মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে সেতুর সঙ্গে আটকে গেল বালুবাহী বাল্কহেড। গত সোমবার বিকালে উপজেলার বাসাইল ইউনিয়নের বাসাইল বাজার সংলগ্ন ইছামতি শাখা নদীর উপর সেতুটি সঙ্গে বালুবাহী বাল্কহেড নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় আটকে যায়। এতে সেতুর অনেক অংশে পলেস্তর খসে পড়ে।
এর পর গ্রামবাসী বাল্কহেডটিকে আটকে রাখে উপজেলা এলজিইডি অফিসের খবর দিলে উপজেলা প্রকৌশলী পরিদর্শন করে স্থানীয় ইউপি সদস্যকে দিয়ে বাল্কহেডটি চাবি নিয়ে আটক করে রাখেন।
জানা যায়, এর আগে ২০১৭ সালে বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কায় আগের সেতুটি ভেঙে যায়। পরে উপজেলা এলজিইডি অফিস ২ কোটি ১৬ লাখ ৩৫ হাজার ৯৮৫ টাকা ব্যয় ৩০ মিটার দৈর্ঘে নতুন একটি সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করে ৩০ আগস্ট মাসের ২০১৮ সালে। আর শেষ হয় ২০২১ সালে।
বাসাইল গ্রামের বাসিন্দা মো. তুষার খান বলেন, এর আগেও এ স্থানে থাকা সেতুটি বালুবাহী বাল্কহেডে ভেঙে দিয়েছে। এবার আবার নতুন সেতুটি আরেকটি বালুবাহী বাল্কহেড আজকে ক্ষতি করলো। এতে অনেক অংশে সেতুর পলেস্তর খসে গেছে। প্রশাসন এ অবৈধ বাল্কহেডের ব্যপারে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এই সেতু যদি বছর বছর ভেঙ্গে ফেলে। তবে আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। তাই আমরা প্রশাসনের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবী জানাচ্ছি। আর আমি এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়কে ফোন করে জানিয়েছি। তিনি ব্যবস্থা নেবেন বলে আমাকে জানিয়েছেন।
বাসাইল ইউপির ৭নং ওয়ার্ড সদস্য মো. আইয়ুব খান বলেন, আমাকে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার সাহেব বাল্কহেডের শ্রমিকদের নাম ঠিকানা নিয়ে যেতে বলছে আমি সেগুলো নিয়ে উপজেলার যাচ্ছি। কী ব্যবস্থা নেয় তারা বলতে পারবে আমি কিছু জানিনা। আর বাল্কহেডটি আমার জিম্মায় রয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী শোয়েইব বিন আজাদ বলেন, এর আগেও আমাদের দুইটি সেতু এরকম বালুবাহী অবৈধ বাল্কহেড ভেঙে দিয়েছে। আমাদের অনেক কষ্ট করে বরাদ্দ এনে সেতু নির্মাণ করতে হয়। এই অবৈধ বাল্কহেড বন্ধ করা দরকার। আমি রাতে শুনেছি, এরপরে ওই এলাকার মেম্বার দিয়ে অবৈধ বাল্কহেডের চাবি নিয়ে রেখেছি। ইউএনও স্যার ও পুলিশ প্রশাসনে সাথে আলাপ-আলোচনা করে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় তাই করা হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম বলেন, আমি উপজেলা প্রকৌশলীকে বলেছি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।
মোঃ মিজানুর রহমান/বার্তা বাজার/অমি