পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: সবকিছু থেকেও যেনো নেই!

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করলেও তা কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ। চিকিৎসক, কর্মচারী ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।

এ্যানেসথিয়া, সার্জারি ডাক্তার না থাকায় ১০ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে অপারেশন থিয়েটার (ওটি)। বিগত সময়ে টেকনোলজিস্ট থাকলেও সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, জেনারেটর না থাকায় লো-ভোল্টেজে চালনো সম্ভব হয়নি পুরাতন এক্সরে মেশিন।

গত সপ্তাহে আবারও নতুন একটি এক্সরে মেশিন স্হাপন করা হলেও বর্তমানে টেকনোলজিস্ট না থাকায় চালু হয়নি মেশিনটি। কয়েক বছর আগে আনা আলট্রাসনোগ্রাফি যন্ত্রটি শুরু থেকেই বিকল। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগীদের।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, পাকুন্দিয়া উপজেলার প্রায় তিন লাখ মানুষকে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতালে ২০১১ সালে উন্নত যন্ত্রপাতি দিয়ে আধুনিক অপারেশন থিয়েটার স্থাপন করা হলেও সার্জন, এ্যানেসথেসিস্ট ও টেকনোলজিস্ট না থাকায় আজও চালু হয়নি ওটি। ফলে গাইনি কনসালটেন্ট থাকলেও বন্ধ রয়েছে সিজারিয়ান অপারেশন।

অন্যদিকে নতুন এক্সরে স্হাপিত হলেও টেকনোলজিস্ট না থাকায় আজও চালু হয়নি মেশিনটি। কয়েক বছর আগে আনা আলট্রাসনোগ্রাফি যন্ত্রটি শুরু থেকেই বিকল।

সরজমিনে দেখা যায়, বছরের পর বছর অপারেশন থিয়েটার বন্ধ থাকায় অটোক্লাব মেশিন, এ্যানেসথেসিয়া মেশিন, ডায়াথার্মী মেশিন, ডেলিভারি টেবিল, ওটি টেবিল, ওটি লাইট, সার্জারি যন্ত্রপাতি অযত্নে ধুলা-বালি মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

ফলে বাধ্য হয়ে রোগীদের হাসপাতালের সামনে পাঁচ মিটার থেকে তিন’শ মিটারের মধ্যে গড়ে উঠা প্রাইভেট ক্লিনিক কিংবা জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে দৌড়াতে হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ নিম্ন আয়ের রোগী ও তাদের স্বজনরা।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, এখানের অধিকাংশ যন্ত্রপাতি নষ্ট। এক্সরে মেশিন আছে টেকনিশিয়ান নাই। তাই বাইরে থেকে পরীক্ষা করে ডাক্তারকে রিপোর্ট দিতে হয়।

সরকারি হাসপাতালের এক্সরে চালু না হওয়ায় বাইরের ক্লিনিক থেকে তিনগুণ টাকা দিয়ে রিপোর্ট এনে ডাক্তারকে দেখাতে হচ্ছে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১ টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালে রোগীদের উপচেপড়া ভিড়। এ সময় ডাক্তার ও এসএসএমওদের স্বাস্থ্য সেবা দিতে হিমশিম খেতে দেখা যায়। এখানে শুধুমাত্র বহিঃর্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৪শ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। জরুরি বিভাগে গড়ে ১শ রোগী চিকিৎসা নেয়।

তাছাড়া, ৩০০ থেকে ৪০০ জন করোনা ভ্যাকসিন সেবা নিয়ে থাকেন। তবে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা ব্যবস্থাপত্র নিয়ে বের হলে বিভিন্ন কোম্পানীর মেডিকেল রি-প্রেজেন্টেটিভরা ঘিরে ধরেন। তারা মোবাইলে ব্যবস্থাপত্রের ছবি তুলছেন। এতে রোগীরা অতীষ্ট হয়ে পড়লেও বিষয়টি কেউ আমলে নিচ্ছে না।

পাকুন্দিয়া উপজেলার ৫০ শয্যার হাসপাতালে ২১ জন ডাক্তারের বিপরীতে ১৬ জন ডাক্তার রয়েছেন। ৩ জন ডাক্তার কে সম্প্রতি ডেপুটেশনে দেওয়া হয়েছে।

২৮ নার্সের বিপরীতে ২৬ নার্স আছে ৬ জন সম্প্রতি ডেপুটেশনে দেওয়া হয়েছে। মাতৃকালীন ছুটিতে আছেন দুই জন নার্স। চারজন ফার্মাসিস্টেটের বিপরীতে মাত্র একজন ফার্মাসিস্টেট কর্মরত রয়েছেন।

মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রেজাউল করিম কাওসার বলেন, নতুন এক্সরে মেশিন গত মাসে স্হাপিত হয়েছে, টেকনোলজিস্ট কিশোরগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজের ডেপুটেশনে আছেন। তিনি আসলেই চালু হবে মেশিনটি। তাছাড়া কয়েক বছর আগে আনা আলট্রাসনোগ্রাফি যন্ত্রটি শুরু থেকেই বিকল।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন শাহানাজ জানান, আমাদের আন্তরিকতা ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকলেও সার্জন, এ্যানেসথেসিষ্ট, টেকনোলজিস্ট ও প্রয়োজনীয় ডাক্তারের অভাবে অপারেশন থিয়েটার চালু করতে পারছি না। দ্রুত ওটি চালু ও জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি এবং যোগাযোগ রক্ষা করে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

হুমায়ুন কবীর/বার্তা বাজার/শাহরিয়া হৃদয়

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর