শেরপুরে বিনোদনের খোড়াক হয়ে উঠেছে তিনটি সড়ক
বগুড়ার শেরপুরে মানুষের বিনোদনের খোড়াক হয়ে উঠেছে তিনটি সড়ক। বিকেল হতেই বিভিন্ন বয়সের নারী পুরুষদের ঢল নামে এই তিনটি সড়কে। বিনোদনের ওই সড়ক গুলো হলো খানপুর ইউনিয়নের শালফা থেকে গজারিয়া সড়ক, শালফা থেকে শৈল্লাপাড়া হয়ে কয়েরখালী সড়ক ও খামারকান্দি ইউনিয়নের খামারকান্দি বাজার থেকে ঝাঁজর সড়ক।
এখন বর্ষা মৌসুম।এ সময় সড়কের দু’পাশে পানি থৈ থৈ করছে। আর এই পানির ঝলকানি দেখতে হাজারও মানুষ আসে বিনোদনের খোড়াক মেটাতে। এ যেন পরিবার পরিজনের মিলন মেলা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খানপুর ইউনিয়নের শালফা থেকে গজারিয়া ও শালফা থেকে শৈল্লাপাড়া সড়কের দুপাশে বিস্তৃত ফসলের মাঠ। খামারকান্দি ঝাঁজর সড়কের দুপাশে বিশাল আকরের খাল। খালে সাথেই রয়েছে ফসলের খোলা মাঠ। এখন সড়ক গুলোর দুধারে শুধু পানি আর পানি। প্রাকৃতিক হিমেল হাওয়ার কমতি নেই এখানে।
তাই বিকেল হতেই গ্রামীন নিরিবিলি পরিবেশে শরীর ও মনটাকে সতেজ রাখতে সড়ক গুলোতে মানুষের পদচারণা বাড়ছে। যতদুর চোখ যায় শুধু মানুষের ভিড় চোখে পড়ে। খোলামেলা ও শব্দ দূষনহীন সড়কে ঘুরতে আসা মানুষের খাবারের জন্য জল মাচাং নামের একটি ফাস্ট ফুডের দোকানো রয়েছে শালফা-গজারিয়া সড়কে।
এছাড়াও ছোট ছোট প্রায় ১৫ টি অন্যান্য খাবারের দোকানও রয়েছে। আর একটু পানি বৃদ্ধি পেলেই সেখানে স্পীডবোর্ড থেকে শুরু করে ডিঙ্গি ও মেশিন চালিত ফেরি নৌকা চলবে। তখন মানুষের ভিড় আরো বাড়বে। এতে বাড়তি আনন্দ উপভোগ করে ভ্রমন পিপাসুরা।
গজারিয়া সড়কে ঘুরতে আসা ভ্রমন পিপাসুরা জানান, ফেসবুকে অনেকেই এখানকার ছবি পোস্ট করেছেন। ফেসবুক দেখেই এখানে ঘুরতে এসেছি। ভালই লাগছে আমাদের। শহরের শব্দ দূষন থেকে বাঁচতে এবং মনের ক্লান্তি দূর করতে চাইলে এখানে আসতেই হবে। বিশেষ করে সড়কের দুপাশে বিস্তৃত খোলা মাঠ, বর্ষা মৌসুমে থৈ থৈ পানি ও হিমেল হাওয়া মনে প্রশান্তি এনে দেয়।
এ বিষয়ে খানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম রাঞ্জু বলেন, দীর্ঘ সময় শালফার এই সড়ক দুটি অবহেলিত ছিল। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কগুলো কাদায় পরিনত হতো। মানুষের চলাচল করতে অনেক কষ্ট হতো। আমার নির্বাচনী ইসতেহারে সড়কের উন্নয়ন করার অঙ্গিকার ছিল।
তাই নির্বাচিত হয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাবিবর রহমানের সহযোগিতায় সড়কগুলো পাকা করণের কাজ করেছি। সড়কগুলো পাকা হওয়ার পূর্বে আমি কখনই ভাবিনি যে এই সড়কগুলো মানুষের বিনোদনের জন্য এতোটা প্রিয় হবে। শুধু শালফার দুটি সড়ক নয় আগামীতে আমার ইউনিয়নের সকল সড়কই মানুষের বিনোদনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করব।
রাশেদুল হক/বার্তা বাজার/টি