রাসেল হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করেন। পরে সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) আদালতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন রাসেল।

নিহত মোঃ রফিকুল ইসলাম লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার ভোলাহাট মোল্লাবাড়ীর মৃত সামছুল হকের ছেলে ছিলেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোঃ মেজবাহ উদ্দিন খান আরো বলেন, মোঃ রফিকুল ইসলাম জুয়েল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন মোঃ রাসেল প্রকাশ রাশেদ (৩১)। রাসেল কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলার ছাতিরচর এলাকার হোসেন প্রকাশ হসু মেম্বারের বাড়ির ফজর আলীর ছেলে। রফিকুল হত্যাকান্ডে প্রত্যক্ষদর্শী না থাকায় রাসেলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির যাচাই-বাছাই চলছে। রাসেলকে একমাত্র আসামি করে চার্জশিট দেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে বলে জানান তিনি।

মুহাম্মাদ হুমায়ুন চৌধুরী/বার্তা বাজার/অমি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর